স্ত্রী কর্তৃক শর্ত

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4823
Questioner: Md. Yousuf Ali
Question Asked: 02 Sep 2026, 03:26 PM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 03:35 PM
Views: 15
Tokens: 2,562
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

তালাকের অধিকার প্রাপ্ত স্ত্রী যদি বলে, তুমি অমুক মেয়ের সাথে কথা বললে, তোমার সাথে সংসার করব না, স্বামী যদি তা মেনে নেয় এবং পরে যদি স্বামী সেই কাজ করে, তবে কি তালাক হবে?

Answer

স্ত্রী কর্তৃক শর্ত আরোপ ও তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে তালাক সংঘটিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে শর্তের প্রকৃতি ও স্বামীর সম্মতির উপর। এখানে কয়েকটি বিষয় বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন:

প্রথম অবস্থা: স্ত্রী যদি বলে, "তুমি অমুক মেয়ের সাথে কথা বললে, তোমার সাথে সংসার করব না" — এটি একটি শর্তসাপেক্ষ বক্তব্য। কিন্তু এখানে "তালাক" শব্দটি উল্লেখ নেই। স্ত্রী শুধু বলেছে যে সে সংসার করবে না।

দ্বিতীয় অবস্থা: স্বামী যদি তা মেনে নেয় (অর্থাৎ শর্তে সম্মত হয়) এবং পরে সেই কাজ (অমুক মেয়ের সাথে কথা বলা) করে, তাহলে কী হবে?

হানাফি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, তালাকের ক্ষমতা প্রাপ্ত স্ত্রী যদি তালাকের শর্ত আরোপ করে এবং স্বামী তা মেনে নেয়, তবে শর্ত লঙ্ঘন করলে তালাক পতিত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে শর্তের ভাষার উপর।

১. যদি স্ত্রী স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দ ব্যবহার করে শর্তারোপ করে, যেমন: "তুমি অমুক মেয়ের সাথে কথা বললে, আমার উপর তালাক" অথবা "তুমি অমুক কাজ করলে, তোমার তালাক" — তাহলে স্বামী সম্মত হলে এবং পরবর্তীতে শর্ত লঙ্ঘন করলে তালাক পতিত হবে।

২. কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখিত বক্তব্যে "তালাক" শব্দটি নেই, স্ত্রী শুধু বলেছে "সংসার করব না"। এটি তালাকের ইঙ্গিতবাচক (কিনায়া) শব্দ হিসেবে গণ্য হতে পারে, তবে এক্ষেত্রে নিয়ত (ইচ্ছা) গুরুত্বপূর্ণ।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, স্ত্রী কর্তৃক আরোপিত শর্তে তালাক পতিত হওয়ার জন্য শর্তটি স্পষ্টভাবে তালাকের সাথে সংযুক্ত হতে হবে। স্ত্রী যদি তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে এবং শর্ত লঙ্ঘনের সাথে তালাক জড়িত থাকে, তবে শর্ত লঙ্ঘনে তালাক পতিত হবে।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত

তাঁদের মতে, স্ত্রী তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে এবং শর্ত লঙ্ঘন করলে তালাক পতিত হবে, যদি শর্তটি স্পষ্ট হয় এবং উভয় পক্ষ তা মেনে নেয়।

আমাদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত

প্রশ্নে উল্লেখিত বক্তব্যে স্ত্রী বলেছে: "তুমি অমুক মেয়ের সাথে কথা বললে, তোমার সাথে সংসার করব না" — এখানে স্ত্রী তালাকের শর্ত আরোপ করেনি, বরং সংসার না করার হুমকি দিয়েছে। স্বামী তা মেনে নিলে এবং পরে সেই কাজ করলে:

  • যদি স্ত্রীর নিয়ত তালাকের থাকে এবং স্বামী শর্তে সম্মত হয়ে থাকে, তবে কিছু ফুকাহার মতে শর্ত লঙ্ঘনে তালাক পতিত হতে পারে।
  • কিন্তু যদি স্ত্রীর নিয়ত তালাকের না হয়ে থাকে এবং সে শুধু হুমকি দিয়ে থাকে, তবে শর্ত লঙ্ঘনে তালাক পতিত হবে না।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.)-এর বক্তব্য

রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে উল্লেখ আছে:

"إذا فوض الزوج الطلاق إلى امرأته فقالت: إن كلمت فلانة فأنت طالق، فقبل الزوج، ثم كلمها وقع الطلاق"

অর্থাৎ: "যখন স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয় এবং স্ত্রী বলে, 'তুমি অমুক নারীর সাথে কথা বললে তুমি তালাক', আর স্বামী তা গ্রহণ করে, এরপর সে (স্বামী) তার সাথে কথা বলে, তাহলে তালাক পতিত হবে।"

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে কি না এবং শর্তে তালাকের উল্লেখ আছে কি না।

আমাদের প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত বক্তব্যে স্ত্রী "তালাক" শব্দ ব্যবহার করেনি, বরং বলেছে "সংসার করব না"। এটি তালাকের কিনায়া (ইঙ্গিতবাচক) শব্দ হতে পারে, কিন্তু কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত প্রয়োজন।

তাই, যদি স্ত্রীর নিয়তে তালাক না থাকে এবং সে শুধু হুমকি দিয়ে থাকে, তবে স্বামী শর্ত লঙ্ঘন করলে তালাক পতিত হবে না। তবে যদি স্ত্রীর নিয়তে তালাক থাকে এবং স্বামী শর্তে সম্মত হয়, তাহলে শর্ত লঙ্ঘনে তালাক পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

এই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে স্থানীয় মুফতি বা ইসলামি স্কলারের সাথে সরাসরি পরামর্শ করা উচিত, কারণ বক্তার নিয়ত ও প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.