মায়ের মনে ছেলের প্রতি খারাপ চিন্তা ও উত্তেজনা আসা নিয়ে ইসলামি বিধান।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার ছেলের বয়স ২ বছর হবে প্রায়। ওকে ব্রেস্ট ফিডিং করানোর সময় উত্তেজনা চলে আসে আবার গোসল করানোর সময় ও লিঙ্গ দেখলে কেমন যেন ফিল আসে খারাপ চিন্তা চলে আসে। এটা নিয়ে আমি চিন্তিত। হুরমত মুসাহারাত হয়ে যাবে কি? আমার বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে?
Answer
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবেনা।
আপনার বৈবাহিক সম্পর্কের উপর প্রভাব
আপনার স্বামীর সাথে আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বৈধ এবং এর উপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আপনার ছেলের প্রতি আপনার মাতৃত্বের সম্পর্ক আপনার স্বামীর সাথে আপনার দাম্পত্য সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমাধান
আপনি যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, এটি মূলত একটি মানসিক (ওয়াসওয়াসা) সমস্যা। শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে এবং নেককার মানুষদের মনে এমন খারাপ চিন্তা ঢুকিয়ে দেয় যাতে তারা অপরাধবোধে ভোগে এবং দ্বীন থেকে দূরে সরে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
"মানুষের মনে (খারাপ) চিন্তা আসা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতকে মাফ করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা উচ্চারণ করে বা কাজ করে।" (সহিহ বুখারি: ৫২৬৯, সহিহ মুসলিম: ১২৭)
আপনার করণীয়:
১. এটিকে গুরুত্ব দেবেন না: এই চিন্তাগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন। মনে রাখবেন, এটি শুধু শয়তানের প্ররোচনা। যত বেশি গুরুত্ব দেবেন, তত বেশি বাড়বে। ২. দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন: আপনার ছেলের সাথে আপনার সম্পর্ক সম্পূর্ণ বৈধ ও পবিত্র। এই অনুভূতি আপনার ঈমান বা আমলকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না। ৩. আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন: প্রতিদিন নামাজের পর এই দুআটি পড়ুন: > "আল্লাহুম্মা আ'ইযনী মিনাশ শাইতানির রাজিম" (অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। > "বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি, আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাজাকতানা" (আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর মাধ্যমে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদের দেওয়া সন্তান থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন)। ৪. ব্যস্ত থাকুন: এই ধরনের চিন্তা এলে সাথে সাথে অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দিন। যেমন: জিকির করা, কুরআন তিলাওয়াত করা বা অন্য কোনো গৃহস্থালি কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। ৫. কারো সাথে শেয়ার করুন: আপনার স্বামী বা কোনো বিজ্ঞ আলেমের সাথে বিষয়টি খুলে বলুন। এটি আপনার মন থেকে ভার কমিয়ে দেবে।
আল্লাহ তায়ালা আপনাকে এই ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি দিন এবং আপনার পরিবারে শান্তি বজায় রাখুন। আমিন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।