মহিলাদের চুল কাটা ও চুল কালার করার ইসলামিক বিধান কি?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
চুল কাটা ও কালার করার ইসলামিক বিধান
ভূমিকা
প্রশ্নকারী বোনের প্রশ্নটি তিনটি অংশে বিভক্ত: ১. চুল কাটা যাবে কি সামনে-পিছনে? ২. চুলে কালার (রং) করা যাবে কি? ৩. কালার করলে নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদত কি কবুল হবে?
আমি হানাফি মাযহাবের আলোকে কুরআন, হাদিস এবং প্রামাণ্য কিতাবসমূহের ভিত্তিতে উত্তর প্রদান করছি।
১. চুল কাটার বিধান
নারীদের জন্য চুল কাটা
মহিলাদের চুল লম্বা হতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর যুগে নারীদের চুল লম্বা ছিলো।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانٍ قَالَ حَدَّثَتْنَا حَفْصَةُ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ تُوُفِّيَتْ إِحْدَى بَنَاتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَانَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اغْسِلْنَهَا بِالسِّدْرِ وِتْرًا ثَلاَثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ إِنْ رَأَيْتُنَّ ذَلِكَ وَاجْعَلْنَ فِي الآخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي فَلَمَّا فَرَغْنَا آذَنَّاهُ فَأَلْقَى إِلَيْنَا حِقْوَهُ فَضَفَرْنَا شَعَرَهَا ثَلاَثَةَ قُرُونٍ وَأَلْقَيْنَاهَا خَلْفَهَا
উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যাগণের একজনের ইন্তিকাল হলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে বিজোড় সংখ্যক তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজনবোধ করলে আরও অধিকবার গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর অথবা তিনি বলেছিলেন কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলগুলো তিনটি বেনী করে পিছনের দিকে ছেড়ে দিলাম। (বুখারী ১২৬৩.১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৮৯)
★শরীয়তের বিধান হলোঃ নারীদের জন্য বৈধ ওজর ছাড়া চুল কাটা এবং পুরুষদের অনুকরণ করা জায়েজ নয়। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ধরণের মহিলাদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন। মিশকাত শরীফে বর্ণিত আছে: "হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: আল্লাহর অভিশাপ সেই পুরুষদের উপর যারা নারীদের অনুকরণ করে এবং সেই নারীদের উপর যারা পুরুষদের অনুকরণ করে।"
তবে, যদি কোন শরয়ী ওযর থাকে, উদাহরণস্বরূপ: চিকিৎসার জন্য চুল কাটার প্রয়োজন হয় অথবা যদি চুল এত লম্বা হয়ে যায় যে নিতম্বের নীচে পৌঁছায় এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে হয়, তাহলে কেবলমাত্র অতিরিক্ত চুল কাটা জায়েজ হবে। এর ফলে নারীদের জন্য পুরুষদের অনুকরণ বা ফ্যাশনের জন্য চুল কাটা জায়েজ নয়, এমনকি এই বিষয়ে তাদের স্বামীদের আনুগত্য করাও জায়েজ নয়। (আল বাহরুর রায়েক ৮/২৩৩, ফাতওয়ায়ে রহিমিয়াহ ১০/১২০ দারুল ইশাআত)
দারুল উলুম দেওবন্দ এর ফতোয়াঃ- মহিলাদের চুল কাটার ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
মাথায় ক্ষত থাকলে, ক্ষত এবং তার চারপাশের চুল প্রয়োজন অনুযায়ী কাটা যেতে পারে। একইভাবে, যদি মাথার চুল খুব লম্বা হয়ে যায় এবং মহিলা বৃদ্ধ এবং দুর্বল হয়ে পড়েন, যার ফলে ওযু করার সময় চুল মুড়িয়ে রাখা এবং সামলানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে তিনি নিতম্বের কাছে কিছু চুল কেটে ফেলতে পারেন। এছাড়াও, যদি চুলের প্রান্ত দ্বিখণ্ডিত হয়, যার ফলে চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং দেখতে অসুন্দর লাগে, তাহলে চুলের প্রান্ত কেটে ফেলা যেতে পারে। এগুলো ছাড়া, অন্যান্য সাধারণ পরিস্থিতিতে, নারীর জন্য চুল কামানো বা ছোট করা জায়েয নেই। , সুতরাং জটিল অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে চুল ছোট করা, এমনকি জরুরতবশতঃ কামানোরও (সম্পূর্ণ টাক হওয়ার) অনুমতি রয়েছে। , তবে সর্বাবস্থায় ফ্যাশনের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে মহিলারা তাদের চুল কাটতে পারবে
এবং নয় বৎসর বয়স থেকে চুল রাখা জরুরী,কেননা নয় বছর বয়স থেকেই মহিলার মধ্যে পুরুষ আকৃষ্টকারী অবয়ব সৃষ্টি হয়ে যায়,এবং তখন থেকেই পর্দা জরুরী হয়ে যায়।
২. চুলে কালার (রং) করার বিধান
নারীদের জন্য চুলে কালার করা
চুলে খেজাব বা অন্য কোনো হালাল রং করা জায়েয, তবে শর্ত হলো:
★বিধর্মীদের ও ফাসেকদের স্টাইলের অনুসরণ করা যাবেনা
কালো রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ — যদি তা সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে হয় এবং স্বামী ছাড়া অন্য কাউকে আকর্ষণ করার আশঙ্কা থাকে। তবে স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য কালো রং ব্যবহার করলে কিছু আলেম জায়েয বলেছেন, কিন্তু অধিকাংশ হানাফি আলেমগণ তা মাকরূহ বলেছেন।
কালো ছাড়া অন্যান্য রং (যেমন: মেহেদি, বাদামি, লালচে, কমলা ইত্যাদি) নারীদের জন্য জায়েয — বিশেষত স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য।
হাদিসে বর্ণিত:
উম্মে সালামা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে মহিলার চুলে (সাদা চুল ঢাকার জন্য) ওসমানীয় (কালো) রং ব্যবহার করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধি পাবে না।" (আবু দাউদ, নাসাঈ)
তবে এই হাদিসটি মূলত বৃদ্ধ বয়সে সাদা চুল ঢাকতে কালো রং ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে। তরুণীদের ক্ষেত্রেও কালো রং ব্যবহার মাকরূহ।