বিয়ে ও হারাম সম্পর্ক নিয়ে ইসলামি নির্দেশনা।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নকারিণীর বয়স ২৭ বছর, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি চাকরি (BCS) বা ক্যাডার হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে, অথচ ছেলেটি বেকার নয়, তার হালাল আয় রয়েছে (মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা) এবং সে পরিশ্রমী। অন্যদিকে, প্রশ্নকারিণী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং শয়তানের প্ররোচনায় ছেলেটির সাথে সম্পর্কের সীমারেখা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।
ইসলামি নির্দেশনা:
১. বিয়ের উদ্দেশ্য ও মানদণ্ড:
ইসলামে বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বীনদারি ও নৈতিক চরিত্র। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্র তোমাদের সন্তুষ্ট করে, তখন তাকে বিয়ে করাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।"
(তিরমিজি: ১০৮৪; ইবনে মাজাহ: ১৯৬৭)
সুতরাং, সরকারি চাকরি বা BCS হওয়া ইসলামি দৃষ্টিতে বিয়ের শর্ত নয়। ছেলেটি যদি দ্বীনদার ও সচ্চরিত্রবান হয় এবং তার হালাল আয় থাকে, তবে তাকে বিয়ে করা বৈধ ও উত্তম।
২. পরিবারের আপত্তি ও শরিয়তের বিধান:
ইসলামে সন্তানের বিয়েতে অভিভাবকের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ, তবে অভিভাবক যদি শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া (যেমন: শুধুমাত্র সরকারি চাকরি না থাকা) বিয়েতে বাধা দেয়, তবে তা জুলুম হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের নারী নিজের বিয়ের জন্য ইজাব-কবুল করতে পারেন, তবে অভিভাবকের সম্মতি উত্তম। (বাদায়েউস সানায়ি: ২/২৪৫)
তবে পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত। ছেলেটির ভালো গুণাবলি (দ্বীনদারি, সৎ চরিত্র, হালাল আয়) সম্পর্কে তাদের অবহিত করুন।
৩. হারাম সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা:
প্রশ্নকারিণী বলেছেন, ছেলেটির সাথে কথা বলা হচ্ছে এবং তিনি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এটি সম্পূর্ণ হারাম ও শয়তানের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।"
(সূরা বনি ইসরাইল: ৩২)
বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ছেলেটির সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ (ফোন, মেসেজ, দেখা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত হয়, তবে পরিবারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠান এবং বিয়ের পর সম্পর্ক বৈধ হবে।
৪. পরামর্শ:
- ছেলেটির সাথে বর্তমান সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করুন এবং তাওবা করুন। আল্লাহ তাওবা কবুল করেন।
- পরিবারের সাথে বসে ছেলেটির ভালো গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করুন। তাদের বোঝান যে, ইসলামে দ্বীনদারি ও চরিত্রই মুখ্য, চাকরি নয়।
- যদি পরিবার একান্তই রাজি না হয়, তবে আপনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এতে পরিবারের সাথে সম্পর্ক নষ্ট না করে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
- বিয়ের জন্য ইস্তেখারা করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।
৫. শরিয়তের দৃষ্টিতে ছেলেটির যোগ্যতা:
ছেলেটির আয় হালাল এবং সে পরিশ্রমী। ইসলামে জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারি চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং, তাকে বিয়ে করা বৈধ।
সিদ্ধান্ত:
আপনার উচিত ছেলেটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তাওবা করা। এরপর পরিবারের সাথে আলোচনা করে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। যদি পরিবার না মানে, তবে আপনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে তা শরিয়তসম্মত উপায়ে (অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নয়, বরং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে)। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন, তিনি উত্তম পথ দেখাবেন।
দলিল:
- কুরআন: সূরা নূর (২৪:৩২) - "তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে করিয়ে দাও..."
- হাদিস: "যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি আসে..." (তিরমিজি: ১০৮৪)
- ফতোয়া: ফতোয়ায়ে উসমানি (২/৪৫৬), রদ্দুল মুহতার (৩/১৫)