মাযহাব পরিবর্তন করা কি যাবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4767
Questioner: Fhj Gyrt
Question Asked: 01 Sep 2026, 07:24 PM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 07:51 PM
Views: 9
Tokens: 2,033
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কেউ হানাফি মাজহাবে ছেড়ে সালাফি মাজহাব গোহন করলে কি করনিও

Answer

হানাফি মাজহাব ছেড়ে সালাফি মাজহাব গ্রহণ করা প্রসঙ্গে

উত্তর

প্রশ্নকারী ভাই/বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি জানতে চেয়েছেন যে, কেউ যদি হানাফি মাজহাব ছেড়ে সালাফি মাজহাব গ্রহণ করে, তাহলে কী করণীয়?

মূলনীতি


১. নির্দিষ্ট মাযহাবের তাকলীদ বা অনুসরণের আবশ্যকতা:

  • শরয়ী হুকুম: সাধারণ মানুষ—যারা সরাসরি কুরআন ও হাদীসের জটিল বিধানসমূহ এবং দলীলের গভীরতা বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা রাখে না, তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসরণ (তাকলীদ) করা অবধারিত ও আবশ্যক । ফিকহ ও মাযহাব মূলত কুরআন-সুন্নাহরই সঠিক ও সংকলিত ব্যাখ্যা, যা মুজতাহিদ ইমামগণ উম্মতের আমল সহজ করার উদ্দেশ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
  • ৪ মাযহাবের ওপর ইজমা (ঐকমত্য): উম্মতের নির্ভরযোগ্য ফকীহগণের ঐকমত্য অনুযায়ী, সুশৃঙ্খল ও সুসংকলিত হওয়ার কারণে চার প্রসিদ্ধ মাযহাবের (হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী) বাইরে গিয়ে অন্য কোনো নতুন বা ভিন্নমতের ওপর আমল করা সম্পূর্ণরূপে ইজমার পরিপন্থী ও নিষিদ্ধ ।
  • উৎস কিতাব ও পৃষ্ঠা:
    • কিতাব: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৩-২৪ ও পৃষ্ঠা: ২৭-২৮।
    • কিতাব: কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়া সহ), পৃষ্ঠা: ৩০০।

যেহেতু আহলে হাদীস মাযহাব অধিকাংশ মাসআলায় উপরুক্ত চার মাযহাবের যেকোনো একটি মত করে মতামত প্রদান করে, তাই কিছু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম সর্বমোট ৫ মাযহাবের মধ্যেই তাকলিদকে সীমাবদ্ধ করে থাকেন।


২. সালাফী বা লা-মাযহাবী মতবাদের ভ্রান্তি ও অযোগ্যদের ইজতিহাদের ক্ষতি:

  • শরয়ী বিশ্লেষণ: বর্তমান যুগে কিছু মানুষ ফিকহে মুজাররাদ বা মাসআলার মৌলিক স্তর পরিপক্ক করার আগেই সরাসরি দলীলভিত্তিক আমলের স্লোগান দিয়ে বিভ্রান্তিতে পতিত হচ্ছে। তারা মনে করে সামান্য আরবী ভাষা জানলেই সরাসরি ইজতিহাদ করা যায়, যা সালাফে সালেহীনের কর্মপদ্ধতির পরিপন্থী ।
  • পূর্ণ যোগ্যতা ছাড়া ফিকহে মুদাল্লাল (দলীলভিত্তিক গভীর মাসআলা) বা মাযহাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণে অনুপ্রবেশ করার কারণে তারা নিজেরা বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং মাযহাব ও মাযহাবের ইমামদের অবমূল্যায়ন করছেন।
  • উৎস কিতাব ও পৃষ্ঠা:
    • কিতাব: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৩-২৪ [২৪৮], পৃষ্ঠা: ২৪-২৫ [২৫১] ও পৃষ্ঠা: ২৫-২৬ [২৫৭]।

৩. এহেন পরিস্থিতিতে আপনার ও উক্ত ব্যক্তির করণীয়:

  • ক. তাকলীদের ওপর অটল থাকা ও ভিন্ন মত বর্জন করা: উক্ত ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো এক মাযহাব ছেড়ে অন্য মতবাদ গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা এবং পূর্বসূরি আকাবির ও নির্ভরযোগ্য ওলামাদের অনুসৃত মাযহাবের ওপর দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকা।

  • খ. অহেতুক বিতর্ক পরিহার করা: কিছু ভাই নিজেদের হক দাবি করে অন্যের দলীলভিত্তিক মতকে বাতিল আখ্যা দিয়ে বিবাদে লিপ্ত হতে চায় । কিন্তু মতবিরোধপূর্ণ শাখাগত মাসআলায় জোরপূর্বক বিবাদ করা বা ভর্ৎসনা করা সালাফের আমল ও সুন্নাহর পরিপন্থী । তাই তাদের সাথে কোনো প্রকার বিতর্কে লিপ্ত না হয়ে নম্রতা ও সহনশীলতার সাথে বিতর্ক এড়িয়ে চলাই কাম্য।

    • উৎস কিতাব ও পৃষ্ঠা:
      • কিতাব: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪২০, পৃষ্ঠা: ৪২১ ও পৃষ্ঠা: ৪২১-৪২২।
  • গ. যোগ্য ফকীহ উলামাদের সান্নিধ্য ও নেগরানী গ্রহণ করা: কোনো উস্তায ও ফকীহ ছাড়া সরাসরি নিজে কিতাব পড়ে ফতোয়া বা আমল নির্ধারণ করতে গেলে গোমরাহী ও পদস্খলনের চরম আশঙ্কা থাকে। তাই ইলমী বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে হলে দেওবন্দ বা দেওবন্দের আদর্শে আদর্শিত নির্ভরযোগ প্রতিষ্ঠানের হক্কানী ও বিজ্ঞ ফকীহ উলামায়ে কেরামের সান্নিধ্য অবলম্বন করতে হবে এবং যেকোনো মাসআলায় তাঁদের শরণাপন্ন হতে হবে।

    • উৎস কিতাব ও পৃষ্ঠা:
      • কিতাব: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩, পৃষ্ঠা: ৪০ ও পৃষ্ঠা: ৪১।

চূড়ান্ত নসীহত ও সিদ্ধান্ত: অতএব, হানাফি মাযহাব পরিত্যাগ করে সালাফী মতবাদ গ্রহণ করা অনুচিত। তবে মুজতাহিদ পর্যায়ের কেউ দলিলের বিশুদ্ধতা যাচাই বাচাই পূর্বক মাযহাব পরিবর্তন করতে পারবেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.