বিয়ে ও হারাম সম্পর্ক নিয়ে ইসলামি নির্দেশনা।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4591
Questioner: Amatullah
Question Asked: 28 Aug 2026, 10:45 PM
Reviewed & Published: 28 Aug 2026, 10:56 PM
Views: 18
Tokens: 12,097
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, হারাম বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে আমি খুবই বিব্রত ও লজ্জিত।কিন্তু একান্তই নিরুপায় হয়ে প্রশ্নটি করছি,কারন আমি হতাশার চরম সীমায় পৌছে গিয়েছি আর মানসিকভাবে এত ভেঙ্গে পরেছি যে শয়তান বারবার আমাকে বিভিন্ন ধোকা দিচ্ছে।আমার বয়স ২৭ চলতেছে।আমার বাবা নেই,বড় ভাই, মা আছেন।আমাকে অনার্সে একজন ছেলে বিয়ের প্রস্তাব দেয়,তখন আসলে আমি বিয়ের কোনো চিন্তাই করি নি,হেসে উড়ায় দিয়েছিলাম।এরপরে ২০২৪ সালে আমি অসুস্থ হই,আমার কোমড়ের ডিস্কে সমস্যা ধরা পরে।এক বছর মেইনটেইন করে চলতে বলেছিলেন কিন্তু আমি ডাক্তারের পরামর্শ মানি নি,মানা হয় নি আসলে,চাকরির প্পড়া,এক্সামে এসব মানতে পারি নি।আমার ফ্যামিলিতে কিছু সমস্যা আছে,তারা রোগ একদম চরমে না গেলে গুরুত্ব দেয় না,তাদের সেরকম মাথাব্যাথ ছিলোই না।আমি একা হসপিটালে যাতায়াত করেছি,এক্স-রে করেছি।একটা সময়ে আমার সেই ছেলের সংগে কথা হয়,আগে থেকেই কথা হতো তবে সেটা নরমাল কথাবার্তা।মানসিকভাবে খারাপ ছিলাম,বাবা নেই,শয়তানের ধোকায় আমি ছেলের প্রতি দুর্বল হই।কোনো ধরনের খারাপ সম্পর্ক নেই,জাস্ট কথা বলা।আর যেহেতু আমি প্রায় ৭,৮ বছর ধরে চিনি তো আমি তখন বিয়ের কথা বাসায় বলি।উল্লেখ্য আমার ফ্যামিলি চাকরি নিয়ে obsessed.তারা এটাতে ভিশন রিয়্যাক্ট করে কিন্তু আমার আম্মু ছেলেটাকে অনেক পছন্দ করে।বাট বেকার অবস্থায় দিবে না,আর ছেলেটা প্রাইভেট ভার্সিটি আমি পাব্লিক নামকরা ভার্সিটি।এই বিষয়টা নিয়ে ছেলের ফ্যামিলিসহ ছেলেকে অপমান করে,আর যখন জানতে পারে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি,তো উলটাপালটা কথা বলে।এজন্য আমি তাদের দেখা ছেলেকে বিয়ের জন্য রাজি হই।আমার তখন এমন অবস্থা ছিলো আমাকে বিয়ে করতে হবে।আমার একজন সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন ছিলো আর এখনও।আমি ভেবেছি আল্লাহ চাচ্ছেন না এটা,তাই এত ঝামেলা।কিন্তু ৭,৮মাসেও আমার জন্য ছেলে পছন্দ হয় নি,বিয়েও হয় নি।আমি ছেলে দেখে তাদের বলতাম।সত্যি বলতে আমি মন থেকে ওই ছেলেকে সরাতে পারি নি,কিন্তু আমি আল্লাহকে বারবার বলেছি যে আল্লাহ যদি অন্য কোথাও কল্যাণ থাকে আপনি সাহায্য করলে আমি পারবো।এসব শয়তানের ধোকা।এরপরে একদিন আম্মুর মাধ্যমে সেই ছেলের সাথে কথা হয়।বিষয়টা এমন সেই ছেলের থেকে ফায়দা আমার মা,বোন,খালা,মামাতো বোন সবাই নেয়,কিন্তু বিয়ের বেলায় তারা একটু চুপচাপ।তাদের চিন্তাভাবনা দেখি ভালো কিছু করুক,হাতে তো আছে।এরকম আমার মনে হয়।আম্মুর সাথে প্রায়ই কথা হয়,বিভিন্ন পরামর্শ নেওয়া,খোজখবর নেওয়া হয়।আমার সাথে যে রেগুলার কথা হপচ্ছে সেটাও জানে শুধু আমাদের বিয়েটা দিচ্ছে না।ছেলে বেকার না তার ইনকাম আছে,মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০হাজার টাকা ইনকাম করে,যথেষ্ট পরিশ্রমী।কিন্তু সমস্যা ছেলে সরকারি চাকরি অর্থাৎ বিসিএস দিবে না।এভাবে প্রায় ৩বছর ধরে চলে যাচ্ছে,আমি বারবার এখান থেকে সরে আসি,অন্য দিকে সিদ্ধান্ত নেই বারবার কোনো না কোন কারনে তার সাথে কথা হয়,এরকম একবার ২বার না,কতবার যে হচ্ছে,আমি বের হতে পাচ্ছি না এখান থেকে।একদিনে হারাম সম্পর্ক নিয়ে অপরাধবোধ,অন্যদিকে ফ্যামিলির এরকম জটিলতা। আমি নিযে বিয়ের কথা এত বলেছি বিনয়ের সাথে যে আমার নির্লজ্জ হয়ে গেছি অনেকটা।এখন শুধু কান্নাই আসে।এখনকার পরিস্থিতি এরকম ছেলে ব্যাংকের IT Department এ আছে,সে সেখানে পার্মানেন্ট থাকবে না,তার আরও ইনকাম সোর্স আছে,সেটা হালাল।আমার আম্মু তার সাথে বিয়ে দিবে তারও অন্য কোথাও দেওয়ার ইচ্ছা নেই,বাট সেটা সে ভাইয়াকে না জানিয়ে কিংবা আরও ১,২বছর পরে।আমার বড় ভাই আবার বিসিএস ছাড়া অন্য কোথাও দিবে না।আমাকেও ক্যাডার হতে হবে।এভাবে বিষয়গুলো ঝুলে আছে।এমতাবস্থায় আমার কি করা উচিত?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নকারিণীর বয়স ২৭ বছর, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি চাকরি (BCS) বা ক্যাডার হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে, অথচ ছেলেটি বেকার নয়, তার হালাল আয় রয়েছে (মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা) এবং সে পরিশ্রমী। অন্যদিকে, প্রশ্নকারিণী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং শয়তানের প্ররোচনায় ছেলেটির সাথে সম্পর্কের সীমারেখা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।

ইসলামি নির্দেশনা:
১. বিয়ের উদ্দেশ্য ও মানদণ্ড:
ইসলামে বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বীনদারি ও নৈতিক চরিত্র। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্র তোমাদের সন্তুষ্ট করে, তখন তাকে বিয়ে করাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।"
(তিরমিজি: ১০৮৪; ইবনে মাজাহ: ১৯৬৭)

সুতরাং, সরকারি চাকরি বা BCS হওয়া ইসলামি দৃষ্টিতে বিয়ের শর্ত নয়। ছেলেটি যদি দ্বীনদার ও সচ্চরিত্রবান হয় এবং তার হালাল আয় থাকে, তবে তাকে বিয়ে করা বৈধ ও উত্তম।

২. পরিবারের আপত্তি ও শরিয়তের বিধান:
ইসলামে সন্তানের বিয়েতে অভিভাবকের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ, তবে অভিভাবক যদি শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া (যেমন: শুধুমাত্র সরকারি চাকরি না থাকা) বিয়েতে বাধা দেয়, তবে তা জুলুম হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের নারী নিজের বিয়ের জন্য ইজাব-কবুল করতে পারেন, তবে অভিভাবকের সম্মতি উত্তম। (বাদায়েউস সানায়ি: ২/২৪৫)

তবে পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত। ছেলেটির ভালো গুণাবলি (দ্বীনদারি, সৎ চরিত্র, হালাল আয়) সম্পর্কে তাদের অবহিত করুন।

৩. হারাম সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা:
প্রশ্নকারিণী বলেছেন, ছেলেটির সাথে কথা বলা হচ্ছে এবং তিনি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এটি সম্পূর্ণ হারাম ও শয়তানের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।"
(সূরা বনি ইসরাইল: ৩২)

বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ছেলেটির সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ (ফোন, মেসেজ, দেখা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত হয়, তবে পরিবারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠান এবং বিয়ের পর সম্পর্ক বৈধ হবে।

৪. পরামর্শ:

  • ছেলেটির সাথে বর্তমান সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করুন এবং তাওবা করুন। আল্লাহ তাওবা কবুল করেন।
  • পরিবারের সাথে বসে ছেলেটির ভালো গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করুন। তাদের বোঝান যে, ইসলামে দ্বীনদারি ও চরিত্রই মুখ্য, চাকরি নয়।
  • যদি পরিবার একান্তই রাজি না হয়, তবে আপনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এতে পরিবারের সাথে সম্পর্ক নষ্ট না করে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
  • বিয়ের জন্য ইস্তেখারা করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

৫. শরিয়তের দৃষ্টিতে ছেলেটির যোগ্যতা:
ছেলেটির আয় হালাল এবং সে পরিশ্রমী। ইসলামে জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারি চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং, তাকে বিয়ে করা বৈধ।

সিদ্ধান্ত:
আপনার উচিত ছেলেটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তাওবা করা। এরপর পরিবারের সাথে আলোচনা করে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। যদি পরিবার না মানে, তবে আপনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে তা শরিয়তসম্মত উপায়ে (অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নয়, বরং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে)। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন, তিনি উত্তম পথ দেখাবেন।

দলিল:

  • কুরআন: সূরা নূর (২৪:৩২) - "তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে করিয়ে দাও..."
  • হাদিস: "যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি আসে..." (তিরমিজি: ১০৮৪)
  • ফতোয়া: ফতোয়ায়ে উসমানি (২/৪৫৬), রদ্দুল মুহতার (৩/১৫)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.