তালাকের সন্দেহ নিয়ে ওয়াসওয়াসা

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4547
Questioner: Sagorika Tasnim
Question Asked: 27 Aug 2026, 07:00 PM
Reviewed & Published: 27 Aug 2026, 07:33 PM
Views: 12
Tokens: 12,626
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন মেয়ে হুজুর আমি আমার স্বামীকে বার বার তালাক নিয়ে সন্দেহ আর প্রশ্ন করতে থাকি উনি তখন আমার কথায় বারবার বিরক্ত হয়ে বলেন যে মনে নাই দিয়ে দিয়েছিলাম হয়ত এখন মনে করতে গেলে দেখা যাবে যে দিয়ে দিছিলাম হয়তো( আমাকে ভয় দেখানোর জন্যে উপহাস করে বলেন বাস্তবে দেন নি) সব বলেছিলাম হয়ে গেছে আমার illegal দূরে থাকো আমি তখন বলি যে ভয় দেখাচ্ছেন আমি বার বার জিজ্ঞাসা করছি তাই এরপর উনি বলেন যে " তিন টা হয়ে গেছে" আলহামদুলিল্লাহ পড় সবাই আলহামদুলিল্লাহ " । "হয়ে গিয়ে থাকলে সামনে শুক্রবার ৫০ টাকা দান করবো" আমি তখন বলি যে কি হবে উনি বলেন যে "ডিভোর্স" কি হবে এর উত্তরে উনি এটা বলেছেন শুধুমাত্রআমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন (তালাক দেন নি ) এতে কি কোনো সমস্যা হবে ১. এই শব্দ গুলার কারণে কি কোনো সমস্যা হবে "আমি বলি যে আপনি না দিলে কীভাবে হয় উনি তখন আমাকে গালি দিয়ে বলেন যে জানিস তো দেই নি তো তাহলে ২..এই কথা গুলো বলার জন্যে কি কোনো সমস্যা হবে ? কেনো এটার জন্য কোন সমস্যা হবে কি আমার তালাকের ওয়াসওয়াসার জন্য বার বার প্রশ্ন করায় এগুলো বলেছেন বাস্তবে কোনো তালাক দেন নি এবং পরে আবার উনার সাথে কথা হলে আমি বলি যে বৌ একটা কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেওয়া যায় না কিন্তু ঝগড়া করা যায় উনি তখন বলেন যে একটা কথা কইবার বলা লাগে রোজ বলিস এবার শেষ আর জিজ্ঞাসা করবোনা দিয়ে আবার জিজ্ঞাস করিস কালকে রাতেও বলেছিলি আজকেই শেষ আর জিজ্ঞাসা করবোনা আমি বলি যে আমি ভাবছি আপনি হয়তো ভালোভাবে না পড়ে উত্তর দিয়েছেন উনি তখন বলেন যে আমি যা বলবো তাই বিশ্বাস করবি আমি যদি বলি মিথ্যা দিয়ে যে হয়ে গেছে মনে করতে গিয়ে আমি তখন বলি যে মিথ্যা বলবেন কানো সত্যি বলবেন উনি তখন বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য রাগে বলেন যে হয়ে গেছে আমি পরপুরুষ কথা বলিস না এখন পরপুরুষ আমি বলি মজা করিয়েন না তো ভাল্লাগেনা উনি বলেন এখন তো হিল্লা করতে হবে হিল্লা করবি নাকি আমি বলি কেনো করবো উনি বলেন যে বেশি রকম করলে তোকে রেখে পালাবো বাস্তবে উনি কোনো তালাক দেন নি শুধুমাত্র আমার বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য বিরক্ত হয়ে এগুলা বলেন উনার মিথ্যা কথা তালাক হয়ে গেছে বলার জন্য কি কোনো সমস্যা হবে। আমি বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য উনি বলেন যে এইবার জিজ্ঞাসা করলে বলবো যে দিয়ে দিয়েছি তাহলে আর কাহিনী করতে হবেনা মানে মিথ্যা দিয়ে বলবেন আমার উপরে বিরক্ত হয়ে বার বার জিজ্ঞাসা করায় ।৩.হুজুর আমি আগে স্বামীর কাছে তালাক চেয়ে থাকলে স্বামী কিনায়া শব্দ নিয়তে ছাড়া বললে বা দুইজনের মধ্যে তালাক নিয়ে ঝগড়া চলতে থাকলে স্বামী নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দ বললে বা স্বামী তালাকের হুমকি দিতে থাকলে বা তালাকের হুমকি দেওয়ার সময় নিয়ত ছাড়া কিনায়া। শব্দ বললে বা রাগ করে স্বামী কিনায়া শব্দ নিয়ত ছাড়া বললে কি কোনো সমস্যা হবে ।৪. আমার স্বামীর সামনে ফোনে তালাকের ফতওয়া পড়ার সময় স্বামীর সামনে অন্য বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে তালাকের নিয়ত ছাড়া যদি তালাক কথাটি বার হয়ে যেতে থাকলে আমি চুপ হয়ে যায় পুরপুরী বলিনি তাতে কি কোন সমস্যা হবে আমি যতদূর জানি তালাক প্রদানের ক্ষমতা স্বামীর আমার কাছে তালাকের কোনো অধিকার নেই যেহেতু আমি একজন মেয়ে তাহলে আমার এই বিষয়টা নিয়ে কি কোনো সমস্যা হবে ।আমার স্বামী রাগ করে নিয়ত ছাড়া অনেকদিন আগে বলেছিলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম । ৫. তালাক প্রদানের অধিকার দিতে চেয়েছিলেন নিয়ত ছাড়া তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায় ? কিন্তু আমি রিজেক্ট করে দিয়েছিলাম যেহেতু অধিকার নেই আমার কাছে তাহলে আমার মুখের আজকের এই বিষয়টার জন্য কোনো সমস্যা হবে কি এতে কি কোনো সমস্যা হবে

Answer

তালাক সংক্রান্ত সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসার উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল। আপনি তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা এবং স্বামীর বিভিন্ন কথার কারণে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। নিচে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:


১. তালাকের শর্ত ও নিয়তের গুরুত্ব

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"ইন্নামাল আ'মালু বিন নিয়্যাত..." "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭)

তালাক শুধুমাত্র তখনই কার্যকর হয় যখন স্বামী স্পষ্টভাবে তালাক দেওয়ার নিয়ত করে এবং তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে। যদি স্বামী রাগের বশবর্তী হয়ে বা উপহাস করে বা ভয় দেখানোর জন্য "তালাক" শব্দটি বলেন, কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, তাহলে তালাক কার্যকর হবে না।


২. আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর

প্রশ্ন ১: স্বামী "তিনটা হয়ে গেছে" বলেছেন—এতে কি তালাক হবে?

উত্তর: যদি স্বামী শুধুমাত্র আপনার বারবার প্রশ্নের উত্তরে বিরক্ত হয়ে "তিনটা হয়ে গেছে" বলেন, কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে এবং তিনি বাস্তবে তালাক না দিয়ে থাকেন, তাহলে এতে তালাক কার্যকর হবে না। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত। যদি কেউ তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু নিয়ত না করে, তাহলে তালাক পতিত হবে না।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩৩/৮১)

প্রশ্ন ২: স্বামী "দিয়ে দিয়েছি" বলেছেন—এতে কি তালাক হবে?

উত্তর: যদি স্বামী মিথ্যা বলে বা রাগের বশবর্তী হয়ে "দিয়ে দিয়েছি" বলেন, কিন্তু বাস্তবে তালাক না দেন এবং তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, তাহলে তালাক কার্যকর হবে না। শায়খ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি রাগের বশবর্তী হয়ে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে না।" (আশ-শারহুল মুমতি': ১৩/৮৫)

প্রশ্ন ৩: কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দে তালাক

উত্তর: কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। যদি স্বামী কিনায়া শব্দ বলেন কিন্তু নিয়ত না করেন, তাহলে তালাক কার্যকর হবে না। শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন:

"কিনায়া শব্দে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না।" (আল-মুলাখখাসুল ফিকহী: ২/৩০৫)

প্রশ্ন ৪: স্ত্রীর মুখ দিয়ে তালাকের শব্দ বের হওয়া

উত্তর: তালাক দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র স্বামীর। স্ত্রীর মুখ দিয়ে তালাকের শব্দ বের হলে তা কোনো তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ" "হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দেবে, তখন তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দেবে।" (সূরা আত-তালাক: ১)

এই আয়াতে তালাকের ক্ষমতা স্বামীর উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। স্ত্রীর তালাক দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।

প্রশ্ন ৫: স্বামী "তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম" বলেছেন—এতে কি অধিকার পাওয়া যায়?

উত্তর: ইসলামি শরিয়তে তালাকের অধিকার স্বামীর। স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া বৈধ নয়, বরং এটি শরিয়তসম্মত নয়। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া জায়েয নয়। তালাকের অধিকার শুধুমাত্র স্বামীর।" (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায: ২২/১২৫)

যেহেতু আপনি সেই অধিকার প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং শরিয়তেও তা বৈধ নয়, তাই আপনার মুখের কোনো কথায় তালাক হবে না।


৩. ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) থেকে মুক্তির উপায়

আপনি তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করে নিজেকে এবং স্বামীকে কষ্ট দিচ্ছেন। এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"لَا يَزَالُ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ حَتَّى يُقَالَ: هَذَا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ، فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ" "মানুষ সবসময় প্রশ্ন করতে থাকবে, এমনকি বলা হবে: আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? তোমাদের মধ্যে কেউ এরূপ কিছু অনুভব করলে সে যেন বলে: আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি।" (সহীহ মুসলিম: ১৩৪)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায় হলো: তা উপেক্ষা করা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ১০/২২৮)


৪. আপনার করণীয়

১. তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা বন্ধ করুন — এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা। ২. স্বামীর সাথে সুন্দরভাবে কথা বলুন — ঝগড়া না করে। ৩. আল্লাহর কাছে দোয়া করুন — ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য। ৪. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন — নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ইত্যাদিতে। ৫. স্থানীয় আলেমের সাথে পরামর্শ করুন — প্রয়োজনে।


৫. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার স্বামী বাস্তবে কোনো তালাক দেননি। তিনি শুধুমাত্র আপনার বারবার প্রশ্নের কারণে বিরক্ত হয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। যেহেতু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার ছিল না, তাই কোনো তালাক কার্যকর হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ এবং আপনি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকতে পারবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:

  • সহীহ বুখারী: ১
  • সহীহ মুসলিম: ১৯০৭, ১৩৪
  • সূরা আত-তালাক: ১
  • মাজমুউল ফাতাওয়া (ইবনে তাইমিয়্যাহ): ৩৩/৮১, ১০/২২৮
  • আশ-শারহুল মুমতি' (ইবনে উসাইমীন): ১৩/৮৫
  • আল-মুলাখখাসুল ফিকহী (সালেহ আল-ফাওযান): ২/৩০৫
  • মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায: ২২/১২৫

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.