হায়েজ কখন শুরু হয়েছে কিভাবে বুঝব?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5452
Questioner: Lutfun Naher
Question Asked: 14 Sep 2026, 07:40 AM
Reviewed & Published: 14 Sep 2026, 08:19 AM
Views: 17
Tokens: 4,394
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার ইস্তেহাযার সমস্যা আছে তাই আমি ১০ দিন ১০ রাত হিসেব করে তারপর নামাজ পড়া শুরু করি।এখন এবার হায়েজ শুরু হওয়ার সময় ৪ তারিখ যোহরের ওয়াক্তে সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখি,এরপর আসর এবং মাগরিবের সময় সম্পুর্ন সাদাস্রাব দেখি।আবার এশা এবং ফজরের সময় অল্প ছাই রঙের স্রাব দেখি।এবং ৫ তারিখ যোহর থেকে পুরোপুরি ব্লিডিং শুরু হয়।

এখন আমি কখন থেকে হায়েজ শুরু হয়েছে ধরে নিব?৪ তারিখ যোহর থেকে নাকি ৪ তারিখ এশা থেকে নাকি ৫ তারিখ যোহর থেকে??

Answer

হায়েজ কখন শুরু হয়েছে তা নির্ধারণের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার ইস্তেহাযার সমস্যা রয়েছে। আপনি ১০ দিন ১০ রাত হিসাব করে নামাজ শুরু করেন। এবার ৪ তারিখ যোহরের ওয়াক্তে সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখা যায়, আসর ও মাগরিবে সম্পূর্ণ সাদা স্রাব, এশা ও ফজরে আবার অল্প ছাই রঙের স্রাব। এরপর ৫ তারিখ যোহর থেকে পুরোপুরি ব্লিডিং শুরু হয়। এখন হায়েজ কখন থেকে গণনা করবেন?

ফিকহি বিশ্লেষণ

১. হায়েজের সর্বনিম্ন সময়কাল

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, হায়েজের সর্বনিম্ন সময়কাল ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা)। এর কম হলে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তেহাযা।

দলিল:

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «أَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ» — "হায়েজের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন।"
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফতোয়া অনুযায়ী, ৩ দিনের কম রক্তস্রাব হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না। (আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত)

২. ছাই রঙের স্রাব (কুদরাহ) ও সাদা স্রাব (তুহরাহ)

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী:

  • ছাই/ধূসর রঙের স্রাব (كُدْرَة) — যদি হায়েজের দিনগুলোর মধ্যে হয়, তবে তা হায়েজের অন্তর্ভুক্ত।
  • সাদা স্রাব (طُهْرَة) — এটি হায়েজ নয়, বরং পবিত্রতার আলামত।

দলিল: উম্মে আতিয়া (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«كُنَّا لَا نَعُدُّ الْكُدْرَةَ وَالصُّفْرَةَ شَيْئًا» — "আমরা ছাই ও হলুদ রঙের স্রাবকে কিছু (হায়েজ) হিসেবে গণ্য করতাম না।" (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৩২৬)

তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, যদি কুদরাহ হায়েজের সময়ের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং ৩ দিন পূর্ণ হয়, তবে তা হায়েজের অন্তর্ভুক্ত হবে। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৭)

৩. আপনার সমস্যার সমাধান

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

| তারিখ | সময় | স্রাবের অবস্থা | |-------|------|----------------| | ৪ তারিখ | যোহর | সামান্য ছাই রঙ | | ৪ তারিখ | আসর | সম্পূর্ণ সাদা | | ৪ তারিখ | মাগরিব | সম্পূর্ণ সাদা | | ৪ তারিখ | এশা | অল্প ছাই রঙ | | ৪ তারিখ | ফজর | অল্প ছাই রঙ | | ৫ তারিখ | যোহর থেকে | পুরোপুরি ব্লিডিং |

বিশ্লেষণ:

১. ৪ তারিখ যোহরের স্রাব: এটি ছিল সামান্য ছাই রঙের, কিন্তু এরপর আসর ও মাগরিবে সম্পূর্ণ সাদা স্রাব এসেছে। অর্থাৎ মাঝখানে পবিত্রতার বিরতি (তুহরাহ) এসেছে।

২. হানাফি নীতি: হায়েজের দিনগুলোর মধ্যে যদি পবিত্রতার বিরতি আসে, তবে সেই বিরতির দিনগুলোও হায়েজের মধ্যে গণ্য হবে — যদি মোট রক্তস্রাব ৩ দিন বা তার বেশি হয় এবং বিরতি ১৫ দিনের কম হয়। (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৫; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৯৮)

★সুতরাং আপনি ৪ তারিখ যোহরের ওয়াক্ত থেকে হায়েজ ধরবেন।

★উল্লেখ্য, প্রশ্নে আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনার ইস্তেহাযার সমস্যা আছে তাই আপনি ১০ দিন ১০ রাত হিসাব করে তারপর নামাজ পড়া শুরু করেন।

এভাবে ঢালাও ভাবে ১০ দিন ১০ রাত হিসাব করে তারপর নামাজ পড়া শুরু করা ঠিক নয়।

আপনার হায়েজ কয়দিন চললো,সেটি আপনাকে সঠিক ভাবে নির্ণয় করতে হবে।

আপনার হায়েজ যদি ১০ দিনে এসে বন্ধ হয়, তাহলে আপনি দশ দিন পর্যন্ত হায়েজ ধরতে পারবেন।

আপনার হায়েজ যদি তার আগেই বন্ধ হয়ে যায় তাহলে যেদিন বন্ধ হল সেদিন পর্যন্ত আপনি হায়েজ ধরতে পারবেন।

আপনার হায়েজ যদি ১০ দিন অতিক্রম করে ১১-১২ তম দিনগুলোতেও চলে, তাহলে আপনি পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী এ মাসেও হায়েজ ধরবেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.