বীমা থেকে প্রাপ্ত টাকার হুকুম

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4842
Questioner: Jannatun Naim
Question Asked: 02 Sep 2026, 10:44 PM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 10:53 PM
Views: 42
Tokens: 3,955
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামী তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বাধ্যতামূলক চিকিৎসা বীমা করতে বাধ্য হয়৷ পরীক্ষার ফি এর সাথে নিয়ে নিতো। এই ইন্সুইরেন্স টা শুরু করে সোনালী ব্যাংক থেকে ২/৩ বছর আগে। আমার স্বামী গত বছর ডেংগু আক্রান্ত হয়৷ হস্পিটালাইযড হয়। ৫০ হাজার + খরচ হয়৷ তো সে বীমা থেকে ৪৫ হাজার টাকা পেয়েছে কয়েকদিন আগে। বীমায় যে পরিমাণ টাকা এ পর্যন্ত জমা দিয়েছে তা ৩ হাজারের বেশি হবে না।কিন্তু চিকিৎসা বাবদ বীমা থেকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়েছে।এটা সুদ হবে কি না? হলে সেই টাকা টা আমরা নিকট আত্মিয়দের দিয়ে দিতে পারব কি না।
উল্লেখ্য যে বীমা কোম্পানি কাজ শুরু করে জুলাই আনদোলনের কিছু আগে। তারপর তারা কাজ অফ রাখে। কয়েকমাস আগে আবার তাদের কাজ শুরু করে। তাই তারা সুদি ব্যাংকের হলেও এরমধ্যে সুদের কোনো কাজে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছে কি না সেটা নিশ্চিত নয়।

Answer

চিকিৎসা বীমা (ইনস্যুরেন্স) থেকে প্রাপ্ত অর্থের বিধান

উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

প্রথমত: ইসলামী শরীয়তে প্রচলিত বাণিজ্যিক বীমা (Insurance) জায়েয নয়। কারণ এতে ঘরার (অনিশ্চয়তা), সুদ ও জুয়ার উপাদান বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।" (বুখারী ও মুসলিম)

তবে আপনার স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাধ্যবাধকতার কারণে বীমা করতে বাধ্য হয়েছেন, যা পরীক্ষার ফিসহ আদায় করা হতো। এমতাবস্থায় জবরদস্তির কারণে গুনাহের ক্ষেত্রে কিছুটা অবকাশ থাকতে পারে, তবে বীমা চুক্তি নিজে শরীয়তসম্মত নয়।

দ্বিতীয়ত: বীমা কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত ৪৫,০০০ টাকা সম্পর্কে:

যেহেতু বীমা চুক্তিটি মূলত সুদ ও ঘরার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, তাই বীমা কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণ হালাল বলে গণ্য হবে না। তবে যেহেতু আপনারা বীমা কোম্পানিতে মাত্র ৩,০০০ টাকার বেশি জমা দিয়েছেন এবং বিনিময়ে ৪৫,০০০ টাকা পেয়েছেন, তাই এই অতিরিক্ত অর্থ শরীয়তের দৃষ্টিতে সন্দেহজনক।

তৃতীয়ত: এই অর্থ কীভাবে খরচ করবেন?

আপনি যে পরামর্শ দিয়েছেন—নিকট আত্মীয়দেরকে দান করা—তা সঠিক পন্থা। তবে এখানে কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

১. এই অর্থ নিজে ব্যবহার করা যাবে না। ২. গরীব ও অভাবী ব্যক্তিদেরকে দান করতে হবে, তবে এমন ব্যক্তিদেরকে নয় যারা শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনাদের ভরণপোষণের অধীনে (যেমন: পিতা-মাতা, সন্তান, স্ত্রী)। ৩. নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী, তাদেরকে দিতে পারবেন। তবে যারা আপনাদের ভরণপোষণের দায়িত্বে আছেন (যেমন: আপনাদের সন্তান বা আপনাদের পিতা-মাতা), তাদেরকে এই টাকা দিলে তা মূলত আপনাদেরই উপকারে আসবে, যা সঠিক হবে না।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: "সুদখোরের কাছ থেকে সুদের টাকা গ্রহণ করা এবং তা গরীবদেরকে দান করা জায়েয, তবে তা দ্বারা নিজে উপকৃত হওয়া বা সাওয়াবের নিয়ত করা জায়েয নয়।" (রদ্দুল মুহতার)

চতুর্থত: বীমা কোম্পানি সুদি ব্যাংক (সোনালী ব্যাংক) হলেও, তারা সুদের কাজে জড়িয়েছে কি না তা নিশ্চিত নন। তবে মূল বিষয় হলো, বীমা চুক্তি নিজেই শরীয়তসম্মত নয়, তাই কোম্পানি সুদি লেনদেনে জড়িত থাকুক বা না থাকুক, বীমা থেকে প্রাপ্ত অর্থ সন্দেহমুক্ত নয়।

সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত

১. বীমা থেকে প্রাপ্ত ৪৫,০০০ টাকা সম্পূর্ণ হালাল নয়। ২. এই টাকা নিজে ব্যবহার করা যাবে না। ৩. এই টাকা গরীব-অভাবী ও নিকট আত্মীয়দের (যারা আপনাদের ভরণপোষণের অধীনে নন) দান করে দিন। ৪. ভবিষ্যতে এই ধরনের বীমা করা থেকে বিরত থাকুন। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাধ্যবাধকতা থাকে, তবে সেটি ভিন্ন কথা; কিন্তু স্বেচ্ছায় বাণিজ্যিক বীমা করা জায়েয নয়।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.