হায়েজের ক্ষেত্রে ৩-৫ দিনের নতুন বাস্তবতাকে কি নতুন আদত বা অভ্যাস ধরা হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5034
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 05 Sep 2026, 09:07 PM
Reviewed & Published: 05 Sep 2026, 09:45 PM
Views: 15
Tokens: 4,233
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

▪️নিফাসের পর আমার ব্লিডিং চলতে থাকায় মাসআলা অনুযায়ী আমি ১৫দিন পরপর হায়েজের হিসাব করেছি।
▪️আগে আমার হায়েজ সাধারণত ৯–১০ দিন থাকত। তাই আমি ১০ দিনকে হায়েজের স্থায়িত্ব ধরে আসছিলাম।
▪️কিন্তু সর্বশেষ ২ বার হায়েজে বাস্তবে রক্ত এসেছে মাত্র ৩–৫ দিন, তাও ১০দিন নামাজ পড়িনি ।
▪️তাই এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই ৩–৫ দিনের নতুন বাস্তবতাকে কি তোমার নতুন হায়েজের আদত ধরা হবে?
কারণ ৩–৫ দিনকে হায়েজের শেষ ধরলে এরপর ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতা হওয়ার পর পরবর্তী হায়েজ আসে।
কিন্তু ১০ দিনকে এখনও আদত ধরলে, রক্ত বন্ধ হওয়ার পর মাত্র প্রায় ৮ম দিনের দিকে আবার রক্ত আসছে—অর্থাৎ ১৫ দিনের পবিত্রতার সময় পূর্ণ হচ্ছে না।
▪️গতবার হায়েজ ৩/৪ দিন ছিল; এবার গতকাল থেকে রক্ত শুরু হয়েছে, অর্থাৎ মাঝখানে মাত্র ১৩ দিন পবিত্র ছিলে। এখন জানতে চাচ্ছি—এবারের রক্তকে হায়েজ ধরবো, নাকি অন্য কোনো হিসাব হবে?

Answer

হায়েজের হিসাব সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

উত্তর


১. প্রথম প্রশ্নের উত্তর (৩-৫ দিনের নতুন বাস্তবতাকে কি নতুন আদত বা অভ্যাস ধরা হবে?):

  • শরয়ী ফয়সালা:

হ্যাঁ, আপনার ৩-৫ দিনের নতুন বাস্তবতাকে আপনার নতুন হায়েযের আদত বা অভ্যাস (New Habit) ধরা হবে।

  • কারণ বিশ্লেষণ:

হানাফী ফিকহের অকাট্য নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মহিলার পূর্ববর্তী অভ্যাস (যেমন ১০ দিন) পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোনো মেয়াদে (যেমন ৩-৫ দিন) রক্ত আসে এবং তা ১০ দিনের ভেতরেই বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর তা যদি পরপর ২ বার (কিংবা ১ বার হলেও যদি পরে কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্র থাকা যায়) ঘটে, তবে তার হায়েযের পূর্বের অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে এই নতুন মেয়াদটিই তার নতুন আদত বা অভ্যাস হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

  • আপনার রক্ত যেহেতু বাস্তবে ৩-৫ দিনেই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেহেতু রক্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই আপনার ওযু-গোসল করে নামায পড়া শুরু করা ওয়াজিব ছিল। পুরাতন ১০ দিনের অভ্যাসের অপেক্ষায় রক্তহীন অবস্থায় নামায ত্যাগ করা আপনার জন্য সঠিক হয়নি ।

  • সূত্র:

    • নূরুল ঈযাহ (বাংলা অনুবাদ সহ): পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭ (হায়েয, নেফাস ও ইস্তেহাযা অধ্যায় — অভ্যাস পরিবর্তনের বিবরণ) ।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড - বাংলা অনুবাদ): পৃষ্ঠা ১১৩-১১৪ (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — আদত বা অভ্যাস পরিবর্তনের হুকুম)।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৯৮ (باب الحیض والنفاس - হায়েযের সর্বনিম্ন মেয়াদ ও অভ্যাস পরিবর্তন পরিচ্ছেদ) [Mahmudia 5, 198]।

২. দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর (মাঝখানে ১৩ দিন পবিত্র থাকার পর গতকাল থেকে শুরু হওয়া রক্তের হুকুম কি?):

  • শরয়ী ফয়সালা:

এই রক্তকে সরাসরি পুরোটা হায়েয ধরা যাবে না; বরং হানাফী ফিকহের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী এর প্রথম ২ দিনের রক্ত ইস্তেহাযা (রোগজনিত রক্ত) এবং পরবর্তী ৩-৪ দিনের রক্ত নতুন হায়েয হিসেবে গণ্য হবে ।

  • কারণ ও হিসাব বিশ্লেষণ:

    1. হানাফী ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, দুটি হায়েযের মধ্যবর্তী পবিত্রতা (তুহর)-এর সর্বনিম্ন মেয়াদ হলো ১৫ দিন । যেহেতু আপনার গতবারের রক্ত বন্ধ হওয়ার পর মাঝখানের পবিত্রতার মেয়াদ ছিল মাত্র ১৩ দিন (১৫ দিনের কম), সেহেতু এই ১৩ দিনকে 'তুহরে নাকেস' বা অসম্পূর্ণ পবিত্রতা বলা হবে ।
    2. শরিয়তের নিয়ম হলো, ১৫ দিনের কম পবিত্রতার আগে ও পরে রক্ত আসলে তা মূলত 'ইস্তেমরারে দম' বা একটানা রক্তপ্রবাহের হুকুমে চলে যায়। এমতাবস্থায় হায়েয ও পবিত্রতা নির্ধারণের জন্য আপনাকে আপনার নির্ধারিত আদত বা অভ্যাসের দিনগুলোর হিসাব (Habit Calculation) প্রয়োগ করতে হবে ।
    3. আপনার হায়েযের নতুন আদত বা অভ্যাস যেহেতু ৩ বা ৪ দিন এবং পবিত্রতার সর্বনিম্ন আদত বা মেয়াদ ১৫ দিন; সেহেতু গতবার রক্ত বন্ধ হওয়ার পর আপনার ১৫ দিনের পবিত্রতা পূর্ণ হতে আরও ২ দিন বাকি ছিল (১৫ - ১৩ = ২ দিন)।
    4. অতএব, গতকাল থেকে শুরু হওয়া রক্তের প্রথম ২ দিন আপনার পবিত্রতার আদত পূর্ণ করার জন্য 'ইস্তেহাযা' (রোগজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে । এই ২ দিন আপনাকে সাধারণ ওযু করে নিয়মিত নামায আদায় করতে হবে ।
    5. এই ২ দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর (অর্থাৎ আপনার ১৫ দিনের পবিত্রতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর) গতকাল থেকে শুরু হওয়া রক্তের পরবর্তী ৩ বা ৪ দিনের রক্ত আপনার নতুন হায়েয বা পিরিয়ড হিসেবে গণ্য হবে। এই দিনগুলোতে আপনার নামায-রোযা বন্ধ থাকবে ।
  • সূত্র:

    • নূরুল ঈযাহ (বাংলা অনুবাদ সহ): পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭ (তাহারাত ও পবিত্রতা অধ্যায় — হায়েয ও পবিত্রতার মেয়াদ এবং নিষিদ্ধ কাজসমূহের বিবরণ)।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড - বাংলা অনুবাদ): পৃষ্ঠা ১১৩-১১৪ (তুহরে ফাসিদ বা অসম্পূর্ণ পবিত্রতা এবং ইস্তেমরারে দমের সময় অভ্যাস অনুযায়ী হায়েয-ইস্তেহাযা বণ্টনের বিবরণ)।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৯৯ (طہر متخلل - অসম্পূর্ণ পবিত্রতার পর পুনরায় রক্ত আসার বিবরণ ও আমল) [Mahmudia 5, 199]।

আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.