স্বামীর পুরোপুরি অনুমতি বা ফুল সাপোর্ট না থাকলে কি জেনারেল পড়াশোনা কন্টিনিউ করা জায়েজ হবে?
Family Life · Hanafi
Question
আর এই সাব্জেক্ট এ কিছু বিষয় আছে আমাদের ইসলামের সাথে যায় না, বিভিন্ন ইংরেজ সাহিত্যকদের লিখা কবিতা, উপন্যাস যেগুলোতে হারাম সম্পর্ক বা পরকিয়া উল্লেখ। তো এখন আমার জন্য কি জায়েজ হবে অনার্স কপ্লিট করা? স্বামী অমতে গিয়ে কি আমার জন্য পড়াশোনা করা জায়েজ হবে?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে কয়েকটি মূলনীতি স্মরণ রাখা জরুরি:
১. স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি: ইসলামি শরিয়তে স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া বা এমন কাজে লিপ্ত হওয়া যা স্বামীর অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে, তা জায়েজ নয়। তবে শিক্ষা অর্জন এমন একটি বিষয় যা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যদি তা ফরজ বা প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য হয়।
২. স্বামীর সমর্থন: প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে, স্বামী এখন রাজি হয়েছেন কিন্তু পুরোপুরি সমর্থন করছেন না। এই অবস্থায় স্ত্রীর জন্য কর্তব্য হলো স্বামীর সাথে পরামর্শ করে এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। স্বামীর সম্পূর্ণ অমতে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়, কারণ তা দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
৩. বিষয়বস্তুর বৈধতা: ইংরেজি সাহিত্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা ইসলামি মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক (যেমন: হারাম সম্পর্ক, পরকিয়া, শিরক ইত্যাদি)। এই ধরনের বিষয় পড়া, লেখা বা আলোচনা করা জায়েজ নয়। তবে যদি কোনো বইয়ে এমন বিষয় থাকে এবং তা সমালোচনা বা খণ্ডনের উদ্দেশ্যে পড়া হয়, তাহলে তা জায়েজ হতে পারে, তবে সাধারণভাবে তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।
৪. বিকল্প ব্যবস্থা: যদি ইংরেজি সাহিত্যে ইসলামবিরোধী বিষয় থাকে, তাহলে আপনি চাইলে অন্য কোনো বিষয়ে (যেমন: ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি, শিক্ষা ইত্যাদি) উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। অথবা ইংরেজি সাহিত্যের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোর্স বেছে নিতে পারেন যেখানে ইসলামবিরোধী বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব।
৫. স্বামীর সাথে আলোচনা: আপনার উচিত স্বামীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করা এবং তাকে বোঝানো যে, শিক্ষা আপনার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি স্বামী সম্পূর্ণ অমত প্রকাশ করেন, তাহলে তার মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, কারণ স্বামীর আনুগত্য স্ত্রীর জন্য ফরজ (যতক্ষণ তা গুনাহের কাজ না হয়)।
ফতোয়া:
- যদি স্বামী সম্পূর্ণ অমত হন এবং আপনি তার অমতে পড়াশোনা চালিয়ে যান, তাহলে তা জায়েজ হবে না।
- যদি স্বামী রাজি হন কিন্তু পুরোপুরি সমর্থন না করেন, তাহলে আপনি তার সাথে আলোচনা করে এবং তার শর্তগুলো মেনে নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন।
- ইংরেজি সাহিত্যের যে অংশগুলো ইসলামবিরোধী, সেগুলো পড়া বা মুখস্থ করা জায়েজ নয়। প্রয়োজনে আপনি শুধু পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অংশগুলো পড়তে পারেন, তবে তা যদি গুনাহের কাজে সহায়তা করে, তাহলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।
সূত্র:
- কুরআন: "আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বশীল তাদের আনুগত্য করো।" (সূরা নিসা: ৫৯)
- হাদিস: "যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া (ঘর থেকে) বের হয়, তবে আল্লাহর ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দেয় যতক্ষণ না সে ফিরে আসে বা তওবা করে।" (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান)
- ফতোয়ায়ে উসমানি: স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া বের হওয়া জায়েজ নয়, তবে শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় কাজে স্বামীর অনুমতি নেওয়া উত্তম।
- রদ্দুল মুহতার: স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর বের হওয়া নিষিদ্ধ, তবে যদি তা ফরজ বা ওয়াজিব হয় (যেমন: জানাজার নামাজ), তাহলে অনুমতি ছাড়া বের হওয়া জায়েজ।
সারসংক্ষেপ:
- স্বামীর সম্পূর্ণ অমতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া জায়েজ নয়।
- স্বামী রাজি থাকলে এবং আপনি ইসলামবিরোধী বিষয়গুলো এড়িয়ে চললে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন।
- ইংরেজি সাহিত্যের ইসলামবিরোধী অংশগুলো পড়া জায়েজ নয়।
আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য সহজ করুন এবং সঠিক পথ দেখান।