পূর্বে হায়েযের কত দিন পর নতুন হায়েয গণনা করা হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4961
Questioner: Taslima Islam
Question Asked: 04 Sep 2026, 06:54 PM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 07:29 PM
Views: 12
Tokens: 3,434
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

লাস্ট ১৮ আগস্ট হায়েজ শেষ হলে ২৭ আগস্ট ইস্তেহাজা ব্লিডিং শুরু হয়।হায়েজের হিসেবে এই ইস্তেহাজার সময় ধরেছি ১৫ দিন পর্যন্ত মানে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর ১৬তম দিন খয়রি রঙের স্রাব যায় এবং ১৭ তম দিনে মাগরিবের সময় সাদা স্রাবের সাথে খুবই নগন্য লাল দেখা যায়।এখন এটা কি হয়েজ বলে গন্য হবে? আমার করণীয় কি? হায়েজ নুন্যতম ৩দিন থাকতে হয়!

Answer

উত্তর দেওয়ার পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট: আপনি যে পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন, তা অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ফিকহের জটিল মাসআলা। যেহেতু এটি একজন নারীর পবিত্রতা ও নামাজ-রোজার সাথে সম্পর্কিত, তাই দয়া করে এই উত্তরটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং আপনার স্থানীয় কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করুন।


১. তারিখ ও স্রাবের অবস্থা বিশ্লেষণ (Timeline Analysis):

  • ১৮ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট (৯ দিন): এটি আপনার পূর্ববর্তী হায়েয শেষ হওয়ার পর মাত্র ৯ দিন অতিবাহিত হয়েছে। হানাফী ফিকহের অকাট্য নিয়ম অনুযায়ী, দুটি হায়েযের মধ্যবর্তী পবিত্রতা (তুহর)-এর সর্বনিম্ন মেয়াদ হলো ১৫ দিন। যেহেতু এই ৯ দিনের মাথায় ব্লিডিং শুরু হয়েছে, তাই ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া স্রাবটি নিশ্চিতভাবেই ইস্তেহাযা বা রোগজনিত রক্ত। আপনি ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিনের পবিত্রতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার হিসাব ধরে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরো ব্লিডিংকে ইস্তেহাযা ধরেছেন, যা সম্পূর্ণ সঠিক ও শরীয়তসম্মত হয়েছে
  • ৩ সেপ্টেম্বর ও ৪ সেপ্টেম্বর (১৬ ও ১৭ তম দিন): ২ সেপ্টেম্বর আপনার ১৫ দিন পবিত্রতার ন্যূনতম মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে । এরপর ৩ সেপ্টেম্বর (১৬তম দিন) খয়রি রঙের স্রাব এবং ৪ সেপ্টেম্বর (১৭তম দিন) মাগরিবের সময় সাদা স্রাবের সাথে খুবই সামান্য লাল দেখা গেছে। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, রক্ত ছাড়াও লাল, খয়রি (মাটি বরণ), হলুদ, সবুজ বা ধূসর রঙের যেকোনো স্রাবও হায়েযের রক্ত হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতার পর এই রঙিন স্রাব দেখা গেছে, তাই আপাতত এটিকে নতুন হায়েয হিসেবেই গণ্য করা হবে

২. আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ করণীয় (Actionable Steps):

৩ সেপ্টেম্বর থেকে আপনার হায়েযের রঙের স্রাব দেখা দেওয়ায় আপনার ওপর বর্তমান হুকুম ও করণীয় নিম্নরূপ:

  • ১. নামায-রোযা আপাত বন্ধ রাখা: ৩ সেপ্টেম্বর থেকে যেহেতু স্রাব দেখা গেছে, তাই বর্তমানে আপনি নামায পড়া ও রোযা রাখা বন্ধ রাখবেন
  • ২. ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করা: হায়েযের ন্যূনতম সময়সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা)। আপনার এই স্রাবটি চূড়ান্তভাবে হায়েয সাব্যস্ত হবে কি না, তা নির্ভর করছে স্রাবটি ৩ দিন পূর্ণ করে কি না তার ওপর:
    • অবস্থা ক (যদি ৩ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই স্রাব বন্ধ হয়ে যায়): আপনি যেহেতু ৪ সেপ্টেম্বর মাগরিবের সময় খুবই সামান্য লাল দেখেছেন; যদি এরপর থেকে আপনার স্রাব সম্পূর্ণ পরিষ্কার বা সাদা হয়ে যায় এবং নতুন করে কোনো রঙিন স্রাব (খয়রি বা লাল) না আসে—অর্থাৎ ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) পূর্ণ হওয়ার আগেই স্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটি হায়েয বলে গণ্য হবে না।
      • করণীয়: এমতাবস্থায় এটিও ইস্তেহাযা হিসেবে সাব্যস্ত হবে। স্রাব বন্ধ হওয়া মাত্রই আপনি সাধারণ ওযু করে নামায পড়া শুরু করবেন (এজন্য গোসল করতে হবে না)। আর ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হায়েয মনে করে যে কয় ওয়াক্ত নামায আপনি পড়েননি, সেগুলোর কাযা আদায় করে নিতে হবে
    • অবস্থা খ (যদি স্রাব ৩ দিন বা তার বেশি স্থায়ী হয়): যদি ৩ সেপ্টেম্বর স্রাব শুরু হওয়ার সময় থেকে নিয়ে বিরতি দিয়ে হলেও স্রাব বা রঙিন দাগ ৫ সেপ্টেম্বর বা তার পর পর্যন্ত (কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা) অব্যাহত থাকে এবং ১০ দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই হায়েয বলে সাব্যস্ত হবে ।
      • করণীয়: স্রাব সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হওয়ার পর আপনি গোসল ফরয হওয়ার নিয়তে গোসল করে নামায শুরু করবেন। এই সূরতে আপনার ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর কোনো কাযা আদায় করতে হবে না

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. নূরুল ঈযাহ (বাংলা অনুবাদ সহ):

  • পৃষ্ঠা: ৪৬-৪৭ (হায়েয, নেফাস ও ইস্তেহাযা পরিচ্ছেদ — হায়েয ও পবিত্রতার মেয়াদ এবং নিষিদ্ধ কাজসমূহের বিবরণ)। (ইবারত: "হায়েযের সর্ব নিম্ন সময় তিন দিন... এবং সর্বোচ্চ সময় দশ দিন... দুটি হায়েযের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় পনের দিন।")

২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড - বাংলা অনুবাদ):

  • পৃষ্ঠা: ১১৩-১১৪ (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — ১ম অনুচ্ছেদ: হায়েযের বিবরণ ও বিধি-বিধান)। (ইবারত: "হায়েযের রক্ত ছয় রঙ-এর কোন এক রঙ বিশিষ্ট হওয়া আবশ্যক। যেমন, লাল, হলুদ, মাটি বরণ, সবুজ এবং ধূসর বর্ণ।")

আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.