পাইরেটেড কপি জিনিস কি পরবর্তীতে বিক্রি করা যাবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
উত্তর:
পাইরেটেড বা নকল পণ্য (যেখানে মূল কোম্পানির লোগো, ডিজাইন বা ট্রেডমার্ক জাল করা হয়েছে) তৈরি করা, কেনা-বেচা এবং ব্যবহার করা হারাম ও নাজায়েজ। কারণ এটি মূল উৎপাদক ও কোম্পানির হকের (অধিকার) উপর জুলুম এবং প্রতারণার শামিল। কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম: ১০২)
প্রশ্নোক্ত পণ্যগুলোর বিধান:
আপনার বাসায় থাকা পাইরেটেড ট্রাউজার, জুতা, ক্যালকুলেটর, আন্ডারপ্যান্ট, জামা ইত্যাদি যদি মূল ব্র্যান্ডের লোগো বা ডিজাইন জাল করে প্রস্তুত করা হয়, তবে সেগুলো ব্যবহার করা জায়েজ নেই। আর সেকেন্ডহ্যান্ড হিসেবে বিক্রি করা আরও বড় গুনাহের কাজ হবে, কারণ:
- নকল পণ্য বিক্রি করলেও প্রতারণা হয়।
- ক্রেতা জানলেও তা জায়েজ হয় না, কারণ পণ্যটি উৎপাদনের সময়ই হারাম পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে।
- হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, হারাম বস্তু বা হারাম উপায়ে অর্জিত বস্তু বিক্রি করা জায়েজ নয়। (রদ্দুল মুহতার: ৪/৩০৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫২)
করণীয়:
- উক্ত পণ্যগুলো নিজে ব্যবহার না করা এবং বিক্রি না করা।
- যদি পণ্যের লোগো/ব্র্যান্ড চিহ্ন মুছে ফেলা সম্ভব হয় (যেমন কাপড়ের লোগো কেটে ফেলা), তবে সেটা করে শুধুমাত্র পণ্যের প্রকৃত মান (মানসম্মত কিনা) অনুযায়ী সাধারণ পোশাক হিসেবে ব্যবহার করা জায়েজ হতে পারে, কিন্তু এই অবস্থায়ও বিক্রি করা উচিত নয় অন্যদের ধোঁকা দেওয়ার আশঙ্কায়।
- সবচেয়ে উত্তম হলো এগুলো দান করে দেওয়া অথবা নষ্ট করে ফেলা, যাতে কেউ প্রতারিত না হয়।
বিশেষ নোট:
- শুধু লোগোর কারণে কপি বলা হলেও এটি জালিয়াতি, তাই বিক্রি জায়েজ নয়।
- ক্রেতাকে জানিয়ে (কপি বলে) বিক্রি করলেও মূল কোম্পানির হক নষ্ট করার দায় থেকে যায়। তাই এ ধরনের ব্যবসা থেকে বিরত থাকা wajib (অত্যাবশ্যক)।
সারসংক্ষেপ: প্রশ্নোক্ত পাইরেটেড পণ্যগুলো কপি বলে সেকেন্ডহ্যান্ড বিক্রি করা জায়েজ নয়। এগুলো ব্যবহার না করে নষ্ট করে ফেলা বা দান করে দেওয়াই উত্তম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের তওফিক দান করুন। (আমিন)