বিয়ের আগে শর্ত দিলে তালাক পতিত হবে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4797
Questioner: Zxc
Question Asked: 02 Sep 2026, 06:52 AM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 08:28 AM
Views: 7
Tokens: 2,697
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিয়ের আগে কেউ একাধিক শত যেমন ধরেন কেউ বলো বিয়ের পর তার বোও তার মায়ের সাথে ঝগড়া ছামেলা অতিরিক্ত পড়িমানে করলে ডিভোর্স বা যদি কুলামা শব্দ থেকে থাকে হানাফি মাজহাবে কেন এর থেকে বাচার উপাই নেই

Answer

বিয়ের শর্ত ও তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন: বিয়ের আগে কেউ যদি শর্ত করে যে, বিয়ের পর স্ত্রী শাশুড়ির সাথে ঝগড়া বা অতিরিক্ত সমস্যা করলে তালাক দেওয়া হবে—এমন শর্তে কি তালাক পতিত হবে? এবং হানাফি মাযহাবে এর থেকে বাঁচার উপায় আছে কি?

হানাফি মাযহাবের উত্তর

১. শর্তযুক্ত তালাকের বিধান

হানাফি মাযহাবের নিয়ম অনুযায়ী, তালাককে শর্তের সাথে যুক্ত করা জায়েয। যেমন কেউ বলল, "যদি তুমি শাশুড়ির সাথে ঝগড়া করো, তাহলে তুমি তালাক" — এই ধরনের শর্তযুক্ত তালাক বৈধ এবং শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হবে।

রদ্দুল মুহতার (শামী) -এ উল্লেখ আছে:

"إذا علق الطلاق بشرط وجد الشرط وقع الطلاق" "যখন তালাককে শর্তের সাথে সংযুক্ত করা হয় এবং শর্ত পাওয়া যায়, তখন তালাক পতিত হয়।"

২. শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হবে

যদি কেউ বিয়ের আগে শর্ত করে যে, "বিয়ের পর স্ত্রী শাশুড়ির সাথে ঝগড়া করলে সে তালাক" — এবং বিয়ের পর সেই শর্ত পূরণ হয় (অর্থাৎ স্ত্রী শাশুড়ির সাথে ঝগড়া করে), তাহলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তালাক পতিত হয়ে যাবে।

ফাতাওয়া আলমগীরী -তে আছে:

"إذا قال لامرأته إن دخلت دار فلان فأنت طالق فدخلت وقع الطلاق" "যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে, 'যদি তুমি অমুকের ঘরে প্রবেশ করো, তবে তুমি তালাক' — এরপর সে যদি ঐ ঘরে প্রবেশ করে, তাহলে তালাক পতিত হবে।"

৩. বাঁচার উপায়

হানাফি মাযহাবে এই ধরনের শর্ত থেকে বাঁচার কিছু উপায় রয়েছে:

ক. শর্ত পূরণ না করা: সবচেয়ে সহজ উপায় হলো শর্তটি পূরণ না করা। অর্থাৎ স্ত্রী যদি শাশুড়ির সাথে ঝগড়া না করে, তাহলে তালাক পতিত হবে না।

খ. তালাকের নিয়ত: যদি শর্তযুক্ত তালাকের ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তাহলে নিয়তের উপর নির্ভর করা যেতে পারে। যেমন কেউ যদি রাগের মাথায় শর্ত করে এবং পরে বলে যে, আমার নিয়ত ছিল না, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে তালাক পতিত নাও হতে পারে।

গ. শর্ত মাফ করা: ইসলামি আইনে, শর্তদাতা যদি নিজেই শর্তটি মাফ করে দেয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে শর্ত পূরণের আগে মাফ করলে তালাক পতিত হবে না।

৪. গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) -এর মতে, শর্তযুক্ত তালাক শর্ত পূরণের সাথে সাথে পতিত হয়। তবে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) -এর মতে, কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন মত রয়েছে।

ইমদাদুল ফাতাওয়া -তে মুফতি রশিদ আহমদ গাঙ্গোহী (রহ.) উল্লেখ করেছেন:

শর্তযুক্ত তালাকের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হওয়া নিশ্চিত।

বাস্তব সমাধান

১. বিয়ের আগে শর্ত না রাখা: ইসলামি দৃষ্টিকোণে বিয়ের আগে এই ধরনের শর্ত রাখা উচিত নয়। কারণ এটি পরিবারে অশান্তি সৃষ্টির কারণ হতে পারে।

২. পারিবারিক সমাধান: ঝগড়া-ঝাটি এড়াতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহনশীলতা ও সমঝোতার চেষ্টা করা উচিত।

৩. মধ্যস্থতা: সমস্যা হলে পরিবারের বড়রা বা আলেমদের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করা উচিত।

৪. তালাক এড়ানোর চেষ্টা: তালাক আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল কাজ। তাই তালাক এড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত।

উপসংহার

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, বিয়ের আগে শর্তযুক্ত তালাকের ঘোষণা দিলে এবং শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হবে। এর থেকে বাঁচার প্রধান উপায় হলো শর্ত পূরণ না করা। তবে উত্তম হলো বিয়ের আগে এই ধরনের শর্ত না রাখা এবং পারিবারিক সমস্যা সমাধানে ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী терпение ও সহনশীলতা অবলম্বন করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.