পাত্র-পাত্রী পজিটিভ থাকলে ইস্তিখারা কি জরুরি?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
ইস্তিখারা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়েছে, পাত্র-পাত্রী উভয়েই সম্বন্ধটাতে অন্তরে পজিটিভ অনুভব করছে। এখন কি আর ইস্তিখারা করার প্রয়োজনীয়তা আছে?
উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ইস্তিখারা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং প্রতিটি বৈধ কাজে তা করা সুন্নত। পাত্র-পাত্রী উভয়ে পজিটিভ অনুভব করলেও ইস্তিখারা করার প্রয়োজনীয়তা থাকে। কারণ ইস্তিখারা শুধুমাত্র "ভালো-মন্দ বাছাই" করার জন্য নয়, বরং এটি আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনার একটি মাধ্যম।
ইস্তিখারার প্রকৃত অর্থ
ইস্তিখারা অর্থ হলো আল্লাহর নিকট কল্যাণ কামনা করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামায পড়ে... তারপর এই দোয়া পড়ে: 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বিইলমিকা...'" (সহীহ বুখারী: ১১৬২)
পজিটিভ অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও ইস্তিখারার প্রয়োজনীয়তা
১. ইস্তিখারা একটি ইবাদত - এটি শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণের হাতিয়ার নয়, বরং একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।
২. অন্তরের প্রশান্তি - পজিটিভ অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও ইস্তিখারা করলে অন্তরের প্রশান্তি আরও বৃদ্ধি পায় এবং এই সিদ্ধান্তে বরকত আসে।
৩. ভবিষ্যতের অজানা বিষয় - মানুষ ভবিষ্যত জানে না। বর্তমানে পজিটিভ অনুভূতি থাকলেও ভবিষ্যতে কী হবে তা আল্লাহই ভালো জানেন। তাই আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করা জরুরি।
৪. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা - হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে সব কাজে ইস্তিখারা শেখাতেন, যেমন তিনি কুরআনের সূরা শেখাতেন। (সহীহ বুখারী: ৬৩৮২)
ইস্তিখারার ফলাফল
ইস্তিখারার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম হলো - যে দিকে অন্তরের প্রবণতা সৃষ্টি হয় বা যে বিষয়ে সহজতা অনুভূত হয়, সেটিই গ্রহণ করা। যদি পাত্র-পাত্রী উভয়েই পজিটিভ অনুভব করে এবং পারিবারিকভাবে সবাই সম্মত থাকে, তবে এটি ইস্তিখারার ফলাফল হিসেবেই গণ্য হতে পারে।
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর দৃষ্টিভঙ্গি
ইমাম আবু হানিফা রহ. এবং হানাফি ফিকহের আলেমগণ ইস্তিখারাকে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) বলেছেন। তবে তারা বলেছেন, ইস্তিখারা কোনো ওয়াজিব নয়, বরং একটি মুস্তাহাব আমল। (বাদায়েউস সানায়ি: ২/২৮৮)
ফাতাওয়া উসমানি থেকে
মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি দামাত বারাকাতুহুম লিখেছেন:
"ইস্তিখারা করার পর যদি অন্তরে কোনো দিকের প্রতি প্রবণতা সৃষ্টি হয় বা কোনো বিষয়ে সহজতা অনুভূত হয়, তবে সেটিই গ্রহণ করা উচিত। তবে যদি কোনো দিকেই বিশেষ প্রবণতা না হয়, তাহলে যেটি মনে হয় ভালো, সেটি করা যেতে পারে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে।"
বাস্তব নির্দেশনা
১. পাত্র-পাত্রী উভয়েই পজিটিভ অনুভব করছে - এটি একটি ভালো লক্ষণ। ২. তবুও দুই রাকাত নফল নামায পড়ে ইস্তিখারার দোয়া করা উচিত। ৩. ইস্তিখারার পর যে দিকে অন্তরের প্রশান্তি থাকে, সেটিই গ্রহণ করা। ৪. ইস্তিখারার অর্থ এই নয় যে, স্বপ্নে কিছু দেখতে হবে বা বিশেষ কোনো ইশারা পেতে হবে। বরং অন্তরের প্রশান্তি ও কাজের সহজতাই ইস্তিখারার ফলাফল।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
হ্যাঁ, পাত্র-পাত্রী পজিটিভ অনুভব করলেও ইস্তিখারা করা উচিত। কারণ এটি একটি সুন্নত আমল এবং এর মাধ্যমে বরকত লাভ হয়। তবে মনে রাখতে হবে, ইস্তিখারা করার অর্থ এই নয় যে বর্তমান সিদ্ধান্ত ভুল; বরং এটি আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনার একটি মাধ্যম। ইস্তিখারার পর অন্তরের প্রশান্তি ও কাজের সহজতা থাকলে সেটিই ইস্তিখারার ফলাফল হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।