বিবাহের পূর্বে "রেহেম পরিষ্কার করো" বলে তালাকের নিয়ত করার শরয়ী হুকুম কী?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5080
Questioner: Abdur Rahman
Question Asked: 07 Sep 2026, 03:42 AM
Reviewed & Published: 07 Sep 2026, 04:31 AM
Views: 34
Tokens: 2,496
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিবাহের আগে যদি কেউ বলে তুমি তোমার রেহেম পরিস্কার করো এটা বলে মনে মনে উদ্দেশ্য নিলো যে বিবাহ করলে বউ তালাক তাহলে এর হুকুম কি

Answer

বিবাহের পূর্বে "রেহেম পরিষ্কার করো" বলার মাধ্যমে তালাকের নিয়ত করার হুকুম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

কোনো ব্যক্তি বিবাহের পূর্বে কাউকে বলে, "তুমি তোমার রেহেম পরিষ্কার করো" — এবং মনে মনে এই নিয়ত করে যে, বিবাহ করলে স্ত্রীকে তালাক দেবে। এখন জানতে চাওয়া হয়েছে এর শরয়ী হুকুম কী?

উত্তরের মূল কথা

এই উক্তির দ্বারা কোনো তালাক পতিত হবে না, কারণ:

১. তালাক শুধুমাত্র বিবাহিত অবস্থায়ই পতিত হয়। বিবাহের পূর্বে তালাকের নিয়ত করা বা তালাকের শর্ত যুক্ত করা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।

২. "রেহেম পরিষ্কার করো" — এটি তালাকের কোনো শব্দই নয়। তালাকের শব্দ হতে হলে স্পষ্ট (সরীহ) বা ইঙ্গিতবোধক (কিনায়া) শব্দ ব্যবহার করতে হয়। "রেহেম পরিষ্কার করো" তালাকের সরীহ বা কিনায়া কোনো শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়।

দলিল ও ব্যাখ্যা

১. তালাকের শর্তাবলী

তালাক পতিত হওয়ার জন্য বিবাহিত জীবন (নিকাহ) থাকা আবশ্যক। বিবাহের পূর্বে তালাকের নিয়ত করা বা শর্ত করা কোনো প্রভাব ফেলে না।

قال في الدر المختار: "وَشَرْطُ وُقُوعِهِ وُجُودُ النِّكَاحِ"
অর্থাৎ, তালাক পতিত হওয়ার শর্ত হলো নিকাহ বিদ্যমান থাকা।
(রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৯)

২. তালাকের শব্দ ব্যবহার না করা

তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের শব্দ (যেমন: তালাক, ছাড় ইত্যাদি) বা তালাকের নিয়তে কিনায়া শব্দ ব্যবহার করতে হয়। "রেহেম পরিষ্কার করো" — এটি তালাকের কোনো শব্দ নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যবিধি বা পবিত্রতা সংক্রান্ত উপদেশ হিসেবে গণ্য।

قال في الهداية: "لَا يَقَعُ الطَّلَاقُ إِلَّا بِكَلَامٍ يُفْهَمُ مِنْهُ الطَّلَاقُ"
অর্থাৎ, তালাক পতিত হয় না যতক্ষণ না এমন কথা বলা হয় যা থেকে তালাক বুঝা যায়।
(الهداية، كتاب الطلاق)

৩. বিবাহের পূর্বের নিয়তের অকার্যকারিতা

বিবাহের পূর্বে কেউ যদি মনে মনে নিয়ত করে যে বিবাহ করলে তালাক দেবে, তবে তা বিবাহের পর তালাক পতিত হওয়ার কারণ হবে না। কারণ তালাকের নিয়ত তালাকের সময়ই প্রযোজ্য, বিবাহের পূর্বের নিয়ত নয়।

وفی الفتاوى الهندية: "وَلَوْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ قَبْلَ الدُّخُولِ: إِذَا دَخَلْتُ بِكِ فَأَنْتِ طَالِقٌ، لَمْ يَقَعْ حَتَّى يَدْخُلَ بِهَا"
অর্থাৎ, কেউ যদি স্ত্রীকে বলে, "আমি যখন তোমার সাথে সহবাস করব তখন তুমি তালাক" — তবে সহবাসের পূর্বে তালাক পতিত হবে না।
(الفتاوى الهندية، ১/৩৭৩)

গুরুত্বপূর্ণ নোট

১. বিবাহের পূর্বে তালাকের শর্ত যুক্ত করা — যেমন কেউ বলল, "আমি অমুক মেয়েকে বিয়ে করব এই শর্তে যে বিয়ের পর তালাক দেব" — ইসলামী দৃষ্টিতে এটি বৈধ নয় এবং এর দ্বারা বিবাহের পর তালাক পতিত হবে না। বিবাহ একটি পবিত্র বন্ধন, যা ভঙ্গ করার নিয়তে করা উচিত নয়।

২. তালাকের নিয়ত — তালাকের নিয়ত তখনই প্রযোজ্য যখন তালাকের শব্দ বা কিনায়া শব্দ ব্যবহার করা হয়। "রেহেম পরিষ্কার করো" কোনো অবস্থাতেই তালাকের শব্দ নয়।

ফতোয়া

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে "রেহেম পরিষ্কার করো" বলার দ্বারা কোনো তালাক পতিত হবে না। এমনকি বিবাহের পরও এই উক্তির দ্বারা তালাক পতিত হবে না, কারণ এটি তালাকের শব্দ নয়। তবে বিবাহের পূর্বে তালাক দেওয়ার নিয়ত করা শরীয়তসম্মত নয় এবং এটি বিবাহের পবিত্র উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। মুসলিমের উচিত বিবাহের পবিত্র বন্ধনকে সম্মান করা এবং তালাকের নিয়ত না করা।

قال تعالى: ﴿وَلَا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ﴾
অর্থাৎ, তোমরা নিকাহ বন্ধনে দৃঢ় সংকল্প করো না (তালাকের নিয়ত করো না)।
(সূরা বাকারা: ২৩৫)

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.