বিবাহ কি শুধু পাত্র-পাত্রীর রাজি হলেই হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5295
Questioner: Amatullah Noor
Question Asked: 11 Sep 2026, 02:16 PM
Reviewed & Published: 11 Sep 2026, 02:33 PM
Views: 27
Tokens: 4,057
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত উস্তাদ।
আমার বোনকে পাত্রের ভাবি দেখবে,সে অসুস্থ থাকায় তাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ছেলের ভাবির দেখে পছন্দ হয়। এবং ছেলে দেখে তার ও পছন্দ হয়।এবং ছেলের ভাবি বলে আমরা রাজি আপনারা রাজি তখন আমার আম্মু রাজি হয়, ছেলেকে বলা হলে সে বলে রাজি আবার আমার বোনকে জিজ্ঞেস করা হলে সেও বলে রাজি।
উপস্থিত ছিল পাত্র পাত্রী,পাত্রীর আম্মু,দুলাভাই আর পাত্রের ভাই ভাবি।

Answer

বিবাহ হয়েছে কি? — ইসলামী দৃষ্টিতে বিবাহের শর্ত ও এই ঘটনার বিধান

উত্তর (সংক্ষেপে): না, শুধু পাত্র-পাত্রী ও উভয় পক্ষের সম্মতি প্রকাশ করলেই বিবাহ হয় না। ইসলামী শরীয়তে বিবাহ (নিকাহ) সম্পন্ন হওয়ার জন্য ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) এবং দুইজন মুসলিম সাক্ষী বা সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তা সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। আপনার বর্ণনায় যেহেতু কোনো ইজাব-কবুল (যেমন: "আমি অমুককে অমুকের সাথে বিবাহ দিলাম" — "আমি কবুল করলাম") হয়নি, এবং সাক্ষী হিসেবে কে ছিল তা স্পষ্ট নয়, তাই এখন পর্যন্ত বিবাহ সম্পন্ন হয়নি। এটি কেবল সম্মতি ও সমঝোতার প্রাথমিক পর্যায়।


বিস্তারিত আলোচনা

১. বিবাহের মূল রুকন (স্তম্ভ)

হানাফী মাযহাবে নিকাহর জন্য দুটি মূল রুকন:

  1. ইজাব (প্রস্তাব) — পাত্রীপক্ষের পক্ষ থেকে বা ওয়ালীর পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব।
  2. কবুল (গ্রহণ) — পাত্র বা পাত্রীর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ।

এবং একটি শর্ত:

  1. দুইজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকসম্পন্ন সাক্ষীর উপস্থিতি (পুরুষ হোক বা এক পুরুষ ও দুই নারী)।

দলিল:

«لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ» "ওয়ালী ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো নিকাহ নেই।" — (সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং ১৩৭২৫; মুসনাদে আহমাদ)

«أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ» "যে নারী তার ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করল, তার বিবাহ বাতিল।" — (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৩)

২. ওয়ালীর (অভিভাবকের) ভূমিকা

হানাফী মাযহাবে বালেগা (প্রাপ্তবয়স্ক) নারীর নিজের সম্মতিই মূল; তবে ওয়ালীর উপস্থিতি ও অনুমতি সুন্নত ও উত্তম, এবং ফাসাদ রোধে অত্যন্ত জরুরি। আপনার বর্ণনায় পাত্রীর আম্মু উপস্থিত ছিলেন এবং রাজি হয়েছেন — এটি ওয়ালীর সম্মতির অন্তর্ভুক্ত (মায়ের ক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবে ওয়ালীর অধিকার আছে)। কিন্তু শুধু "রাজি" বলা ইজাব-কবুল নয়

৩. এই ঘটনায় যা হয়েছে

  • পাত্রের ভাবি পাত্রীকে দেখেছেন → পছন্দ হয়েছে।
  • পাত্র পাত্রীকে দেখেছেন → পছন্দ হয়েছে।
  • ছেলের ভাবি বলেছেন "আমরা রাজি, আপনারা রাজি" → মৌখিক সম্মতি।
  • আম্মু রাজি হয়েছেন।
  • ছেলেকে জিজ্ঞেস করা হলে সে "রাজি" বলেছে।
  • বোনকে জিজ্ঞেস করা হলে সেও "রাজি" বলেছে।

এগুলো সবই সম্মতি প্রকাশ — কিন্তু ইজাব-কবুল ও সাক্ষীর শর্ত পূরণ হয়নি। তাই এখনো বিবাহ হয়নি

৪. বিবাহ সম্পন্ন করার সঠিক পদ্ধতি

নিম্নলিখিতভাবে নিকাহ সম্পন্ন করুন:

  1. ওয়ালী (পাত্রীর পিতা, না থাকলে দাদা, না থাকলে ভাই, না থাকলে চাচা — এই ক্রমে) অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি বলবেন:

    "আমি আমার কন্যা/বোন [নাম]-কে [পাত্রের নাম]-এর সাথে [মোহর] মোহরে বিবাহ দিলাম।"

  2. পাত্র বা তার প্রতিনিধি বলবেন:

    "আমি কবুল করলাম।"

  3. দুইজন মুসলিম সাক্ষী উপস্থিত থাকবেন এবং শুনবেন।
  4. মোহর নির্ধারণ করা হবে (কমপক্ষে ১০ দিরহাম রূপার সমপরিমাণ — বর্তমানে প্রায় ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপার মূল্য)।
  5. মজলিস (একই বৈঠক) — ইজাব ও কবুল একই বৈঠকে হতে হবে।

৫. সতর্কতা

  • শুধু "রাজি" বলায় বিবাহ হয় না — এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা।
  • কাবিননামা রেজিস্ট্রেশন শরীয়তের শর্ত নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
  • ছেলের ভাবি বা দুলাভাই — এরা ওয়ালী নন, তাই তাদের "রাজি" বলায় শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়ালীর অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না পাত্রীর আম্মু/ওয়ালী নিজে ইজাব করেন।
  • পাত্র-পাত্রীর দেখা শরীয়তে অনুমোদিত (বিবাহের উদ্দেশ্যে), তবে নির্জনে (খালওয়াত) নয়।

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | অবস্থা | |---|---| | পাত্র-পাত্রীর সম্মতি | ✅ আছে | | ওয়ালীর সম্মতি | ✅ আছে (আম্মু) | | ইজাব-কবুল | ❌ হয়নি | | দুইজন সাক্ষী | ❓ স্পষ্ট নয় | | মোহর নির্ধারণ | ❌ হয়নি | | বিবাহ সম্পন্ন? | ❌ না |

পরামর্শ: দ্রুত একজন বিজ্ঞ আলেম/মুফতির তত্ত্বাবধানে সঠিক পদ্ধতিতে নিকাহ সম্পন্ন করুন — ইজাব, কবুল, দুইজন সাক্ষী ও মোহর নির্ধারণসহ। এর আগে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বা নির্জন সাক্ষাৎ বৈধ হবে না।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), কিতাবুন নিকাহ — ৩/৯–১০
  • আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ
  • ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুন নিকাহ — ১/২৮৩
  • ফাতাওয়া উসমানী, কিতাবুন নিকাহ
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, কিতাবুন নিকাহ
  • বেহেশতী জেওর, বিবাহ অধ্যায়
  • মা'আরিফুল কুরআন, সূরা আন-নিসা ৪:২১-এর তাফসীর

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.