কথায় সামান্য অসত্য বলার বিধান।
Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi
Question
প্রশ্ন-১. একদিন আমি আমার ছাত্রের বাবার সাথে ছাত্রের পড়াশোনার বিষয়ে কথা বলার সময় ছাত্রের বাবাকে বলি যে, ছাত্র যাতে বাংলা বিষয় সহজে আয়ত্ত করতে পারে সেজন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা শুরু করেছি এবং এক থেকে দেড় মাস এই পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখি ছাত্রের উন্নতি হয় কিনা । তবে যেদিন আমি ছাত্রের বাবাকে এই কথা বলেছিলাম, তখনো আমি এই পদ্ধতি অবলম্বন করা শুরু করিনি, "তবে আরো পরে ঠিকই শুরু করেছিলাম"। এখন, এই যে আমি উক্ত পড়াশোনার বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন শুরু করেছি বলেও যে শুরু না করে কয়েকদিন "পরে শুরু করেছিলাম", এই কথা বলার জন্য কি আমার গুনাহ হবে?
প্রশ্ন-২. উপরের পরিস্থিতি বিবেচনা করে, এই যে আমি এক থেকে দেড় মাস সময় নিয়েছিলাম ছাত্রের পড়াশোনার উন্নতি হয় কিনা দেখার জন্য , এই সময়টি তাহলে শুরু হবে কবে থেকে, যেদিন আমি ছাত্রের বাবার সাথে কথা করেছিলাম সেদিন থেকে নাকি আমি যেদিন থেকে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা শুরু করেছিলাম সেদিন থেকে?
Answer
প্রশ্ন-১: "পরে শুরু করেছি" বলার কারণে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
আপনি মূলত একটি কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন এবং পরে তা বাস্তবায়নও করেছেন। কিন্তু কথার সময় যে তথ্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ সত্য ছিল না।
এই জন্য আপনি তওবা করে নিবেন।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
- আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।" (সূরা আত-তাওবাহ: ১১৯)
- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
"তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো, কারণ মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।" (সহিহ বুখারি: ৬০৯৪)
শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন:
"যদি কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলে যা বাস্তবের সাথে মিলে না, কিন্তু তার উদ্দেশ্য ভালো হয় এবং পরে সে তা পূরণ করে, তবে এটি ছোট গুনাহ। তবে তাকে অবশ্যই তাওবাহ করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।"
আপনার করণীয়:
- তাওবাহ করুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
- ভবিষ্যতে এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন, কারণ সত্য কথা বলা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন-২: সময় গণনা কবে থেকে শুরু হবে?
উত্তর:
আপনি যে এক থেকে দেড় মাস সময় নির্ধারণ করেছিলেন, তা সেই দিন থেকে গণনা হবে যখন আপনি পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন, অর্থাৎ যেদিন থেকে আপনি প্রকৃতপক্ষে সেই বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা শুরু করেছেন।
কারণ:
- আপনি ছাত্রের বাবাকে যে সময়সীমা বলেছিলেন, তা ছিল ভবিষ্যতের একটি পরিকল্পনা।
- যেহেতু আপনি পরে পদ্ধতিটি শুরু করেছেন, তাই সেই তারিখ থেকেই সময় গণনা করা যৌক্তিক।
- তবে কথার সময় আপনি যদি স্পষ্টভাবে বলেন যে "আজ থেকে এক মাস পরীক্ষা করব", তাহলে সেদিন থেকে গণনা হতো। কিন্তু যেহেতু আপনি বলেননি, তাই বাস্তবায়নের তারিখই মূল ভিত্তি।
শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:
"যেকোনো কাজের সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো কাজটি কবে শুরু হয়েছে, কথা বলার তারিখ নয়।"
সংক্ষিপ্ত পরামর্শ:
১. তাওবাহ করুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।
২. ভবিষ্যতে সত্য কথা বলার চেষ্টা করুন, এমনকি ছোট বিষয়েও।
৩. ছাত্রের উন্নতির জন্য আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা সওয়াবের কাজ, ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সত্যবাদী ও সৎকর্মপরায়ণ বানান। আমিন।