পর্দার ক্ষেত্রে কালো রঙ ছাড়া অন্য রঙের ব্যবহার
Faith and Belief · Hanafi
Question No:
4653
Questioner:
Kanij Fatema_897
Question Asked:
30 Aug 2026, 11:25 PM
Reviewed & Published:
31 Aug 2026, 01:08 AM
Views:
27
Tokens:
3,598
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ, মুহতারাম।
আমার প্রশ্ন হলো, নারীরা যখন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন পর্দার জন্য আলাদা যে পোশাক পরিধান করবে সেইটা কালো ব্যাতিত অন্য কোন কালার গ্রহণ যোগ্য? আর কতটুকু সতর ঢাকতে হবে? যদি হাত মুজা না পড়া হয়? আর বিশেষ জুরুরতে কি ডাক্তার কিংবা চেকিং এর জন্য মুখ খোলা রাখতে পারবে। আর শরীয়াহ অনুযায়ী পর্দার বিশ্লেষণ দিলে ভালো হবে। জাযাকাল্লাহ খয়র
আমার প্রশ্ন হলো, নারীরা যখন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন পর্দার জন্য আলাদা যে পোশাক পরিধান করবে সেইটা কালো ব্যাতিত অন্য কোন কালার গ্রহণ যোগ্য? আর কতটুকু সতর ঢাকতে হবে? যদি হাত মুজা না পড়া হয়? আর বিশেষ জুরুরতে কি ডাক্তার কিংবা চেকিং এর জন্য মুখ খোলা রাখতে পারবে। আর শরীয়াহ অনুযায়ী পর্দার বিশ্লেষণ দিলে ভালো হবে। জাযাকাল্লাহ খয়র
Answer
উত্তর
১. পর্দার পোশাকের রঙের বিধান (কালো ছাড়া অন্য কালার):
- শরয়ী হুকুম: পর্দার জন্য ব্যবহৃত বড় চাদর বা বোরকা কেবল কালো রঙের হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা শরীয়তে নেই। যেকোনো মার্জিত ও শালীন রঙের পোশাক পরিধান করা জায়েয।
- শর্তাবলী: পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তগুলো বজায় রাখা আবশ্যক:
- পোশাকটি এমন কারুকার্যমণ্ডিত বা উজ্জ্বল রঙের (যেমন খুব উজ্জ্বল লাল বা ঝলমলে সোনালী) হতে পারবে না যা পরপুরুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে। একে শরীয়তের পরিভাষায় 'তাবাররুজ' বা সৌন্দর্য প্রদর্শন বলা হয়, যা নিষিদ্ধ।
- পোশাকটি সাধারণ ও সাদাসিধে হতে হবে; অতি জাঁকজমকপূর্ণ বা আভিজাত্য প্রদর্শনীমূলক (লেবাসে শুহরাহ) হওয়া কাম্য নয় ।
- পোশাকটি অমুসলিম বা কাফের-ফাসেকদের বিশেষ কোনো ধর্মীয় পোশাকের সদৃশ হতে পারবে না।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা ৪০৬-৪০৭,; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা ২৫৫ ।
২. সতর বা কতটুকু শরীর ঢাকতে হবে এবং হাত মোজার বিধান:
- শরয়ী হুকুম (সতরের সীমা): পরপুরুষের সামনে যাওয়ার সময় একজন মহিলার মুখমণ্ডল, দুই হাতের কব্জি এবং দুই পায়ের পাতা ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা ফরজ।
- চেহারা ও হাতের কব্জির বিশেষ বিধান: হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফয়সালা অনুযায়ী, যদিও চেহারা ও হাতের কব্জি নামাযের ক্ষেত্রে 'সতর' নয়, কিন্তু বর্তমান ফেতনা-ফাসাদের যুগে পরপুরুষের সামনে চেহারার পর্দা বা নিকাব করা ওয়াজিব (Wajib) হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে ।
- হাত মোজা: হাতের কব্জি পর্যন্ত যেহেতু মূল সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই হাত মোজা পরা বাধ্যতামূলক নয় । তবে ফেতনার আশঙ্কা থাকলে বা সম্পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইলে হাত মোজা ব্যবহার করা উত্তম ও পছন্দনীয়।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা ১৬৩-১৬৪, ৪৫০; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা ১৭০-১৭১, ১৭৬-১৭৭।
৩. বিশেষ প্রয়োজনে (ডাক্তার বা চেকিং) মুখ খোলার বিধান:
- শরয়ী হুকুম (অপারগতার সুযোগ): শরীয়তের একটি সুপ্রসিদ্ধ মূলনীতি হলো— "জরুরী প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে" (الضرورات تبيح المحظورات)।
- চিকিৎসার জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে (যদি মহিলা ডাক্তার না থাকে তবে পুরুষ ডাক্তারের কাছে) অথবা পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নিরাপত্তা চেকিং বা আইনি প্রয়োজনে চেহারা খোলা সম্পূর্ণ জায়েয।
- শর্ত: এক্ষেত্রে নিয়ম হলো— কেবল যতটুকু দেখা প্রয়োজন, ততটুকুই উন্মুক্ত করা যাবে, এর বেশি নয় । চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে মহিলা ডাক্তার খোঁজা আবশ্যক; মহিলা ডাক্তার না পাওয়া গেলে তবেই পুরুষ ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবে ।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা ৩৮২-৩৮৩, ৪৪৯; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫।
৪. শরীয়াহ অনুযায়ী পর্দার বিশ্লেষণ:
ইসলামী শরীয়তে পর্দার উদ্দেশ্য কেবল একটি কাপড় পরিধান করা নয়, বরং সমাজকে চারিত্রিক অবক্ষয় ও গুনাহ থেকে রক্ষা করা। পর্দার পূর্ণতার জন্য পোশাকের ক্ষেত্রে তিনটি গুণ থাকা অপরিহার্য:
- স্থূলতা (পুরু হওয়া): পোশাকটি এত পাতলা হবে না যার ভেতর দিয়ে শরীরের চামড়ার রং দেখা যায়।
- ঢিলেঢালা হওয়া: পোশাকটি এত সংকীর্ণ বা আঁটসাঁট হবে না যার মাধ্যমে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ফুটে ওঠে।
- সাদাসিধে হওয়া: পোশাকটি পরপুরুষের কু-দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম হওয়া যাবে না।
পবিত্র কুরআনের নির্দেশ (সূরা আহযাব: ৫৯ ও সূরা নূর: ৩১) অনুযায়ী, পর্দার মাধ্যমে একজন নারী তার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করেন ।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা ৪০৬-৪০৯; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা ১৭৬।
সারসংক্ষেপ: আপনি কালো ছাড়া যেকোনো মার্জিত রঙের বোরকা বা চাদর পরতে পারেন । চেহারা, হাত ও পায়ের পাতা বাদে পুরো শরীর ঢেকে রাখা ফরজ, তবে ফেতনার কারণে চেহারা ঢাকাও এখন ওয়াজিব । হাত মোজা পরা বাধ্যতামূলক নয় তবে উত্তম। ডাক্তার বা নিরাপত্তার প্রয়োজনে কেবল প্রয়োজন পরিমাণ চেহারা খোলা জায়েয ।