কেনায়া ও নিয়ত
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
4640
Questioner:
Ibrahim
Question Asked:
30 Aug 2026, 04:55 PM
Reviewed & Published:
30 Aug 2026, 07:09 PM
Views:
8
Tokens:
5,209
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম
স্বামী মনে মনে এমন নিয়ত করেছে যে "তালাক হবে"এমন একই নিয়ত তার মনে তিনবার হয় এরপর একবার কেনায়া বাক্য স্ত্রীকে বলেছে "অন্য কোন ছেলে দেখো"তবে
১.হানাফি মাযহাব কতে কত সংখ্যক বিচ্ছেদ হয়েছে?
২.এখানে কি কোন ভাবে চুড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে গেছে কি?
৩.এমন ঘটনা আগে না ঘটে থাকলে হালালা ছাড়া পুনরায় সেই স্ত্রীকে নিয়ে আবার সংসার করা যাবে কি?
দয়া করে শরিয়াহ মোতাবেক সমাধান দিয়ে সন্দেহ নিরসনে সাহায্য করুন।
স্বামী মনে মনে এমন নিয়ত করেছে যে "তালাক হবে"এমন একই নিয়ত তার মনে তিনবার হয় এরপর একবার কেনায়া বাক্য স্ত্রীকে বলেছে "অন্য কোন ছেলে দেখো"তবে
১.হানাফি মাযহাব কতে কত সংখ্যক বিচ্ছেদ হয়েছে?
২.এখানে কি কোন ভাবে চুড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে গেছে কি?
৩.এমন ঘটনা আগে না ঘটে থাকলে হালালা ছাড়া পুনরায় সেই স্ত্রীকে নিয়ে আবার সংসার করা যাবে কি?
দয়া করে শরিয়াহ মোতাবেক সমাধান দিয়ে সন্দেহ নিরসনে সাহায্য করুন।
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নটি কেনায়া বাক্য ও নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। নিম্নে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:
১ম প্রশ্নের উত্তর: কেনায়া বাক্য বলার সময় মনে মনে তিনবার নিয়তের পুনরাবৃত্তির হুকুম
- উত্তর: হানাফী মাযহাবের মুতামাদ (নির্ভরযোগ্য) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপনার এই ঘটনার দ্বারা মাত্র ১টি তালাকে বায়েন (বিচ্ছেদ) পতিত হয়েছে।
- শরয়ী বিশ্লেষণ: স্বামী যখন মুখে কোনো কেনায়া বা অস্পষ্ট বাক্য (যেমন: "অন্য কোন ছেলে দেখো") উচ্চারণ করে এবং অন্তরে তালাকের নিয়ত থাকে, তখন তা দ্বারা তালাক পতিত হয়। তবে মুখে বাক্যটি মাত্র একবার বলায় তালাকও কেবল ১টিই হবে। মনে মনে একই নিয়ত তিনবার পুনরাবৃত্তি করার কারণে তালাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে না । কারণ হানাফী ফিকহের অকাট্য মূলনীতি হলো— মুখে উচ্চারণ করা ছাড়া নিছক মনের নিয়ত বা সংকল্পের দ্বারা তালাক পতিত বা সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় না (ليس العزم على الشيء بمنزلة المباشرة) ।
- উৎস, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়া সহ): পৃষ্ঠা: ১৭১ (মাসআলা-৩৬৭: "মনের সংকল্প বা নিয়তের দ্বারা হানাফী মাযহাবে কাজ সংঘটিত হয় না")।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬৭ ("তালাকের প্রকারভেদ ও তালাকে বায়েনের আলোচনা" পরিচ্ছেদ)।
- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগীরী): খণ্ড: ১ম, পৃষ্ঠা: ৩৭৪ (কিতাবুত তালাক, কিনায়া শব্দের হুকুম)।
২য় প্রশ্নের উত্তর: কেনায়া বাক্য বলার আগে মনে মনে তিনবার নিয়ত হওয়ার হুকুম
- উত্তর: কেনায়া বাক্যটি মুখে একবার বলার আগে মনে মনে তিনবার তালাকের চিন্তা বা নিয়ত হয়ে গেলেও হানাফী মাযহাব অনুযায়ী ১টির বেশি তালাক পতিত হবে না; অর্থাৎ কেবল ১টি তালাকে বায়েন হবে।
- শরয়ী বিশ্লেষণ: মুখের উচ্চারণের পূর্বে মনের ভেতরে হওয়া নিয়ত বা চিন্তার পুনরাবৃত্তি তালাকের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে না। যেহেতু মুখে কেনায়া বাক্যটি মাত্র একবার উচ্চারণ করা হয়েছে এবং অন্তরে তালাকের নিয়ত বিদ্যমান ছিল, তাই এখানে শুধুমাত্র ১টি তালাকে বায়েন কার্যকর হয়েছে ।
- উৎস, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়া সহ): পৃষ্ঠা: ১৭১ ।
- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগীরী): খণ্ড: ১ম, পৃষ্ঠা: ৩৭৪।
৩য় প্রশ্নের উত্তর: এখানে কি কোনোভাবে ৩টি তালাক বা চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটেছে?
- উত্তর: না, এখানে কোনোভাবেই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ বা ৩টি তালাক (তালাকে মুগাল্লাযাহ) পতিত হয়নি।
- শরয়ী বিশ্লেষণ: তিন তালাক বা চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হওয়ার জন্য মুখে স্পষ্টভাবে তিন তালাকের বাক্য এক বা একাধিকবার বলা শর্ত । যেহেতু এখানে মুখে মাত্র একবার কেনায়া বাক্য বলা হয়েছে, সেহেতু মনে মনে নিয়তের পুনরাবৃত্তি থাকলেও শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনোভাবেই ৩টি তালাক সম্পন্ন হয়নি; বরং এটি ১টি তালাকে বায়েন হিসেবেই গণ্য হবে ।
- উৎস, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬৭-২৬৮ ।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: খণ্ড: ১৩শ, পৃষ্ঠা: ৮৫ ।
৪র্থ প্রশ্নের উত্তর: হালালা ছাড়া পুনরায় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করার বিধান
- উত্তর: হ্যাঁ, অতীতে যদি এমন কোনো ঘটনা না ঘটে থাকে, তবে শরয়ী নিয়মে হালালা করা ছাড়াই আপনারা পুনরায় নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করতে পারবেন।
- শরয়ী পদ্ধতি ও করণীয়: যেহেতু এখানে মাত্র ১টি তালাকে বায়েন (ইচ্ছাকৃত বিচ্ছেদ) হয়েছে, তাই আপনারা হালালা ছাড়াই একে অপরকে গ্রহণ করতে পারবেন । তবে তালাকে বায়েন হওয়ার কারণে পূর্বের বিবাহটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে। তাই আপনারা নিছক মুখে ফিরিয়ে নেয়ার (রুজু করার) মাধ্যমে পূর্বের বিবাহের ওপর সংসার শুরু করতে পারবেন না । আপনাদের পুনরায় দাম্পত্য জীবন শুরু করতে হলে— উভয় পক্ষের পূর্ণ সম্মতিতে, নতুন করে মোহর নির্ধারণ করে, অন্তত দুইজন মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে পুনরায় নতুন আকদ বা নিকাহ সম্পন্ন করতে হবে। নতুন করে বিবাহ হওয়ার পর আপনারা আবার স্বাভাবিক স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে পারবেন ।
- উৎস, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬৭-২৬৮ (তালাকে বায়েনের পর পুনরায় নতুন মোহর ও আকদ দিয়ে বিবাহের নিয়ম)।
- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগীরী): খণ্ড: ১ম, পৃষ্ঠা: ৩৭৪-৩৭৫।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ: আপনাদের মাঝে কোনোভাবেই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ বা ৩টি তালাক হয়নি । আপনারা শয়তানি ওয়াসওয়াসা ও সংশয় মন থেকে দূর করে দিন। হানাফী শরী'আতের নিয়ম অনুযায়ী, আপনারা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন মোহর ধার্য করে পুনরায় বিবাহ (নিকাহ) সম্পন্ন করে সুন্দরভাবে দাম্পত্য জীবন পরিচালনা করুন ।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।