মনে মনে ওয়াসওয়াসার কারনে কি ইমান নষ্ট হয়?
Faith and Belief · Hanafi
Question
মনে মনে ওয়াসওয়াসার কারনে জানামতে হয়তো ইমান নষ্ট হয় না?তবুও আই ফতোয়ার কোন ফতোয়ায় যেমন দেখেছিলাম মনে হচ্ছিল যে মনে মনে রসুল স কে গালি দিলে ইমান নষ্ট হয়ে যায় এইরকম টাইপ দেখছি বাট পরে ঐ টা আর যদিও ইদানীং হয়তো খুজে পাই নাই। তখন পেলেও হয়তো ভাবতাম আসলে মনে মনে হলে তো হবার কথা না কিন্তু হয়তো মনে মনে কেউ এমন ভাবলে ঘৃণা করা হয় তাই ঐ রকম সংক্ষিপ্ত একেবারে লেখা আসলে ইমান হারা হওয়ার অনেক শর্ত হয়তো আছে বা হয়তো এত সংক্ষিপ্ত লিখলে কাজের নরমালি কথা বলতে এত খেয়াল না করে আসলে এরকম কেউ করলে তার অনেককিছু দেখা হবে, শুধু এ কারনে হয়তো হবে না, শুধু মাত্র এ কারনে হয়তো ততক্ষণাত ইমান যাওয়া বলা হবে না কারন মনের কথা হয়তো এত সহজে ধার্য হয় না??এসব ভাবতে থাকি।অনেকদিন পরও হটাৎ এরকম মনে হতে থাকে, কেন জানি আর ভাবতে থাকি হয়তো মনে মনে এরকম দিলেই কেউ হয়তো সরাসরি হবে না হয়তো ঐ ফতোয়ার ভাষা অনেক সংক্ষিপ্ত আসলে অনেক বিষয় আছে হয়তো ঘৃনা করলে ইমান চলে যেতে পারে টাইপ বুঝাতে বলতে পারে বা হয়তো আরও অনেক কিছু বিশ্লেষণ করা হতে পারে? মনে হয়তো শয়তানের ওয়াসাওয়াসাও না কি বার বার আসছিল মনে মনে এরকম হলে তো হয় না তাই দিয়ে দেখি কিন্তু আমি অনেক চেষ্টা করছিলাম এভাবে মনে মনে গালি দিলে ইমান যাক বা না যাক দেব না।ভাবছিলাম যে না মনে মনেও এরকম করব না ইত্যাদি আরও রসুল স সম্মান করি এরকম ভাবছিলাম।এর মাঝে নামাজে দাড়াই নামাজ পড়তে থাকি তখনও মাথায় এগুলো চলতে থাকে। হয়তো নামাজের মাঝে হটাৎ আরও বেশি মাথায় আসে দিয়েই দেখি তা ভেবে হয়তো দিয়েই ফেলি তবে শুধু মনে মনে তখনও মুখে নামাজের নরমাল যেগুলো পড়তে হয় তাই পড়ছিলাম। আমার জানামতে মুখে ঐ সব কিছু বলি নাই নামাজটাই পড়ছিলাম কিন্তু মনে মনে ঐ রকম করেও ভয় পেয়ে যাই অনেক। সাথে সাথে ঐ গালি নিজেকে দেয়া ও পরে আরও ভয় পেয়ে কি করব না বুঝে নামাজের মাঝেই এগুলো করলে কি হবে টাইপ প্রশ্নবোধক ভেবে এগুলোকে প্রশ্নবোধক করার চেষ্টা করি। পরে ভয় পেয়ে প্রশ্নবোধক করা, ভালো অর্থে নেয়ারও চেষ্টা করতে থাকি বাট তখন তো কিছুটা সময়ও চলে যায় ঐ ভাবে হয়তো যায়ও না। ঐ রকম ভাবতে ভাবতেই নামাজ শেষ করি। এগুলো সবই মনে মনে। মুখে শুধু নামাজে যা পড়ার তাই পড়ছিলাম মুখে জানামতে ঐ রকম কিছুই বলি নাই।তো তখন আবার ফতোয়া ঘাটতে থাকি, ভয় পেতে থাকি। গালি দিলেই ইমান নষ্ট হয়ে যায়, ঐ রকম ফতোয়া পাই না তখন আর বাট কাউকে মনে মনে গালি দেয়া হয়তো ঠিক না টাইপ ফতোয়া পাই। পরে দেখি মুফতি ওলি উল্লাহের কিছু ফতোয়ায় মনে মনে এরকম হলে হয়তো ইমান যায় না বুঝা যায় হয়তো ঐ সব দেখে?যেমন এগুলো:
https://ifatwa.info/58799/
https://ifatwa.info/60111/
এখানে উপরের ফতোয়ায় মনে মনে রাগে রসুল স. কে গালি দিলেও ইমান যাবে না লেখা সে হিসেবে আমার ইমান ঠিক আছে ভাবি তখন হয়তো?আর এমনি হয়তো দোয়াতে কালেমা পড়ি। ইস্তেগফার আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি বলে ক্ষমা চাই আল্লাহর কাছে যদি কোন ভুল হয় তা বলে কিন্তু ইমান হয়তো আমার চল যায় নি তখন ধরে নেই।
পরে তাও ভয় আসে বার বার ঐ টা নিয়ে কি করা যায়।আমি বিবাহিত, প্রেগন্যান্ট। ইমান ভেঙে গেলে বিয়ে ভাঙা নিয়েও ভয় হয়??ইদানীং এসব নিয়ে হয়তো অনেক ফতোয়া সব দেখা হয়,এগুলো সহ অনেল বিষয় নিয়েই?এগুলো কি আমার ওয়াসাওয়াসা এত ভাবনা? কি করা যায়?ঐ ঘটনায় কি তো ইমান যায় নি তাই না?
Answer
ওয়াসওয়াসা ও ইমান সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, মনে মনে ওয়াসওয়াসার কারণে যে চিন্তাগুলো আসছে, তা দ্বারা আপনার ঈমান নষ্ট হয়নি। আপনি যদি মুখে (জবানে) কিছু না বলে থাকেন এবং অন্তরে সত্যিই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ঘৃণা বা অবমাননার ইচ্ছা না থাকে, বরং আপনি এগুলোকে অপছন্দ করেন এবং এর জন্য ভীত হন, তাহলে আপনার ঈমান ইনশাআল্লাহ অক্ষত আছে।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ
১. ওয়াসওয়াসা কী?
ওয়াসওয়াসা হলো শয়তানের পক্ষ থেকে মনে মনে খারাপ চিন্তা ও সন্দেহ সৃষ্টি করা। এটি একটি পরিচিত মানসিক অবস্থা যা অনেক মুমিনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"শয়তান মানুষের কাছে এসে বলে, 'কে এটা সৃষ্টি করেছে? কে ওটা সৃষ্টি করেছে?' এমনকি বলে, 'আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?' যখন কেউ এরূপ উপলব্ধি করে, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং এ চিন্তা ছেড়ে দেয়।" (সহীহ বুখারী: ৩২৭৬; সহীহ মুসলিম: ১৩৪)
২. মনে মনে গালি দেওয়ার বিধান
হানাফি ফিকহের আলোকে, কুফরি শব্দ উচ্চারণ করলে ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য মৌখিক উচ্চারণ (জবানে বলা) শর্ত। শুধু মনে মনে চিন্তা করা বা অন্তরের কথা দ্বারা ঈমান নষ্ট হয় না, যদি না তা অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসে পরিণত হয়।
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন:
"কুফর হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল বা দ্বীনের কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা বা অবমাননা করা। আর তা মুখে উচ্চারণ করা শর্ত। শুধু মনে মনে চিন্তা করলে কুফরি হয় না, যদি না তা বিশ্বাসে পরিণত হয়।" (রাদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৬)
৩. ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে যা আসে তার বিধান
যদি কেউ ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে এমন কিছু চিন্তা করে যা সে নিজেও অপছন্দ করে এবং এর জন্য ভীত হয়, তাহলে তা দ্বারা ঈমান নষ্ট হয় না। বরং এই ভয়ই তার ঈমানের প্রমাণ।
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ইমদাদুল ফতোয়া-তে উল্লেখ করেছেন:
"শয়তানের ওয়াসওয়াসা দ্বারা মনে মনে কুফরি চিন্তা আসা এবং তা অপছন্দ করা ও ভীত হওয়া—এতে ঈমান নষ্ট হয় না। বরং এ ভয়ই ঈমানের আলামত। কারণ মুমিন যখন কুফরি চিন্তাকে ঘৃণা করে, তখন তা তার ঈমানের দলিল।" (ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৩৪)
৪. নামাজের মধ্যে ওয়াসওয়াসা
নামাজের মধ্যে শয়তানের ওয়াসওয়াসা বেশি আসে। এটি স্বাভাবিক। নামাজের মধ্যে মনে মনে খারাপ চিন্তা এলে নামাজ নষ্ট হয় না, যদি মুখে কিছু না বলা হয়। নামাজের মধ্যে শুধু মনে মনে চিন্তা করলে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না, তবে খুশু-খুজু কমে যায়।
৫. ঈমান ভঙ্গের শর্তাবলি
ঈমান ভঙ্গ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো থাকা প্রয়োজন:
১. মৌখিক উচ্চারণ (জবানে বলা) — শুধু মনে মনে চিন্তা যথেষ্ট নয় ২. ইচ্ছা ও সচেতনতা — অনিচ্ছাকৃত বা ভুলবশত বলা হলে ঈমান নষ্ট হয় না ৩. দৃঢ় বিশ্বাস — অন্তরে সত্যিই সেই বিশ্বাস পোষণ করা ৪. স্বাধীন ইচ্ছা — জোরপূর্বক বা অসুস্থ অবস্থায় বলা হলে ঈমান নষ্ট হয় না
৬. বিবাহ ভঙ্গের প্রশ্ন
যেহেতু আপনার ঈমান নষ্ট হয়নি, তাই আপনার বিবাহও ভঙ্গ হয়নি। বিবাহ ভঙ্গের জন্য ঈমান নষ্ট হওয়া অপরিহার্য শর্ত। যেহেতু ঈমান অক্ষত আছে, বিবাহও অক্ষত আছে।
করণীয়
১. ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব না দেওয়া — ওয়াসওয়াসা এলে তা উপেক্ষা করুন ২. আউযুবিল্লাহ পড়া — শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া ৩. ইস্তিগফার করা — আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ৪. কালেমা পড়া — ঈমান তাজা করা ৫. চিকিৎসা নেওয়া — যদি ওয়াসওয়াসা অতিরিক্ত হয়, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে
উপসংহার
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে কিছু চিন্তা করেছেন, কিন্তু মুখে কিছু বলেননি এবং আপনি নিজেও এগুলো অপছন্দ করেন ও ভীত হন। এমতাবস্থায় আপনার ঈমান নষ্ট হয়নি এবং আপনার বিবাহও ভঙ্গ হয়নি। আল্লাহ তাআলা আপনার ভয় দূর করুন এবং আপনাকে শান্তি দান করুন। আমিন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।