এনগেজমেন্টের পর পাত্র-পাত্রীর কথা বলা কি জায়েজ?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4556
Questioner: IOM 0869
Question Asked: 27 Aug 2026, 10:16 PM
Reviewed & Published: 27 Aug 2026, 10:27 PM
Views: 25
Tokens: 4,014
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

অভিভাবকরা তাদের পাত্র পাত্রীর শুধু এনগেজমেন্ট করে বিয়ে বিলম্বিত রেখে,পাত্র পাত্রীর অবাধে মোবাইলে যোগাযোগ কে সুযোগ করে দেয়া। আর এ অবস্থায় নিজেকে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে না পারার মত অবস্থায় পাত্রীর করণীয় কী?

Answer

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

আলহামদুলিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ।

মূলনীতি

ইসলামী শরীয়তে বাগদান (এনগেজমেন্ট) শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি মাত্র। এটি বিয়ে নয়। বাগদানের মাধ্যমে পাত্র-পাত্রী পরস্পরের জন্য হালাল হয় না। বাগদত্তা পাত্রী এখনও পাত্রের জন্য অন্যের (নন-মাহরাম) মতোই। তাই বাগদত্তা পাত্র-পাত্রীর মধ্যে অবাধ মোবাইল যোগাযোগ, কথোপকথন, ভিডিও কল—সবই শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম ও নিষিদ্ধ

কুরআন ও হাদীসের দলীল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ "মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।" (সূরা আন-নূর: ৩০)

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ "কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে না মিলে। কারণ তাদের তৃতীয়জন হলো শয়তান।" (সহীহ বুখারী: ৩০০৬; সহীহ মুসলিম: ১৩৪১)

আরও বলেছেন:

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَخْلُوَنَّ بِامْرَأَةٍ لَيْسَ مَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ مِنْهَا "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান রাখে, সে যেন এমন নারীর সাথে একান্তে না মিলে যার সাথে তার মাহরাম পুরুষ নেই।" (মুসনাদ আহমাদ: ১৭৪৫১)

হানাফী ফিকহের নির্দেশনা

১. বাগদান বৈধ, তবে বিয়ে নয়:

ইমাম কাসানী (রহ.) كتاب بدائع الصنائع-এ বলেন:

الخطبة ليست بنكاح، ولا بمنزلة النكاح في إثبات الأحكام "বাগদান বিয়ে নয়, এবং বিয়ের বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে তা বিয়ের মতো নয়।" (বাদাইউস সানাই: ২/২৪৮)

২. বাগদত্তা পাত্রীর দিকে তাকানো:

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার-এ বলেন:

ويباح للخاطب النظر إلى مخطوبته بقدر ما يحتاج إليه للرغبة فيها "বাগদাতার জন্য তার বাগদত্তার দিকে তাকানো জায়েয, তবে শুধুমাত্র বিয়ের আগ্রহ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় পরিমাণে।" (রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৯৭)

অর্থাৎ, শরীয়ত বাগদাতাকে শুধুমাত্র একবার বা প্রয়োজনীয় পরিমাণে পাত্রী দেখার অনুমতি দিয়েছে—যাতে সে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু এরপর অবাধ মেলামেশা, কথোপকথন বা মোবাইল যোগাযোগের কোনো অনুমতি নেই।

৩. মোবাইল যোগাযোগের বিধান:

মোবাইলে কথোপকথনও শারীরিকভাবে পৃথক থাকলেও কণ্ঠস্বর শোনা এবং একান্তে (প্রাইভেট) কথোপকথন শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। কারণ এটি ফিতনার (প্রলোভনের) কারণ। হাদীসে এসেছে:

مَا رَأَيْتُ مِنَ النَّاقِصَاتِ عَقْلًا وَدِينًا أَذْهَبَ لِلُبِّ الرَّجُلِ الْحَازِمِ مِنْ إِحْدَاكُنَّ "আমি জ্ঞান ও দ্বীনের দিক থেকে ন্যূনপূর্ণ নারীদের চেয়ে বুদ্ধিমান পুরুষের বিবেক কেড়ে নেওয়ার মতো আর কিছু দেখিনি।" (সহীহ বুখারী: ৩০৪)

পাত্রীর করণীয়

প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে পাত্রীর করণীয় হলো:

১. আল্লাহকে ভয় করা: পাত্রীকে সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ সবকিছু দেখছেন ও শুনছেন। গোপনে কোনো কাজ করলেও আল্লাহ জানেন।

২. যোগাযোগ বন্ধ করা: পাত্রীর উচিত পাত্রের সাথে সকল প্রকার মোবাইল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। যদি পাত্র নিজে যোগাযোগ করে, তাহলে তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া যে, বিয়ের আগে আমাদের মধ্যে কথা বলা শরীয়তসম্মত নয়।

৩. অভিভাবকদের জানানো: পাত্রী তার অভিভাবকদের (বাবা-মা) বিষয়টি জানাবে এবং তাদেরকে বলবে যে, এনগেজমেন্টের পর বিয়ে বিলম্বিত রাখা এবং আমাদের মধ্যে অবাধ যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া শরীয়তসম্মত নয়। বিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে বলবে।

৪. বিয়ের পূর্বে সাক্ষাতের প্রয়োজন হলে: যদি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রীর দেখা-সাক্ষাতের প্রয়োজন হয়, তবে তা অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এবং শরীয়তসম্মত পর্দার সাথে হতে পারে। মোবাইলে প্রাইভেট কথোপকথন নয়।

৫. তাওবা করা: ইতিমধ্যে যদি কোনো গুনাহ হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।

বিয়ে বিলম্বিত করার বিধান

বাগদানের পর বিয়ে বিলম্বিত করা এবং পাত্র-পাত্রীকে অবাধ মেলামেশার সুযোগ দেওয়া অভিভাবকদের জন্য মারাত্মক গুনাহের কাজ। অভিভাবকদের উচিত:

১. বিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করা। প্রয়োজনে প্রথমে শুধু ঘরোয়া ভাবে কয়েক জনের উপস্থিতিতে বিয়েটা হয়ে যেতে পারে এবং পরে বড় আকারে অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। ২. বিয়ের পূর্বে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে যোগাযোগের কোনো সুযোগ না দেওয়া। ৩. প্রয়োজনে শরীয়তসম্মত উপায়ে (অভিভাবকের উপস্থিতিতে) পাত্র-পাত্রীকে দেখার ব্যবস্থা করা বা প্রথমে শুধু ঘরোয়া ভাবে কয়েক জনের উপস্থিতিতে বিয়েটা হয়ে যেতে পারে এবং পরে বড় আকারে অনুষ্ঠান করা যেতে পারে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.