নামাজের মধ্যে বাচ্চার প্রস্রাব লাগলে নামাজ হবে কি?
Taharah Purity · Hanafi
Question No:
5484
Questioner:
Hasna Hena
Question Asked:
14 Sep 2026, 09:15 PM
Reviewed & Published:
14 Sep 2026, 09:42 PM
Views:
29
Tokens:
2,363
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ
সালাতরত অবস্থায় বাচ্চার প্রসাবের ছিটা কাপড়ে এসে লাগলে সেই মুহুর্তে সালাতের হুকুম কী?
সালাতরত অবস্থায় বাচ্চার প্রসাবের ছিটা কাপড়ে এসে লাগলে সেই মুহুর্তে সালাতের হুকুম কী?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন: সালাতরত অবস্থায় বাচ্চার প্রসাবের ছিটা কাপড়ে এসে লাগলে সেই মুহূর্তে সালাতের হুকুম কী?
উত্তর:
সালাতরত অবস্থায় কাপড়ে বাচ্চার প্রস্রাবের ছিটা এসে লাগলে সালাতের হুকুম মূলত প্রস্রাবের ছিটার পরিমাণ এবং তা কতটুকু ছড়িয়েছে তার ওপর নির্ভর করে । হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে এর বিস্তারিত সমাধান নিচে পেশ করা হলো:
১. বাচ্চার প্রস্রাবের শরয়ী ধরণ ও পরিমাপ:
- গুরু নাপাক (নাজাসাতে গলীযা): ছোট বাচ্চার (চাই সে কেবল দুধপোষ্য শিশু হোক কিংবা খানা খাওয়া শিশু হোক) প্রস্রাব শরীয়তের দৃষ্টিতে গুরু নাপাক বা নাজাসাতে গলীযার অন্তর্ভুক্ত।
- এক দিরহামের পরিমাপ: গুরু নাপাকী কাপড়ে লাগলে তার পরিমাণ যদি এক দিরহাম (তরল নাপাকীর ক্ষেত্রে হাতের তালুর চ্যাপ্টা গভীর অংশের সমপরিমাণ জায়গা বা প্রায় এক টাকার ধাতব মুদ্রার মতো) বা তার চেয়ে কম হয়, তবে তা নামাযের জন্য ক্ষমাযোগ্য।
- সূক্ষ্ম ছিটা: প্রস্রাবের ছিটা যদি অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয় (যেমন সূচের অগ্রভাগের মতো ছোট ছোট ছিটা), তবে তা শরীয়তে পুরোপুরি মাফ।
২. সালাতরত অবস্থায় প্রস্রাবের ছিটা লাগলে সালাতের হুকুম:
**ক. ছিটার পরিমাণ যদি এক দিরহাম বা তার চেয়ে কম হয় (কিংবা সূক্ষ্ম ছিটা হয়): **
- সালাতরত অবস্থায় কাপড়ে প্রস্রাবের যে ছিটা লেগেছে, তার মোট পরিমাণ যদি এক দিরহাম বা তার চেয়ে কম জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে (অথবা সূক্ষ্ম ছিটা হয়), তবে সালাত ফাসিদ বা বাতিল হবে না; ওই অবস্থাতেই সালাত পূর্ণ করলে সালাত আদায় হয়ে যাবে।
খ. ছিটার পরিমাণ যদি এক দিরহামের চেয়ে বেশি হয়:
- যদি প্রস্রাবের ছিটা এক দিরহামের পরিমাণের চেয়ে বেশি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বা ভিজিয়ে দেয়, তবে তা সালাত শুদ্ধ হওয়ার অন্তরায়।
- তাৎক্ষণিক চাদর/রুমাল খুলে ফেলা সম্ভব হলে: নাপাক হওয়া অংশটি যদি অতিরিক্ত কোনো চাদর, জ্যাকেট বা ওড়না হয়—যা সাথে সাথে সালাত ভঙ্গ না করে এবং সতর অনাবৃত না করে এক ঝটকায় খুলে ফেলে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে তা খুলে ফেলে দিয়ে সালাত শেষ করা যাবে।
- তাৎক্ষণিক খোলা সম্ভব না হলে: আর যদি পরিহিত মূল পোশাকে (যেমন জামা, পায়জামা, শাড়ি বা লুঙ্গিতে) এক দিরহামের চেয়ে বেশি প্রস্রাব লাগে এবং তা সাথে সাথে খুলে ফেলা সম্ভব না হয়, তবে ওই মুহূর্তেই সালাত ভেঙে ফেলা আবশ্যক। এক্ষেত্রে সালাত ছেড়ে দিয়ে কাপড়টি ধুয়ে পবিত্র করতে হবে অথবা বদলে নিয়ে নতুন করে সালাত আদায় করতে হবে।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৩১ (সপ্তম পরিচ্ছেদ: নাজাসাত ও তার আহকাম — নাজাসাতে গলীযা ও দুধপোষ্য শিশুর প্রস্রাবের বিধান)।
- পৃষ্ঠা: ১৩২ (প্রস্রাবের সূক্ষ্ম ছিটা ক্ষমাযোগ্য হওয়ার বিবরণ)।
- পৃষ্ঠা: ১৬৩–১৬৪ (সতর ও শরীরের পবিত্রতা পরিচ্ছেদ — সালাতরত অবস্থায় কাপড়ে এক দিরহামের অধিক নাপাকী লাগলে সালাতের হুকুম)।
- পৃষ্ঠা: ২৩৯ (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সালাতের মধ্যে নাপাকী লাহেক হওয়া ও তা দূর করার বিবরণ)।
والله أعلم بالصواب