স্বামী স্ত্রী কে অন্যের নামে লিখে দেয়া প্রসঙ্গে।

Family Life · Hanafi

Question No: 4717
Questioner: MD AL IMRAN
Question Asked: 01 Sep 2026, 10:24 AM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 11:33 AM
Views: 24
Tokens: 2,337
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ

শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব,

আমার এক চাচা তার এক গ্রম্য নাবালেগ নাতি কে উদ্দেশ্য করে কাজগে লিখেছেন যে "তোমার জন্য আমি আমার বউকে লিখে দিলাম"

এই কথার দ্বারা কি তালাক বা অন্য কিছু পতিত হওয়ার সম্ভবনা আছে? দয়া করে জানালে অনেক ভালো হতো।

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ইসলামী আইনে তালাকের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। তালাক দিতে পারে শুধুমাত্র স্বামী (বা তার আইনগত প্রতিনিধি)। আপনার চাচা তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন, কিন্তু তিনি তার নাতিকে (নাবালেগ) উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, "তোমার জন্য আমি আমার বউকে লিখে দিলাম"।

এই কথার দ্বারা তালাক বা অন্য কোনো কিছু পতিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ:

১. তালাকের নিয়্যত (ইচ্ছা): তালাকের জন্য স্বামীর স্পষ্ট ইচ্ছা এবং নিয়্যত প্রয়োজন। এখানে চাচা তার নাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়্যতে নন। এটি একটি পারিবারিক কথোপকথন বা স্নেহের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

২. তালাকের ভাষা: ইসলামী ফিকহে তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হয় (যেমন: "তালাক দিলাম", "আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম")। "লিখে দিলাম" শব্দটি তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয় এবং এটি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি।

৩. নাবালেগ নাতির উদ্দেশ্য: তালাকের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। নাতিকে উদ্দেশ্য করে বলা কোনো কথা স্ত্রীর তালাকের কারণ হতে পারে না।

হানাফি ফিকহের আলোকে:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ (সরীহ) বা ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ (কিনায়া) ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু কিনায়া শব্দের ক্ষেত্রে নিয়্যত (ইচ্ছা) অপরিহার্য। এখানে তালাকের কোনো নিয়্যত নেই, তাই কোনো প্রভাব পড়বে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৯)
  • "লিখে দেওয়া" বা "দিয়ে দেওয়া" শব্দগুলো তালাকের কিনায়া শব্দ হিসেবে গণ্য নয়, বিশেষ করে যখন তা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় না।

সারসংক্ষেপ: আপনার চাচার এই কথার দ্বারা তার স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হবে না, এবং কোনো প্রকার গুনাহও হবে না। এটি একটি সাধারণ পারিবারিক কথোপকথন মাত্র। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ তালাকের শব্দ ব্যবহার করা গুরুতর বিষয় এবং ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। (আমিন)

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৩/২৮৯
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩
  • ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৬

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.