তালাকের ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায়

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4555
Questioner: Sagorika Tasnim
Question Asked: 27 Aug 2026, 10:14 PM
Reviewed & Published: 27 Aug 2026, 10:56 PM
Views: 30
Tokens: 13,047
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন মেয়ে .হুজুর আমি আমার স্বামীকে বার বার তালাক নিয়ে সন্দেহ আর প্রশ্ন করতে থাকি উনি তখন আমার কথায় বারবার বিরক্ত হয়ে বলেন যে মনে নাই দিয়ে দিয়েছিলাম হয়ত এখন মনে করতে গেলে দেখা যাবে যে দিয়ে দিছিলাম হয়তো( আমাকে ভয় দেখানোর জন্যে উপহাস করে বলেন বাস্তবে দেন নি) সব বলেছিলাম হয়ে গেছে আমার illegal দূরে থাকো আমি তখন বলি যে ভয় দেখাচ্ছেন আমি বার বার জিজ্ঞাসা করছি তাই এরপর উনি বলেন যে " তিন টা হয়ে গেছে" আলহামদুলিল্লাহ পড় সবাই আলহামদুলিল্লাহ " । "হয়ে গিয়ে থাকলে সামনে শুক্রবার ৫০ টাকা দান করবো" আমি তখন বলি যে কি হবে উনি বলেন যে "ডিভোর্স" কি হবে এর উত্তরে উনি এটা বলেছেন শুধুমাত্রআমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন (তালাক দেন নি ) ১. এতে কি কোনো সমস্যা হবে ২. এই শব্দ গুলার কারণে কি কোনো সমস্যা হবে "আমি বলি যে আপনি না দিলে কীভাবে হয় উনি তখন আমাকে গালি দিয়ে বলেন যে জানিস তো দেই নি তো তাহলে ৩..এই কথা গুলো বলার জন্যে কি কোনো সমস্যা হবে ? কেনো এটার জন্য কোন সমস্যা হবে কি আমার তালাকের ওয়াসওয়াসার জন্য বার বার প্রশ্ন করায় এগুলো বলেছেন বাস্তবে কোনো তালাক দেন নি এবং পরে আবার উনার সাথে কথা হলে আমি বলি যে বৌ একটা কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেওয়া যায় না কিন্তু ঝগড়া করা যায় উনি তখন বলেন যে একটা কথা কইবার বলা লাগে রোজ বলিস এবার শেষ আর জিজ্ঞাসা করবোনা দিয়ে আবার জিজ্ঞাস করিস কালকে রাতেও বলেছিলি আজকেই শেষ আর জিজ্ঞাসা করবোনা আমি বলি যে আমি ভাবছি আপনি হয়তো ভালোভাবে না পড়ে উত্তর দিয়েছেন উনি তখন বলেন যে আমি যা বলবো তাই বিশ্বাস করবি আমি যদি বলি মিথ্যা দিয়ে যে হয়ে গেছে মনে করতে গিয়ে আমি তখন বলি যে মিথ্যা বলবেন কানো সত্যি বলবেন উনি তখন বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য রাগে বলেন যে হয়ে গেছে আমি পরপুরুষ কথা বলিস না এখন পরপুরুষ আমি বলি মজা করিয়েন না তো ভাল্লাগেনা উনি বলেন এখন তো হিল্লা করতে হবে হিল্লা করবি নাকি আমি বলি কেনো করবো উনি বলেন যে বেশি রকম করলে তোকে রেখে পালাবো বাস্তবে উনি কোনো তালাক দেন নি শুধুমাত্র আমার বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য বিরক্ত হয়ে এগুলা বলেন উনার মিথ্যা কথা তালাক হয়ে গেছে বলার জন্য কি কোনো সমস্যা হবে। আমি বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য উনি বলেন যে এইবার জিজ্ঞাসা করলে বলবো যে দিয়ে দিয়েছি তাহলে আর কাহিনী করতে হবেনা মানে মিথ্যা দিয়ে বলবেন আমার উপরে বিরক্ত হয়ে বার বার জিজ্ঞাসা করায় ।৪.হুজুর আমি আগে স্বামীর কাছে তালাক চেয়ে থাকলে স্বামী কিনায়া শব্দ নিয়তে ছাড়া বললে বা দুইজনের মধ্যে তালাক নিয়ে ঝগড়া চলতে থাকলে স্বামী নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দ বললে বা স্বামী তালাকের হুমকি দিতে থাকলে বা তালাকের হুমকি দেওয়ার সময় নিয়ত ছাড়া কিনায়া। শব্দ বললে বা রাগ করে স্বামী কিনায়া শব্দ নিয়ত ছাড়া বললে কি কোনো সমস্যা হবে ।৫. আমার স্বামীর সামনে ফোনে তালাকের ফতওয়া পড়ার সময় স্বামীর সামনে অন্য বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে তালাকের নিয়ত ছাড়া যদি তালাক কথাটি বার হয়ে যেতে থাকলে আমি চুপ হয়ে যায় পুরপুরী বলিনি তাতে কি কোন সমস্যা হবে আমি যতদূর জানি তালাক প্রদানের ক্ষমতা স্বামীর আমার কাছে তালাকের কোনো অধিকার নেই যেহেতু আমি একজন মেয়ে তাহলে আমার এই বিষয়টা নিয়ে কি কোনো সমস্যা হবে ।আমার স্বামী রাগ করে নিয়ত ছাড়া অনেকদিন আগে বলেছিলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম । ৬. তালাক প্রদানের অধিকার দিতে চেয়েছিলেন নিয়ত ছাড়া রাগ করে বলেছিলেন মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি শুধুমাত্র রাগ করে বলেছেন সত্যি সত্যি কোনো অধিকার দেন নি তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায় ? কিন্তু আমি রিজেক্ট করে দিয়েছিলাম যেহেতু অধিকার নেই আমার কাছে তাহলে আমার মুখের আজকের এই বিষয়টার জন্য কোনো সমস্যা হবে তালাক বলে ফেললে কি কোনো সমস্যা হত

Answer

তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

ভূমিকা

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল। আপনি তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করার কারণে আপনার স্বামী বিভিন্ন কথা বলেছেন। আমি সালাফি/আহলে হাদীস মাযহাব অনুযায়ী কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে উত্তর দিচ্ছি।


১. "তিনটা হয়ে গেছে" বলার বিধান

উত্তর: আপনার স্বামী যদি রাগের মাথায় বা আপনাকে ভয় দেখানোর জন্য "তিনটা হয়ে গেছে" বলেন, কিন্তু বাস্তবে তালাক দেওয়ার নিয়ত না থাকে, তাহলে এই কথা দ্বারা তালাক পতিত হবে না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাক নির্ভর করে নিয়তের উপর। যদি কেউ তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু তালাকের নিয়ত না রাখে, তাহলে তালাক পতিত হবে না।"

তবে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যদি স্বামী স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দটি বলেন এবং তা তালাকের নিয়তে বলেন, তাহলে তা পতিত হবে। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী তিনি শুধু বলেছেন "তিনটা হয়ে গেছে" - এটি যদি তালাকের নিয়তে না বলে থাকেন, তাহলে তালাক পতিত হবে না।


২. "ডিভোর্স" শব্দ বলার বিধান

উত্তর: "ডিভোর্স" শব্দটি তালাকের সমার্থক। যদি স্বামী এই শব্দটি তালাকের নিয়তে বলেন, তাহলে তালাক পতিত হবে। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে তিনি শুধু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি।

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যক্তি তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে, তার নিয়ত বিবেচনা করা হবে। যদি সে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা না রাখে, তাহলে তালাক পতিত হবে না।"


৩. "মিথ্যা দিয়ে বলবো যে দিয়ে দিয়েছি" বলার বিধান

উত্তর: আপনার স্বামী যদি রাগের মাথায় বলেন "দিয়ে দিয়েছি" কিন্তু বাস্তবে তালাক না দেন এবং তালাকের নিয়তও না থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে না। তবে মিথ্যা বলা হারাম এবং এর জন্য তওবা করা wajib।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো, কারণ মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।" (সহীহ বুখারী: ৬০৯৪, সহীহ মুসলিম: ২৬০৭)


৪. কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দে তালাকের বিধান

উত্তর: তালাকের কিনায়া শব্দ (যেমন: "তুমি মুক্ত", "তোমার জন্য রাস্তা খোলা" ইত্যাদি) দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। যদি স্বামী নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দ বলেন, তাহলে তালাক পতিত হবে না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না।"

তবে স্পষ্ট শব্দ (যেমন: "তালাক", "আমি তোমাকে তালাক দিলাম") দ্বারা নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয়, যদি তা রাগের কারণে না হয়।


৫. স্ত্রীর তালাক বলার বিধান

উত্তর: স্ত্রীর তালাক দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তালাক দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র স্বামীর। আপনি যদি তালাক শব্দটি উচ্চারণ করেন, তাহলে তা দ্বারা কোনো তালাক পতিত হবে না।

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাক দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র স্বামীর। স্ত্রী তালাক দিতে পারে না। স্ত্রী শুধুমাত্র খুলা (মুবারাত) নিতে পারে।"


৬. স্বামী "তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম" বলার বিধান

উত্তর: স্বামী যদি রাগের মাথায় বলেন "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম" কিন্তু নিয়ত না থাকে, তাহলে তা দ্বারা স্ত্রীর তালাক দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। তবে যদি স্বামী সত্যিই স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দিতে চান এবং তা সাক্ষীদের সামনে ঘোষণা করেন, তাহলে তা বৈধ।

শাইখ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়, তাহলে স্ত্রী ইচ্ছা করলে তালাক নিতে পারবে। কিন্তু যদি তা রাগের মাথায় বলা হয় এবং নিয়ত না থাকে, তাহলে তা কার্যকর হবে না।"


আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর:

১. "তিনটা হয়ে গেছে" - নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হবে না। ২. "ডিভোর্স" - নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হবে না। ৩. "মিথ্যা দিয়ে বলবো" - তালাক পতিত হবে না, তবে মিথ্যা বলা হারাম। ৪. কিনায়া শব্দ - নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হবে না। ৫. স্ত্রীর তালাক বলা - স্ত্রীর তালাক দেওয়ার অধিকার নেই, তাই তালাক পতিত হবে না। ৬. "অধিকার দিয়ে রাখলাম" - রাগের মাথায় নিয়ত ছাড়া বললে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না।


গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

১. তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা বন্ধ করুন - এটি ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) এবং এতে আপনার বিবাহিত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

২. আল্লাহর কাছে দোয়া করুন - ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য।

৩. স্বামীর সাথে ভালো ব্যবহার করুন - তালাক নিয়ে ঝগড়া না করে পরিবারের শান্তি বজায় রাখুন।

৪. বিশ্বস্ত আলেমের কাছে যান - প্রয়োজনে স্থানীয় কোনো বিশ্বস্ত আলেমের সাথে পরামর্শ করুন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, যে তালাকের মতো ঘৃণ্য হালাল কাজটি করে না।" (আবু দাউদ: ২২২৬, ইবনে মাজাহ: ২০১৮)


আল্লাহই সর্বজ্ঞ। যদি আপনার আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় জিজ্ঞাসা করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.