please give me solution

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5050
Questioner: Md Yousuf Ali
Question Asked: 06 Sep 2026, 12:40 PM
Reviewed & Published: 06 Sep 2026, 03:20 PM
Views: 16
Tokens: 17,863
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্ত্রী একদিন আমাকে বারবার খালি বলে যে তুমি যদি অমুক মেয়ের সাথে কথা বলো তাহলে আমি আমাদের ভবিষ্যতে খুব ঝামেলা হবে । আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব । মাঝে মধ্যে বলে যে অমুক মেয়ের সাথে যদি কথা বলো তাহলে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব । রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাব । এই জাতীয় কথা বলে । তো আমি এটাকে ভাবতাম যে ও যদি এরকম এই জাতীয় কথা বলে আর আমি যদি সেই কাজ করি তাহলে হয়তো আমাদের আমি ভাবতাম যে তাহলে হয়তো আমাদের ডিভোর্স হয়ে যেতে পারে । এরকম একটা ভয় আমি পাইতাম । তো একদিন আমি তার প্রতি খুবই রেগে যাই যে বারবার এই ধরনের কথা বলে । তো আমি খুবই মনটা খারাপ করতাম যে আমি এই বিষয় নিয়ে এমনিতেই আমি ওভার থিংকিং করি তারপর এই বিষয়ে কথা বলে । তো আমি খুবই খারাপ লাগছিল । তো আমি বলছিলাম যে তোমাকে না কতবার আমি বলেছি যে তুমি আমার সাথে এ ধরনের কথা বলবা না । হ্যাঁ তারপর কথাগুলো বলো । তোমার এতই শখ? হ্যাঁ তোমাকে বারবার এসব কথা বলতে নিষেধ করি তোমার এতই শখ? দাঁড়াও আমি তোমার শখ আমি পূরণ করছি । তোর বাপের নাম্বার দে তোমার বাপের সাথে আমি কথা বলব । বা আরো বলেছি যে তোমার শখ আমি পূরণ করে দিচ্ছি । তোমার বাপের সাথে আমি কথা বলব । এই টাইপের কথা আমি বলেছি । তারপরে বলেছি তোমার বাহাদুরি আমি দূর করতেছি । আমার আব্বা বাবা মা বাড়ির পাশে যে আছে তার কাছে দাও । আমি তার সাথে কথা বলব । বাহাদুরি আমি দূর করতেছি । বলে আমার আব্বার কাছে ফোনটা দিছে । তখন আমার আব্বাকে বলেছি আব্বা আমার স্ত্রীর সাথে তো আমার সংসার করা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে । আমি কষ্ট মনে আছে এটুকু বলেছি । কিন্তু মনের ভিতরে আমার ওয়াসাসা হচ্ছে আমি এই কথা বলেছি কি না । যে আমার স্ত্রীর সাথে সংসার করা সম্ভব হচ্ছে না বা স্ত্রীর সাথে সংসার করতে পারতেছি না । এই দুইটা কথা বলেছি কি না আমি হানড্রেড পারসেন্ট শিওর না । তবে এই কথা বলেছি যে সংসার করা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে । তো আব্বা পরে বলল যে কী কারণে । বলছে আমি বলছি যে দেখো এরকম খালি বলে যে অমুকের সাথে কথা বললে রাগ করব । অমুকের সাথে কথা মিললেই রাগ করব । তো এইভাবে একটা মানুষের সমাজ আমার বলতে একটা বিষয় আছে । মানুষের সাথে তো অনেক সময় কথা বলাই লাগে । দেখা হলেও তো যদি বলে ভালো আছি তো আমি বলি ভালো আছি । এরকম কথা বলার লাগে । আর পরে আমি বলেছি আমার স্ত্রীকে আমি পরে একসময় ডেকে বলেছি যে তুমি যে কথাগুলো বলো তোমার কি সেলিব্রিটির প্রতি কোনো মায়া নাই? সেলিব্রিটি সাড়ে তুমি থাকতে পারবা? তো তুমি যদি এই টাইপের কথা বলো আর আমি মনের ভুলেও যদি সেইসব কাজগুলো করে ফেলি তাহলে তো তুমি জানো না যে তোমাকে সেলিব্রিটি থেকে দূরে থাকতেই হবে । হ্যাঁ? আমি কি বোঝাতে চাইছি তুমি কি বুঝতে পারছ না? যদি তুমি এরকম শর্ত দিয়ে বসে থাকো আর আমি যদি এরকম কাজ সত্যিই সত্যিই করে ফেলি তাহলে আমাদের কি সমস্যা হবে তুমি কি বুঝতে পারছ না? আমি তোমাকে কি বোঝাতে চাচ্ছি? তোমাকে যে আমাদের ভবিষ্যতে যে সমস্যা হবে তোমাকে যে আমাদের ছেলে থেকে দূরে থাকতে হবে । হ্যাঁ? এগুলো আমি নিশ্চিত বলেছি কিন্তু মনের ভিতরে সন্দেহ জাগছে যে আমি এই কথাও বলেছি কি না যে তুমি যদি এই কাজ করো তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের আলাদা থাকতে হবে । এই কথা বলেছি কি না আমার মনের ভিতরে ঠিক না । আমি নিশ্চিত না । তবে এই কথা বলেছি যে যদি তুমি আমার মানে হানড্রেড পারসেন্ট তো মনে নাই । সেটা মনে আছে তার ভিত্তিতে বলতেছি । সেটা হলো যে তুমি যদি এরকম করো তাহলে ছেলেদের থেকে তো দূরে থাকতেই পারবা না । তুমি বারবারই সব কথা বলো । এই শর্ত দিলে আমি যদি মনের ভুলেও সে শর্তগুলো অমান্য করে ফেলি তাহলে আমাদের ভবিষ্যতে কি সমস্যা হবে তুমি বুঝতে পারছো না? এই কথাগুলো বলেছি । কিন্তু মনের ভিতরে সন্দেহ জাগছে যে কথা বলেছি কি না যে তুমি যদি এরকম করো আর আমি যদি মনের ভুলেও করে ফেলি তাহলে আমাদের ভবিষ্যতে আলাদা থাকতে হবে এই কথা বলেছি কিনা সন্দেহ । তবে যাই বলি না কেন আমি যা ভাবতাম যে ও যদি এরকম শর্ত দেয় আর আমি যদি শর্ত না মানতে পারি তাহলে হয়তো আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে । এটা আমি ভাবতাম । এই নিয়মটা আমি তাকে বোঝানোর জন্য কথাগুলো বলেছি । তার প্রতি কোনো শর্ত আরোপ করার জন্য আমি বলিনি যে তুমি যদি এরকম করো আর আমি যদি মনের ভুলেও যদি আমি কাজগুলো করে ফেলি তাহলে আমাদের একটা সমস্যা হয়ে যাবে বা ইয়ে হয়ে যাবে । এই জিনিসটা আমি মানে শর্ত দেওয়ার জন্য আমি বলিনি । আমি তাকে নিয়মটা বোঝানোর জন্য বলেছি । কিন্তু পরে মনের মধ্যে সন্দেহ আছে যে কথাটা তো শর্তের মতো হয়ে যায় । যদিও আমার উদ্দেশ্য শর্ত দেওয়ার কোনো আমার উদ্দেশ্য ছিল না । কিন্তু পরে ভেবে থাকলাম আমার কথার ভিতরে একটা শর্তের ভাবও থেকে যায় । কিন্তু আমার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই শর্ত দেওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না ।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে আমার স্ত্রী যে শর্ত দিয়ে বলে যে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব বা তুমি কথা বললে আমি রাগ করে চলে যাব । এরপরেও যদি আমি কথা বলি তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে? নাম্বার ওয়ান । নাম্বার টু আমি যদি ওকে বলেছি তোমার শখ আমি পূরণ করছি । তোর বাপের নাম্বার দে বাপের সাথে কথা বলব । বা শখ আমি পূরণ করে দিচ্ছি। তোমার বাপের সাথে আমি কথা বলব । বা আমার আব্বাকে যে বলেছি যে আমার স্ত্রীর সাথে সংসার করা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা এই বা সংসার করা সম্ভব হচ্ছে না বা সংসার করতে পারতেছিনা । এগুলো দ্বারা কি কোনো সমস্যা হবে? আর আমি আজ আমার স্ত্রীকে আমি ওই যে যে জিনিসটা ভাবতাম যে এই টাইপের কথা শর্ত যদি দেয় আর আমি যদি সেটা পালন করতে না পারি তাহলে আমার সমস্যা হবে । আমি তাকে বুঝানোর জন্য আমি এই কথাটা বলেছি । এটা কি আবার পরোক্ষভাবে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়ে যায় কিনা? আমি যদি ও শর্ত আরোপ করার উদ্দেশ্যে এই কথাটা বলিনি । বিষয়টা নিয়ে মনের ভিতরে খুবই খচখচ করতেছে ।

Answer

উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্নকারী ভাই, আপনার দীর্ঘ প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনার মনে তালাক সংক্রান্ত যে ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) তৈরি হয়েছে, তার উত্তর দেওয়ার আগে কয়েকটি মূলনীতি জেনে নেওয়া জরুরি:

মূলনীতি:

১. তালাক শুধুমাত্র স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন শব্দে বা নিয়তে হলে কার্যকর হয়। কোনো শর্ত বা হুমকির কথা বললে তা তালাক হয় না, যদি না তা স্পষ্ট তালাকের শব্দে (যেমন: "তালাক দিলাম", "তুমি তালাক") বলা হয়।

২. স্ত্রীর শর্ত দেওয়া বা হুমকি দেওয়া দ্বারা স্বামীর উপর কোনো তালাক বাধ্যতামূলক হয় না। স্ত্রী যদি বলে "তুমি অমুকের সাথে কথা বললে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব" - এটি একটি হুমকি বা শর্ত, কিন্তু এর দ্বারা স্বামীর কোনো কাজ করলে তালাক পতিত হবে না।

৩. রাগের মাথায় বলা কথা তালাকের নিয়তে না বললে তালাক হয় না (যদিও রাগের তালাক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে, তবে এখানে আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনি তালাকের শব্দ ব্যবহার করেননি)।

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

১. স্ত্রীর শর্ত দেওয়া প্রসঙ্গে:

আপনার স্ত্রী যে বলেছে "তুমি অমুক মেয়ের সাথে কথা বললে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব" বা "রাগ করে চলে যাব" - এটি তার পক্ষ থেকে একটি হুমকি বা শর্ত মাত্র। এর দ্বারা আপনার উপর কোনো তালাক জরুরি হয় না। আপনি যদি কারো সাথে কথা বলেন, তবুও আপনার বিবাহ বৈধ থাকবে। স্ত্রীর এই ধরনের কথায় তালাক পতিত হওয়ার কোনো বিধান নেই।

২. আপনার বলা কথাগুলো প্রসঙ্গে:

আপনি স্ত্রীকে যা বলেছেন:

  • "তোমার শখ আমি পূরণ করছি, তোর বাপের নাম্বার দে"
  • "তোমার বাপের সাথে আমি কথা বলব"
  • "সংসার করা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে"

এগুলোর কোনোটি তালাকের শব্দ নয়। এগুলো দ্বারা তালাক পতিত হয় না। এমনকি আপনি যদি বলেন "সংসার করা সম্ভব হচ্ছে না" বা "সংসার করতে পারছি না" - এগুলোও তালাকের শব্দ নয়। এগুলো দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না।

৩. "আলাদা থাকতে হবে" বা "দূরে থাকতে হবে" বলা প্রসঙ্গে:

আপনি স্ত্রীকে বলেছেন যে "তুমি যদি এরকম করো তাহলে আমাদের ভবিষ্যতে সমস্যা হবে" বা "ছেলে থেকে দূরে থাকতে হবে" - এগুলোও তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয়। এগুলো দ্বারা তালাক পতিত হয় না।

৪. পরোক্ষ শর্ত আরোপ প্রসঙ্গে:

আপনি যে বলেছেন "তুমি যদি এরকম করো আর আমি যদি মনের ভুলেও করে ফেলি তাহলে আমাদের সমস্যা হবে" - এটি কোনো শর্ত আরোপ নয়, বরং আপনি স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। এতে কোনো তালাক পতিত হয়নি।

হাদীসের আলোকে:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে করলে তা কার্যকর হয় এবং ঠাট্টা করে করলেও তা কার্যকর হয়: বিবাহ, তালাক এবং রজু (স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া)।" (আবু দাউদ, তিরমিযী)

কিন্তু এই হাদীসটি তখন প্রযোজ্য যখন স্পষ্ট তালাকের শব্দ ব্যবহার করা হয়। আপনার বর্ণনায় কোথাও স্পষ্ট তালাকের শব্দ নেই।

ফিকহের নিয়ম:

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তালাকের শব্দ ব্যবহার করা আবশ্যক। "আলাদা হয়ে যাওয়া", "দূরে থাকা", "সমস্যা হবে" - এ ধরনের শব্দ তালাকের শব্দ নয়, বরং এগুলো কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দ। কিনায়া শব্দে তালাক তখনই পতিত হয় যখন নিয়ত থাকে। আপনার নিয়ত তালাকের ছিল না, বরং আপনি স্ত্রীকে বোঝাতে চেয়েছিলেন। তাই আপনার কোনো তালাক পতিত হয়নি।

ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন:

"কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার শর্ত হলো নিয়ত। নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৮)

ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে:

আপনি যে ওয়াসওয়াসায় ভুগছেন, এটি শয়তানের প্ররোচনা। শয়তান মানুষকে তালাকের ব্যাপারে সন্দেহে ফেলে বিবাহিত জীবনকে অস্থির করে তোলে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তোমাদের কেউ যেন এমন কিছু না বলে যা নিয়ে সে সন্দেহে পতিত হয়, কারণ মুমিনের জন্য ওয়াসওয়াসা ক্ষতিকর।" (মুসলিম)

আপনার করণীয়:

১. নিশ্চিন্ত থাকুন - আপনার বিবাহ বৈধ আছে, কোনো তালাক পতিত হয়নি। ২. ওয়াসওয়াসা দূর করুন - শয়তানের এই কুমন্ত্রণায় কান দেবেন না। ৩. স্ত্রীর সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনা করুন - তালাকের শব্দ এড়িয়ে চলুন এবং স্ত্রীকে বোঝান যে এই ধরনের কথা বলা উচিত নয়। ৪. ভালো সম্পর্ক গড়ুন - দাম্পত্য কলহ নিরসনে ধৈর্য ধরুন এবং পরস্পরকে সম্মান করুন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)

উপসংহার:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনার স্ত্রীর শর্ত দেওয়া, আপনার বলা কথাগুলো, এমনকি আপনি যা মনে মনে ভেবেছেন - কোনো কিছুই তালাকের কারণ হয়নি। আপনি এবং আপনার স্ত্রী এখনও বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কে আছেন। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন এবং নিশ্চিন্তে সংসার চালিয়ে যান।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.