”আমি তোরে মোবাইল এর জন্য তালাক দিলাম”, ”তোরে তালাক দিছি তোর মতো চল”, বন্দুর কাছে বলা, ”আমি বউরে তালাক দিছি” এখন সর্বমোট কত তালাক হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
4945
Questioner:
Abdur Rahman
Question Asked:
04 Sep 2026, 02:52 PM
Reviewed & Published:
04 Sep 2026, 03:53 PM
Views:
33
Tokens:
2,400
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
কেউ যদি তার বউকে বলে আমি তোরে মোবাইল এর জন্য তালাখ দিলাম এর পরে বলে তোরে তালাক দিছি তোর মতো চল আবার বন্দুর কাছে বললো আমি বউরে তালাক দিছি এখন কয় তালাক হবে সব মিলিয়ে
Answer
তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ
একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলেছে:
- "আমি তোরে মোবাইলের জন্য তালাক দিলাম"
- এরপর বলেছে "তোরে তালাক দিছি, তোর মতো চল"
- বন্ধুর কাছে বলেছে "আমি বউরে তালাক দিছি"
এখন জানতে চাওয়া হয়েছে মোট কয়টি তালাক হবে?
উত্তর
১. প্রথম উক্তির হুকুম ("আমি তোরে মোবাইল এর জন্য তালাখ দিলাম"):
- শরয়ী ফয়সালা: এই উক্তির দ্বারা আপনাদের দাম্পত্যে ১টি তালাকে রাজয়ী (প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাক) পতিত হয়েছে ।
- কারণ: হানাফী ফিকহের অকাট্য মূলনীতি অনুযায়ী, "তালাক দিলাম" শব্দটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সরীহ বা স্পষ্ট শব্দ । আর স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ করার সময় তালাকের নিয়ত বা ইচ্ছা থাকা শর্ত নয়; বরং রাগের মাথায়, ঠাট্টাচ্ছলে বা যেকোনো ওজরে (যেমন মোবাইলের ওজর) মুখে উচ্চারণ করলেই তালাক কার্যকর হয়ে যায় ।
- উৎস কিতাব ও পৃষ্ঠা:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২৬৬-২৬৮ (তালাক ও ডিভোর্সের শরয়ী বিধান অধ্যায়) ।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৫৪ (কিতাবুত তালাক — স্পষ্ট তালাক পরিচ্ছেদ)।
২. দ্বিতীয় উক্তির হুকুম ("তোরে তালাক দিছি তোর মতো চল"):
- শরয়ী ফয়সালা: এই উক্তির দ্বারা দাম্পত্যে আরও ১টি (দ্বিতীয়) তালাকে রাজয়ী পতিত হয়েছে।
- কারণ:
- "তোরে তালাক দিছি" বাক্যটি দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করার কারণে দাম্পত্যে আরেকটি স্পষ্ট বা সরীহ তালাক পতিত হয়েছে । প্রথম তালাকের পর স্ত্রী ইদ্দতকাল অতিক্রম করার পূর্বে স্বামীর বৈবাহিক সম্পর্কের অধীনেই থাকে । ফলে সে পুনরায় তালাক গ্রহণের জন্য উপযুক্ত মহল বা পাত্রী হিসেবে বহাল থাকে [১৮১, ১৮৪]।
- আর বাক্যের শেষাংশ "তোর মতো চল" কথাটি কিনায়া বা অস্পষ্ট শব্দ হলেও, তা এই দ্বিতীয় সরীহ তালাকেরই ব্যাখ্যা বা অনুগামী হিসেবে গণ্য হবে; এর দ্বারা পৃথক কোনো ৩য় তালাক হবে না।
- উৎস কিতাব ও পৃষ্ঠা:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২৬৭ (তালাকের প্রকারভেদ অনুচ্ছেদ) ।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৭৪-৩৭৫ (কিনায়াত পরিচ্ছেদ) ।
৩. বন্ধুর কাছে বলার হুকুম ("আমি বউরে তালাক দিছি"):
- শরয়ী ফয়সালা: স্বামী তার বন্ধুর কাছে বা অন্য কারো কাছে পূর্বে ঘটে যাওয়া তালাকের যে সংবাদ বা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তার কারণে দাম্পত্যে নতুন করে কোনো (৩য়) তালাক পতিত হবে না ।
- কারণ: শরীয়তের পরিভাষায় একে 'ইকরার' (সংবাদ দেওয়া বা স্বীকারোক্তি) বলা হয় । পূর্বে নিজের স্ত্রীকে যে তালাক স্বামী অলরেডি দিয়েছেন, কেবল তারই সংবাদ বা তথ্য বন্ধুর কাছে প্রকাশ করেছেন। ইতিপূর্বে কার্যকর হওয়া তালাকের তথ্য পুনরায় অন্য কারো কাছে উল্লেখ করলে নতুন কোনো তালাক পতিত হয় না।
- উৎস কিতাব ও পৃষ্ঠা:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২৭১ (প্রচলিত কাবিননামা ও তালাকের খবর পরিচ্ছেদ) ।
- সিরাজী ফিল মিরাস (হাশিয়াসহ): পৃষ্ঠা ৫৩ (ইকরার ও তালাকের সংবাদ প্রকাশ পরিচ্ছেদ)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১২শ খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৩৩ (ইকরারুত তালাক অধ্যায়)।
চূড়ান্ত ফলাফল ও বর্তমান সমাধান:
সব মিলিয়ে আপনাদের দাম্পত্য জীবনে সর্বমোট ২টি (দুইটি) তালাকে রাজয়ী পতিত হয়েছে। যেহেতু ৩টি তালাক পূর্ণ হয়নি, সেহেতু বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি (তালাকে মুগাল্লাযা হয়নি)।
- ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে (করণীয়): তালাক প্রদানের সময় থেকে নিয়ে স্ত্রীর ৩ হায়েয (ঋতুস্রাব) অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে স্বামী চাইলে মুখে (যেমন: "তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম") বা আচরণের মাধ্যমে রুজূ' (স্ত্রীকে নিজের দাম্পত্যে ফিরিয়ে নেওয়া) করতে পারবেন । রুজূ' করার সাথে সাথে আপনাদের বিবাহ আগের মতোই বহাল হয়ে যাবে ।
- ইদ্দত শেষ হওয়ার পরে (করণীয়): যদি ইদ্দতকাল (৩ হায়েয সময়সীমা) পার হয়ে যায়, তবে আপনারা চাইলে অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়া বা হীলা করা ছাড়াই— উভয় পক্ষ সম্মত থাকলে সম্পূর্ণ নতুন মোহর এবং নতুন আকদের (বিবাহের) মাধ্যমে পুনরায় নতুন করে সংসার শুরু করতে পারবেন।
(সতর্কতা: এই ঘটনার পর স্বামী আর কেবল ১টি তালাকের মালিক হিসেবে বহাল থাকবেন। ভবিষ্যতে আর ১টি তালাক দিলেই স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে) ।
আল্লাহই ভালো জানেন।