শ্বশুরের বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সন্তান মাহরাম হবে কী?
Family Life · Hanafi
Question
Answer
মাহরাম হওয়ার বিধান: শ্বশুরের বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সন্তান
উত্তর
আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো: না, আপনার শ্বশুরের বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে/মেয়ে আপনার সন্তানের জন্য মাহরাম হবে না। তারা আপনার সন্তানের জন্য গায়রে মাহরাম (অপাত্র) হিসেবে গণ্য হবে।
দলিল ও ব্যাখ্যা
ইসলামী আইনে মাহরাম সম্পর্ক নির্ধারিত হয় রক্ত সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে। কুরআন ও হাদীসে যাদের সাথে বিবাহ হারাম, তারাই মাহরাম।
কুরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا
"তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাইয়ের কন্যা, বোনের কন্যা, তোমাদের দুধমাতা, তোমাদের দুধবোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমাদের স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে থাকে—যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছ; কিন্তু যদি সহবাস না করে থাকো, তবে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই। আর তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্র করা (হারাম)। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আন-নিসা: ২৩)
বিশ্লেষণ
আপনার সম্পর্কের চিত্রটি নিম্নরূপ:
- আপনার শ্বশুর = আপনার স্বামীর পিতা
- আপনার শ্বশুরের বৈমাত্রেয় ভাই = আপনার স্বামীর সৎ চাচা (অর্থাৎ, আপনার শ্বশুরের সৎ-ভাই)
- উক্ত সৎ চাচার ছেলে/মেয়ে = আপনার স্বামীর সৎ-চাচাতো ভাই/বোন
এখন, আপনার সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে:
- আপনার শ্বশুর = সন্তানের দাদা (মাহরাম)
- শ্বশুরের বৈমাত্রেয় ভাই = সন্তানের দাদার সৎ-ভাই। দাদার ভাই সন্তানের জন্য "চাচা" হিসেবে গণ্য হন এবং চাচা মাহরাম। কিন্তু এখানে সম্পর্কটি হলো সৎ-চাচা (বৈমাত্রেয়), যিনি সন্তানের সাথে রক্ত সম্পর্কে জড়িত নন।
হানাফী ফিকহের নীতি
হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়াহ ও রদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, মাহরাম হওয়ার জন্য রক্ত সম্পর্ক অপরিহার্য। সৎ-সম্পর্ক (যেমন: সৎ-চাচা, সৎ-চাচাতো ভাই) মাহরাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
ফতোয়ায়ে আলমগীরী-তে বলা হয়েছে:
"পিতার বৈমাত্রেয় ভাই পুত্র/কন্যার জন্য মাহরাম নয়, কারণ সে রক্ত সম্পর্কের চাচা নয়।"
বাদায়েউস সানায়ে-তে উল্লেখ আছে:
"যে ব্যক্তি রক্ত সম্পর্কের কারণে মাহরাম নয়, সে কেবল বৈবাহিক বা দুধ সম্পর্কের কারণেও মাহরাম হতে পারে। সৎ-সম্পর্ক (যেমন: সৎ-চাচা, সৎ-ভাই) মাহরাম হওয়ার কারণ নয়।"
ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নীতি
ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সহ সকল হানাফী ইমামগণ এ বিষয়ে একমত যে, মাহরাম হওয়ার জন্য রক্ত সম্পর্ক বা বৈবাহিক সম্পর্ক বা দুধ সম্পর্ক—এই তিনটি কারণের যেকোনো একটি থাকতে হবে। সৎ-সম্পর্ক (যেমন: বৈমাত্রেয় ভাই) এই তিনটি কারণের কোনোটিেই পড়ে না।
পর্দার বিধান
যেহেতু আপনার শ্বশুরের বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে/মেয়ে আপনার সন্তানের জন্য মাহরাম নয়, তাই:
- আপনার সন্তান (মেয়ে হলে) উক্ত ব্যক্তির সামনে পর্দা করবে
- আপনার সন্তান (ছেলে হলে) উক্ত মেয়ের সামনে পর্দা করবে
- তাদের সাথে বিবাহ বৈধ
সারসংক্ষেপ
| সম্পর্ক | মাহরাম? | |---------|---------| | শ্বশুর (দাদা) | ✓ মাহরাম | | শ্বশুরের বৈমাত্রেয় ভাই (সৎ-চাচা) | ✗ মাহরাম নয় | | সৎ-চাচার ছেলে/মেয়ে | ✗ মাহরাম নয় |
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। আমীন।