ফোনে প্রস্তাব-কবুল, সাক্ষী, মাহর ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিবাহ সহীহ হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5905
Questioner: Repent Soul
Question Asked: 24 Sep 2026, 02:44 PM
Reviewed & Published: 24 Sep 2026, 03:41 PM
Views: 37
Tokens: 7,540
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পাত্র-পাত্রীর দুই পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের কথা চলছিল। কিন্তু দুই ফ্যামিলির নানান কন্ডিশনে বিয়ে কেবল দেরিই হতে থাকে। পাত্রের পরিবার বলত্ব থাকে এখনও ছেলে পড়ছে সেটেলড না হলে হবে না, পাত্রীর পরিবার বলে দূরত্ব অনেক বেশি তাছাড়া এখনো কোন চাকরি করে না কীভাবে বিয়ে দেবো। সবমিলিয়ে দুই পরিবারই নিমরাজি তবে নানান জটিলতায় কেউই পদক্ষেপ নিচ্ছিলো না। পাত্র পাত্রী পূর্ব পরিচিত ছিল এবং তারাও বিয়েতে সম্মত ছিল। পাত্র খুব শীঘ্রই তার ক্যারিয়ারের জন্য বিদেশ চলে যাবে তাই আগামী দুই তিন বছরের মধ্যে বিয়ে সম্ভব ছিল না। এমতাবস্থায় উভয়ের পরিচিত দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিকটজনের উপস্থিতি রেখে মসজিদে বসে তারা বিয়ের ইন্তেজাম করে। পাত্র পাত্রীকে কল করে প্রস্তাব দেয় এমনভাবে ঠিক যেভাবে বিয়ের সময় প্রস্তাব পেশ করা হয়, সাক্ষীদের কথা উল্লেখ করে, মাহরের পরিমাণ সহ সবকিছু সঠিকভাবে বলে এবং পাত্রী কবুল বলে দেয়। তারপর উপস্থিত দুজন সাক্ষী এবং আরও চার পাঁচজন মিলে দুয়া করে বিয়ের কাজ শেষ করে। বিয়ে অফিশিয়ালি রেজিস্ট্রি হয়নি কিংবা খুতবা পাঠ হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণ সবকিছু আছে। বিয়েটা এভাবে করার কোন ইচ্ছে ছিল না তবে দুই পরিবারের গাফলতি আর নানান শর্তারোপ করে দেরি করবার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের। আল্লাহর ইচ্ছায় শীঘ্রই বিয়ে রেজিস্ট্রি এবং বাকি কাজও সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।

এমতাবস্থায়, বিয়ে শুদ্ধ হয়ে গেছে কিনা জানাবেন মেহেরবানি করে। (পাত্র পাত্রী উভয়ই হানাফি)

জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

Answer

বিবাহ শুদ্ধ হওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জবাব

উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত বিবাহে পাত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রস্তাব পেশ করেছে, পাত্রী মজলিসে কবুল বলেছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রস্তাব পেশ করায় উক্ত বিবাহ শুদ্ধ হয়নি।

ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা- ১ বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।

২ উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-

وَ اسۡتَشۡہِدُوۡا شَہِیۡدَیۡنِ مِنۡ رِّجَالِکُمۡ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ یَکُوۡنَا رَجُلَیۡنِ فَرَجُلٌ وَّ امۡرَاَتٰنِ مِمَّنۡ تَرۡضَوۡنَ مِنَ الشُّہَدَآءِ اَنۡ تَضِلَّ اِحۡدٰىہُمَا فَتُذَکِّرَ اِحۡدٰىہُمَا الۡاُخۡرٰی

আর তোমরা তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখ, অতঃপর যদি দু’জন পুরুষ না হয় তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ কর, যাতে স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুলে গেলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুরা বাকারা ২৮২)

হাদিস শরিফে এসেছে,

لَا يَجُوزُ نِكَاحٌ، وَلَا طَلَاقٌ، وَلَا ارْتِجَاعٌ إِلَّا بِشَاهِدَيْنِ

‘রাসূল (সা.) বলেছেন, দুইজন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, তালাক ও ফিরিয়ে আনা বৈধ হবে না।’ [মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস: ১০২৫৪]

قوله صلى الله عليه وسلم : ( لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل ) رواه البيهقي من حديث عمران وعائشة ، وصححه الألباني في صحيح الجامع (7557)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- “তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর।”[মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলা হয়েছে (১০৭২)] ۔ ৩ ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।

উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

উপরোক্ত তিনটি শর্ত পাওয়া গেলে বিবাহ হবে,অন্যথায় বিবাহ হবেনা। , ★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই বোন,
বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। আর শরয়ী এ শর্তাবলী পরিপূর্ণভাবে টেলিফোনে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ করা জায়েজ নয়। {ফাতওয়ায় উসমানী-২/৩০৪,৩০৫}

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.