রুকইয়াহ সেন্টার থেকে রুকইয়াহ করানো জায়েয কিনা?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 5021
Questioner: Mohammed Mahtab Hossain
Question Asked: 05 Sep 2026, 03:05 PM
Reviewed & Published: 05 Sep 2026, 03:09 PM
Views: 9
Tokens: 3,364
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামু আলাইকুম। একটা রুকইয়াহ সেন্টার আছে জায়েজ পদ্ধতিতেই রুকইয়াহ করায় কিন্তু মার্কেটিং এর জন্য হারাম মিউজিক, বেপর্দা নারী দিয়ে ওনাদের চ্যানেল/ পেজে বিজ্ঞাপন করে। ওনাদের থেকে রুকইয়াহ করালে কী কাজ করবে?

Answer

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো, একটি রুকইয়াহ সেন্টার জায়েয (শরিয়তসম্মত) পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করায়, কিন্তু তারা মার্কেটিংয়ের জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) উপায় যেমন—হারাম মিউজিক ও বেপর্দা নারী ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেয়। এখন জানতে চান, এমতাবস্থায় তাদের কাছ থেকে রুকইয়াহ করালে তা কি গ্রহণযোগ্য হবে বা কাজ করবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: যদি রুকইয়াহ করার পদ্ধতি নিজেই সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত (আয়াত, দোয়া ও মাসনূন পদ্ধতিতে) হয়, তবে তাদের মার্কেটিং-এর গুনাহের কারণে রুকইয়াহটির মূল কার্যকারিতা নষ্ট হবে না। তবে, তাদের এই হারাম কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের কাছ থেকে রুকইয়াহ করানো মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হবে এবং গুনাহের কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করার কারণে আপনি গুনাহগার হতে পারেন। তাই অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার আলেম বা হাফেজের কাছে রুকইয়াহ করানোই উত্তম ও নিরাপদ।


বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও দলিল:

১. রুকইয়াহর মূল শর্ত: রুকইয়াহ (দু‘আ ও কুরআন দ্বারা ঝাড়ফুঁক) করা জায়েয, তবে এর জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

  • তা হতে হবে আল্লাহর কালাম, তাঁর নাম বা মাসনূন (নবী ﷺ কর্তৃক প্রমাণিত) দু‘আ দ্বারা।
  • তা হতে হবে আরবি ভাষায় অথবা এমন ভাষায় যার অর্থ স্পষ্ট ও জানা।
  • এতে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, রুকইয়াহ নিজে কোনো প্রভাব রাখে না; বরং আল্লাহর ইচ্ছায় প্রভাব হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৮০)

আপনি বলেছেন, সেন্টারটি জায়েয পদ্ধতিতেই রুকইয়াহ করায়। অর্থাৎ, মূল চিকিৎসা পদ্ধতিটি যদি উপরোক্ত শর্তানুযায়ী হয়, তাহলে সেটি শরিয়তসম্মত।

২. হারাম মার্কেটিং-এর প্রভাব: ইসলামে উপার্জন ও ব্যবসার পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হারাম উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা এবং হারাম মাধ্যমে (মিউজিক, বেপর্দা নারী) প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সাহায্য করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)

তাদের এই হারাম কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা সমাজে গুনাহ ছড়াচ্ছে এবং নিজেরাও গুনাহ করছে।

৩. রুকইয়াহ করালে কী হবে? এখানে দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:

  • রুকইয়াহর কার্যকারিতা: রুকইয়াহর প্রভাব নির্ভর করে আল্লাহর উপর ভরসা, আয়াতের বরকত এবং রোগীর ঈমান ও ইখলাসের উপর। রুকইয়াহকারীর ব্যক্তিগত গুনাহের কারণে মূল রুকইয়াহটি অকার্যকর হয়ে যাবে—এমন কোনো দলিল কুরআন-হাদিসে নেই। বরং, অনেক সময় অযোগ্য ও গুনাহগার ব্যক্তির দ্বারাও আল্লাহ রোগীকে আরোগ্য দান করেন। তবে, রুকইয়াহকারীর খাদ্য-পানীয় ও উপার্জন যদি সম্পূর্ণ হারাম হয়, তাহলে তার দু‘আ কবুল না হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘ সফরে থাকে, অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম—তখন তার দু‘আ কবুল হয় না। (সহীহ মুসলিম: ১০১৫)

  • সহযোগিতার গুনাহ: তাদের কাছ থেকে রুকইয়াহ করানো মানে তাদের এই হারাম ব্যবসায়িক মডেলকে সমর্থন করা এবং তাদের আয়ের উৎসকে বৈধতা দেওয়া। যেহেতু তারা হারাম মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কাস্টমার আকর্ষণ করে, তাই তাদেরকে পয়সা দেওয়া পরোক্ষভাবে সেই হারাম কাজে সহযোগিতা করার নামান্তর। এ কারণে এটি মাকরূহ তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি অপছন্দনীয়) হবে।

৪. ফিকহী নীতিমালা: হানাফি ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী)-এ উল্লেখ আছে, কোনো ব্যক্তির উপার্জন যদি সম্পূর্ণ হারাম হয়, তবে তার নিকট থেকে কোনো সেবা গ্রহণ করা মাকরূহ। তবে যদি সে ব্যক্তি জ্ঞান-গুণে অনন্য হয় এবং তার বিকল্প না থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয়তার তাগিদে সেটি গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে তা গুনাহের সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫৫০)

৫. করণীয় ও পরামর্শ:

  • সর্বোত্তম পন্থা: অন্য কোনো খাঁটি, আলেম ও মুত্তাকী (পরহেজগার) ব্যক্তির কাছে রুকইয়াহ করান। যার আয়-উপার্জন ও পদ্ধতি উভয়ই শরিয়তসম্মত।
  • যদি বিকল্প না থাকে: যদি আপনার এলাকায় অন্য কোনো ভালো রুকইয়াহ সেন্টার না থাকে এবং এই সেন্টারটিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য (পদ্ধতিগত দিক থেকে) হয়, তাহলে আপনি তাদেরকে এই হারাম মার্কেটিং বন্ধ করার উপদেশ দিন। প্রয়োজনে তাদের কাছে জানিয়ে দিন যে, হারাম মার্কেটিংয়ের কারণে অনেকে তাদের কাছে আসতে আগ্রহী নয়। যদি তারা তাওবা করে পদ্ধতি পরিবর্তন করে, তবে তাদের কাছ থেকে রুকইয়াহ করানো জায়েয হবে।
  • নিজের ঈমান রক্ষা: মনে রাখবেন, রুকইয়াহকারী মাধ্যম মাত্র। প্রকৃত আরোগ্য দাতা একমাত্র আল্লাহ। তাই আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং হালাল উপায়ে চিকিৎসা গ্রহণের চেষ্টা করুন।

সারকথা: তাদের হারাম মার্কেটিংয়ের কারণে রুকইয়াহর মূল চিকিৎসা পদ্ধতি অকার্যকর হবে না, তবে তাদের এই গুনাহের কাজে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা আপনার জন্য গুনাহের কাজ হবে। তাই অন্য হালাল ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা খুঁজে নেওয়াই আপনার জন্য আবশ্যক।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.