জীবনে হতাশা দূর করার ইসলামিক উপায়।

Business and Job · Hanafi

Question No: 5676
Questioner: Aisha
Question Asked: 19 Sep 2026, 01:32 PM
Reviewed & Published: 19 Sep 2026, 02:02 PM
Views: 18
Tokens: 7,930
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি বরারর ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম। কিন্তু ১১তম ক্লাস থেকে আস্তে আস্তে অমনোযোগি বান্ধবী সাথে চলাফিরা ,নিজের পড়শোনার প্রতি কেন জানি দূরুত্ব হলো। এরপর করনার সমর আমি জানি নাহ কেন এম ম্ন উদ্ভব সিদ্ধান্তগুলি নিলাম, পাবলিক এ পরিক্ষা দিলাম নাহ, কেমন যেন হয়ে গেলাম। প্রাইভেট ভার্সিটির ভর্তির পর হটাত এই ৩/৫ বছরে দেখি একটা ব্যাপার প্রায়ই হয়। প্রথমদিকে এম ন এমন পাপ কাজ করলাম, যেসব আমি নিজে করবো, কল্পনাও করিনি। আলহামদুলিল্লাহ ২ বছরের মাঝে সব বদ সংগ,অভ্যাস, কাজ থেকে সরে আসলাম। আমার ক্যারিয়ার ফোকাস, টাকা ইনকাম করে নিজেকে চালানো, পড়াশোনার টাকা তোহ কম রোজগার ছিল, কোনো প্লানই আমি শেষ কর এ সাফল্য পেলাম নাহ। তারপর চলছিল আগের থেকে ভাল, ফিরে আসা যাকে বলে। কিন্তু তারপর হটাত এমন বাজে সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমার আবার ১ বছর এর বেশিরভাগ নষ্ট হলো, আমি হটাত এমন একজনের সাথে রিলেশন ছিল সে আমার ১.৫ লাখ টাকা মেরে দিল আমি এত বোকা,দুর্বল হয়ে গেলাম যে ওমন বাজে, ফালতু মানুষের সাথে গেলাম। তারপ্র আবার নিজেকে দাড়া করালাম। এখন এম ম্ন হয় আমি একা থাকতে পারি নাহ, একা থাকলেই আমি উড়াধুরা সময় নশট করি, মোবাইলে ফালতু ফালতু সিরিস যা আমি বুঝতে পারছি স্টুপিড তাও দ্বখছি, বাসায় বন্ধি যখন সেমিস্টার ব্রেকে সবাই বাড়ি যায়। আমি টিউশন করাই তাই বাড়ি যেতে পারি নাহ।
আমার বাসায় বাবা মা ঝগড়া করে, আওয়াতত পড়াশুনার জন্য টাকা দেয় নাহ, আমি নান,আন্টি, নিজের টিউশন নিয়ে কোনোর কম চালাই। শুধু খাবার,বাসা ভাড়া আলহামদুলিল্লাহ দিচ্ছে। আব্বু হটাত কেম ম্ন যানি হয়ে গেল, আগের থেকে বেশ অবন তি, আগে যত খারাপি হোক
ছেলে মেয়েদের দিত পড়ায়।
আর বাকিরা দেখিয়ে কাজ করে তাদের তোহ হয় নাহ। আমি তোহ বড় কিছু করা শুরুই করতে পারলাম নাহ, নাকি আমার ভুল হচ্ছে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নটি পড়ে বুঝতে পারছি আপনি জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, পারিবারিক অশান্তি, একাকীত্ব, এবং অতীতের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছেন। আপনার প্রশ্নটি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ফিকহি মাসআলা (যেমন- ব্যবসা-লেনদেন, নামাজ, রোজা) সম্পর্কিত নয়; বরং এটি একটি আত্মিক, মানসিক ও সামাজিক সমস্যা। তাই এখানে আমি ইসলামী শরীয়তের আলোকে কিছু দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেব, যাতে আপনি মানসিক শান্তি ও সঠিক পথ খুঁজে পান।

১. আপনার অতীতের ভুল ও তাওবা

আপনি লিখেছেন যে আপনি ১১তম ক্লাস থেকে অমনোযোগী হয়ে পড়েন, খারাপ সঙ্গ পেয়েছিলেন, পাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন, এবং পরবর্তীতে ১.৫ লাখ টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ইসলামে এটা স্বাভাবিক যে, মানুষ ভুল করে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেন:

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, পূর্ণ তাওবা।" (সূরা আত-তাহরীম: ৮)

আপনি আলহামদুলিল্লাহ ২ বছরের মধ্যে খারাপ সঙ্গ ও অভ্যাস থেকে সরে এসেছেন—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় নেয়ামত। আপনার উচিত অতীতের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুল করে, আর উত্তম ভুলকারী হলো সে, যে তাওবা করে।" (তিরমিজি: ২৪৯৯)

২. একাকীত্ব ও সময় নষ্ট করা

আপনি বলছেন, একা থাকলে সময় নষ্ট করেন, মোবাইলে ফালতু সিরিজ দেখেন। ইসলামে সময়ের সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কসম করে বলেন:

"সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।" (সূরা আল-আসর: ১-২)

আপনার উচিত নিজের সময়কে কাজে লাগানো। আপনি টিউশন করেন, পড়াশোনার খরচ চালান—এটি ভালো কাজ। পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। একাকীত্ব দূর করতে:

  • নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন।
  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করার চেষ্টা করুন (সম্ভব হলে মসজিদে)।
  • ইসলামী বই পড়ুন, বিশেষ করে ইমাম গাজালির "ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন" বা মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর "বাহিশতী জেওর"।
  • সুস্থ বিনোদন হিসেবে ব্যায়াম, হাঁটা, বা সৃজনশীল কাজ (যেমন- লেখালেখি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট) করুন।

৩. পারিবারিক অশান্তি ও অভিভাবকের দায়িত্ব

আপনার বাবা-মায়ের ঝগড়া এবং আপনার পড়াশোনার খরচ না দেওয়া নিয়ে আপনি কষ্টে আছেন। ইসলামে সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর তোমাদের সন্তানদেরকে অভাবের ভয়ে হত্যা করো না; আমিই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে রিযিক দান করি।" (সূরা আল-আনআম: ১৫১)

তবে আপনার বাবা-মায়ের মধ্যে যদি ঝগড়া হয়, তবে আপনি তাদের মধ্যে সালিশি বসতে পারেন, বা কোনো বড় আত্মীয় বা ইমামের সাহায্য নিতে পারেন। আপনার পড়াশোনার খরচ না দেওয়া তাদের দায়িত্বে অবহেলা, কিন্তু আপনি হতাশ না হয়ে নিজের টিউশন ও অন্যান্য হালাল উপায়ে নিজের খরচ চালিয়ে যান। আল্লাহ বলেন:

"আল্লাহ কারো ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

৪. অন্যের সাথে তুলনা করা

আপনি বলছেন, "বাকিরা দেখিয়ে কাজ করে তাদের তো হয় না।" অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমরা তোমাদের চেয়ে নিচু লোকের দিকে তাকাও, তোমাদের চেয়ে উঁচু লোকের দিকে তাকাও না; এতে তোমরা আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে করবে না।" (মুসলিম: ২৯৬৩)

আপনার নিজের অবস্থার উন্নতি করুন, অন্যের সাফল্য দেখে হতাশ হবেন না। আপনার ভুল হচ্ছে না—বরং আপনি সঠিক পথে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। শয়তান আপনাকে হতাশ করতে চায়। আল্লাহ বলেন:

"নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদেরকে ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়।" (সূরা আল-বাকারা: ২৬৮)

৫. করণীয় (ব্যবহারিক পরামর্শ)

  1. তাওবা ও ইস্তিগফার: প্রতিদিন ১০০ বার "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়ুন।
  2. নামাজ: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ুন, সম্ভব হলে জামাতে।
  3. সময় ব্যবস্থাপনা: একটি রুটিন তৈরি করুন—পড়াশোনা, টিউশন, ইবাদত, বিশ্রাম।
  4. মোবাইল ব্যবহার: ফালতু সিরিজ দেখা বন্ধ করুন; প্রোডাক্টিভ অ্যাপ বা ইসলামিক লেকচার শুনুন।
  5. সঙ্গ: খারাপ সঙ্গ সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করুন; ভালো মানুষের সাথে উঠাবসা করুন।
  6. পারিবারিক: বাবা-মায়ের সাথে সদাচরণ করুন, তাদের জন্য দুআ করুন। তাদের ঝগড়ার বিষয়ে ধৈর্য ধরুন।
  7. আর্থিক: টাকা প্রতারণার ঘটনায় যদি প্রমাণ থাকে, তবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন; নাহলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে ধৈর্য ধরুন।
  8. মনোবিদ: যদি অতিরিক্ত হতাশা ও একাকীত্ব কাজ করে, তবে একজন ইসলামী মনোবিদ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।

৬. উপসংহার

আপনি ভুল করছেন না; বরং আপনি একজন সংগ্রামী মানুষ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর যারা আমার পথে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথ দেখাব।" (সূরা আল-আনকাবুত: ৬৯)

আপনার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিন, ভবিষ্যতে সঠিক পরিকল্পনা করুন। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। তিনি বলেন:

"যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা আত-তালাক: ৩)

আল্লাহ আপনার সব সমস্যা দূর করুন এবং আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.