আমাদের সাথে কি শয়তান বলতে কারিন জ্বীনকে বোঝায়?
Faith and Belief · Hanafi
Question
এটাকি ফেরেশতা আর শয়তান? নাকি ভালো নফস আর খারাপ নফস?
নাকি তিন ধরনের নফসই ফুঁকে দেওয়া হয়েছে?
নাকি তাহলে একটি নফসেরই এই তিন ধরনের অবস্থা? নাকি নফসের এই তিন ধরনের অবস্থা আমাদের দ্বারা সংগঠিত? আর তাহলে এই নফসের অবস্থার সৃষ্টি হয় বাহিরের শয়তানের ওয়াসওয়াসার জন্য এবং নফস অবস্থান সৃষ্টি হয় ফেরেশতাদের ভালোর দিকে আহ্বানের জন্য?
কথাটা কা কি ঠিক আছে?
কেননা, শয়তানকে তো শিরা শিরায় প্রবেশ করে কুমন্ত্রণা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষই তো খারাপ কর্ম সম্পাদন করে। শয়তান তো শুধুমাত্র কুমন্ত্রণাই দিতে পারে। শয়তানই যদি কর্ম সম্পাদন করত তাহলে তো মানুষদের আর হিসাবের ফায়সালা হতনা। কিন্তু মানুষদেরকে শয়তান থেকে দূরে থাকারও শক্তি তো দেওয়া হয়েছে এই কারনেই তো হিসাব হবে। শয়তানের তো ওয়াসওয়াসা দেওয়া ছাড়া আর কোন ক্ষমতাই নেই।
তো, আমার নিচের কথাটি ঠিক আছে নাকি জানাবেন কষ্ট করে যে।
মানুষদের নফসের ফিতরাহ ই ভালো কাজ করবে। কিন্তু শয়তানই মানুষদেরকে কুপরামর্শ দেয় বলে মানুষ খারাপ কাজ করে। আর ফেরেশতারা ভালো পরামর্শ দেয় বলে মানুষ ভালো করে নাকি অটোমেটিক লিই নফসকে ভালো হিসেবে তৈরী করা হয়েছে?
ভালো হিসেবেই তৈরী না করা হয়ে থাকে তাহলে বারবার নফসের সংশোধন কেন বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই নফসটাই তো রুহ, এটাই তো আমি মানে জীবন না জীবিত অবস্থা।
অর্থাৎ, মানুষ ভালো মন
Answer
মানুষ, নফস, ফেরেশতা ও শয়তান সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর
ভূমিকা
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর। আপনি জানতে চেয়েছেন—মানুষের সাথে ফেরেশতা ও শয়তান থাকে কি না, নফসের প্রকৃতি কী, নফস কি ভালো হিসেবে সৃষ্ট বা খারাপ হিসেবে সৃষ্ট, এবং শয়তানের ভূমিকা কী। নিচে কুরআন, হাদিস এবং হানাফি আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
১. মানুষের সাথে ফেরেশতা ও শয়তানের অবস্থান
হ্যাঁ, প্রতিটি মানুষের সাথে একজন ফেরেশতা (মালাক) এবং একজন শয়তান (ক্বরীন) সর্বদা থাকে। এটি কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
وَقَيَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَاءَ فَزَيَّنُوا لَهُمْ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ
"এবং আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করেছি সঙ্গী-সাথীদের (শয়তানদের), যারা তাদের সামনে ও পেছনের কাজগুলোকে শোভনীয় করে দেখায়।" (সূরা ফুসসিলাত: ২৫)
হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ
"তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার সাথে জিনদের মধ্য থেকে একজন সঙ্গী (শয়তান) এবং ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন সঙ্গী নিযুক্ত নেই।" (সহীহ মুসলিম: ২৮১৪)
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার সাথেও কি আছে, হে আল্লাহর রাসূল?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর বিজয়ী করেছেন, তাই সে ইসলাম গ্রহণ করেছে (আমার অনুগত), ফলে সে আমাকে ভালো ছাড়া আর কিছুই আদেশ করে না।" (সহীহ মুসলিম: ২৮১৪)
২. নফসের তিনটি স্তর
নফস বলতে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্ত্বাকে বোঝায়, যা ভালো-মন্দ উভয় দিকের প্রতি আকর্ষণ রাখে। নফসের তিনটি স্তর রয়েছে:
ক. নফসে আম্মারা (নফসে আম্মারা বিস্সূ)
এটি নফসের সেই অবস্থা যা মন্দ কাজের আদেশ দেয় এবং খারাপ প্রবৃত্তির দিকে টানে।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ
"নিশ্চয়ই মানুষের নফস মন্দ কাজের আদেশ দেয়।" (সূরা ইউসুফ: ৫৩)
খ. নফসে লাওওয়ামা (নফসে লাওওয়ামা)
এটি নফসের সেই অবস্থা যখন মানুষ ভুল করলে নিজেকে ধিক্কার দেয় এবং অনুতপ্ত হয়।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ
"আমি শপথ করছি সেই নফসের, যা নিজেকে ধিক্কার দেয় (অনুতপ্ত হয়)।" (সূরা আল-কিয়ামাহ: ২)
গ. নফসে মুতমাইন্নাহ (নফসে মুতমাইন্নাহ)
এটি নফসের সর্বোচ্চ স্তর, যখন নফস আল্লাহর সন্তুষ্টিতে প্রশান্ত ও স্থির হয়।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً
"হে প্রশান্ত নফস! তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে যাও সন্তুষ্ট হয়ে এবং সন্তুষ্ট হয়ে।" (সূরা আল-ফাজর: ২৭-২৮)
৩. নফস কি ভালো হিসেবে সৃষ্ট নাকি খারাপ হিসেবে?
নফস মূলত ভালো ও মন্দ উভয় প্রবৃত্তি নিয়ে সৃষ্ট। এটি একটি নিরপেক্ষ সত্ত্বা, যা ভালো-মন্দ উভয় দিকের প্রতি আকর্ষণ রাখে। আল্লাহ তাআলা নফসের মধ্যে ভালো ও মন্দ উভয়ের জ্ঞান দিয়েছেন।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا
"শপথ নফসের এবং যিনি তা সুঠাম করেছেন, অতঃপর তাকে তার মন্দ ও ভালোর জ্ঞান দান করেছেন।" (সূরা আশ-শামস: ৭-৮)
ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: আল্লাহ প্রতিটি নফসকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং উভয় পথ দেখিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ
"প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে।" (সহীহ বুখারী: ১৩৮৫, সহীহ মুসলিম: ২৬৫৮)
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: ফিতরাত অর্থ ইসলাম ও তাওহীদের উপর সৃষ্টি। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ ইসলামের প্রকৃতির উপর জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু তারপর তার পরিবেশ ও লালন-পালন তাকে পরিবর্তন করে দেয়।
৪. শয়তানের ভূমিকা ও মানুষের দায়িত্ব
শয়তান শুধু কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) দিতে পারে, কিন্তু মানুষকে জোর করে খারাপ কাজ করাতে পারে না। মানুষের নিজস্ব ইচ্ছা ও পছন্দের উপরই তার কর্ম নির্ভর করে।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
إِنَّمَا النَّجْوَى مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا
"গোপন পরামর্শ তো শয়তানের কাজ, যাতে মুমিনরা দুঃখ পায়।" (সূরা আল-মুজাদালাহ: ১০)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي
"আর শয়তান বলবে যখন বিচারের কাজ শেষ হবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সাথে সত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমি তোমাদের সাথে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা ভঙ্গ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না, তবে আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে।" (সূরা ইবরাহীম: ২২)
এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে শয়তানের কোনো জোর-জবরদস্তি করার ক্ষমতা নেই, সে শুধু ডাকে এবং মানুষ তার ডাকে সাড়া দেয়।
৫. ফেরেশতাদের ভূমিকা
ফেরেশতারা মানুষের ভালো কাজে উৎসাহ দেন এবং তাদের জন্য দোয়া করেন।
হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ
"নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যারা রাস্তায় ঘুরে বেড়ান এবং যিকিরকারীদের খোঁজ করেন।" (সহীহ বুখারী: ৬৪০৮, সহীহ মুসলিম: ২৬৮৯)
আরও হাদিসে এসেছে:
مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، إِلَّا لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ
"যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলে: 'বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা'আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা'ই ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম' (যে আল্লাহর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ), তাকে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না।" (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮৮, তিরমিযী: ৩৩৮৮)
৬. নফসের সংশোধন কেন প্রয়োজন?
নফস ভালো ও মন্দ উভয় প্রবৃত্তি নিয়ে সৃষ্ট হওয়ায় এর সংশোধন প্রয়োজন। নফসকে ভালো পথে পরিচালিত করার জন্য সংগ্রাম করতে হয়।
হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ
"সেই মুজাহিদ (যোদ্ধা), যে আল্লাহর আনুগত্যের জন্য নিজের নফসের সাথে জিহাদ করে।" (সুনানে তিরমিযী: ১৬২১, মুসনাদে আহমাদ: ২৩৯৬৮)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى
"আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করল এবং নফসকে খারাপ প্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখল, নিশ্চয়ই জান্নাতই তার আবাসস্থল।" (সূরা আন-নাযিয়াত: ৪০-৪১)
৭. আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর
আপনি জিজ্ঞেস করেছেন: "মানুষদের নফসের ফিতরাহ কি ভালো কাজ করবে? কিন্তু শয়তানই মানুষদেরকে কুপরামর্শ দেয় বলে মানুষ খারাপ কাজ করে। আর ফেরেশতারা ভালো পরামর্শ দেয় বলে মানুষ ভালো করে নাকি অটোমেটিক লিই নফসকে ভালো হিসেবে তৈরী করা হয়েছে?"
উত্তর: মানুষের নফস মূলত ভালো ও মন্দ উভয় প্রবৃত্তি নিয়ে সৃষ্ট। এটি সম্পূর্ণ ভালো বা সম্পূর্ণ খারাপ নয়। আল্লাহ প্রতিটি নফসকে ভালো ও মন্দের জ্ঞান দিয়েছেন এবং উভয় পথ দেখিয়েছেন। শয়তান কুমন্ত্রণা দেয় এবং ফেরেশতারা ভালো পরামর্শ দেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের নিজের। মানুষ তার ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী ভালো বা মন্দ কাজ করে। তাই নফসের সংশোধন প্রয়োজন, কারণ নফসে মন্দ প্রবৃত্তিও বিদ্যমান।
ইমাম গাযযালী (রহ.) তাঁর "ইহইয়া উলুমিদ্দীন" গ্রন্থে বলেন: নফস হলো আয়নার মতো, যা সামনে যা রাখা হয় তা-ই প্রতিফলিত করে। যদি সামনে ভালো রাখা হয়, ভালো প্রতিফলিত করে; আর যদি মন্দ রাখা হয়, মন্দ প্রতিফলিত করে।
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "মা'আরিফুল কুরআন"-এ বলেন: মানুষের নফসে ভালো-মন্দ উভয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ মানুষকে বিবেক ও বুদ্ধি দিয়েছেন, যার মাধ্যমে সে ভালো-মন্দ পার্থক্য করতে পারে এবং সঠিক পথ বেছে নিতে পারে।
৮. নফস ও রুহের সম্পর্ক
আপনি জিজ্ঞেস করেছেন: "এই নফসটাই তো রুহ, এটাই তো আমি মানে জীবন না জীবিত অবস্থা?"
উত্তর: নফস ও রুহ একই সত্ত্বার দুটি দিক। রুহ হলো মানুষের জীবন্ত সত্ত্বা, আর নফস হলো সেই সত্ত্বার প্রবৃত্তি ও আকর্ষণের দিক। রুহ যখন ভালো-মন্দের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তখন তাকে নফস বলা হয়। নফসের তিনটি স্তর (আম্মারা, লাওওয়ামা, মুতমাইন্নাহ) একই নফসের বিভিন্ন অবস্থা, যা মানুষের কর্ম ও ইবাদতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا
"সে সফলকাম হয়েছে যে নিজের নফসকে পবিত্র করেছে, আর সে ব্যর্থ হয়েছে যে নিজের নফসকে কলুষিত করেছে।" (সূরা আশ-শামস: ৯-১০)
৯. শয়তান থেকে বাঁচার উপায়
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য ইসলাম বিভিন্ন উপায় শিখিয়েছে:
১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা: শয়তানের কুমন্ত্রণা অনুভব করলে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়া।
২. নিয়মিত নামাজ ও যিকির: নামাজ ও যিকির শয়তানকে দূরে রাখে।
৩. কুরআন তিলাওয়াত: কুরআন তিলাওয়াতের সময় শয়তান দূরে সরে যায়।
৪. আযান ও ইকামত: আযানের সময় শয়তান পালিয়ে যায়।
৫. ঘুমের আগে দোয়া: ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি ও সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়া।
হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ
"নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্তের মতো তার শরীরে প্রবাহিত হয়।" (সহীহ বুখারী: ৩২৮১, সহীহ মুসলিম: ২১৭৪)