তালাকের নিয়ম বোঝাতে গিয়ে তালাক পতিত হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4545
Questioner: Faruk Hosen
Question Asked: 27 Aug 2026, 06:05 PM
Reviewed & Published: 27 Aug 2026, 06:08 PM
Views: 29
Tokens: 3,660
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন মেয়ে, কিছুদিন আগে আমি আমার স্বামীকে একজনের তালাকের ঘটনা বর্ননা করতে গিয়ে এবং তালাকে তাহবীজের নিয়ম বুঝাতে গিয়ে বলেছিলাম যে তালাকে তাহবীজের ক্ষেত্রে আমি আপনার থেকে তালাক গ্রহন করলাম এভাবে বলতে হয় দিলাম বললে হয়না। আমার একথা শুধু মাত্র নিয়ম বুঝনো এবং ঘটনার পরিপেক্ষিতে ছিল আমার স্বামীর জন্য আমার মনে এমন কোন নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছিলনা। কিন্তু বলার পর আমার মনে মনে খারাপ লাগছে এভাবে বলার কারনে কোন ক্ষতি হয়নি তো? (উল্লেখ আমার কাবিননামায় আমাকে কিছু শর্ত সাপেক্ষে তালাকের অধিকার দেওয়া আছে) যদিও আমি আমার স্বামীকে কোনভাবেই উদ্দেশ্য করিনি বোঝানোর উদ্দেশ্যই বলে ফেলছিলাম।

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়লাম। আপনি আপনার স্বামীকে তালাকের নিয়ম বোঝাতে গিয়ে বলেছেন: "তালাকে তাফবিজের ক্ষেত্রে আমি আপনার থেকে তালাক গ্রহণ করলাম, এভাবে বলতে হয়, দিলাম বললে হয় না।" এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগছে যে, এই কথা বলার কারণে আপনার উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না।

উত্তর হলো: না, আপনার উপর তালাক পতিত হয়নি।

কারণ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ:

১. নিয়তের গুরুত্ব: ইসলামী আইনে তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (ইন্তেখাব) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে আছে, "নিয়তের উপরই আমলের ফল নির্ভর করে।" (সহিহ বুখারী: ১) আপনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আপনার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র নিয়ম বোঝানো, আপনার স্বামীকে তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য আপনার ছিল না। তাই আপনার কথা দ্বারা তালাক পতিত হবে না।

২. তালাকে তাফবিজের শর্ত: আপনার কাবিননামায় তালাকের অধিকার দেওয়া থাকলেও, তা নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে। সেই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আপনি নিজে থেকে তালাক দিতে পারবেন না। যেহেতু আপনি তালাকের নিয়ম বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দিয়েছেন, তাই এটি তালাকের নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে না।

৩. হানাফি ফিকহের নীতি: হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (আল-হাসিয়া) -এ উল্লেখ আছে, তালাকের শব্দ ব্যবহার করলেও যদি তা শিক্ষা বা নিয়ম বোঝানোর উদ্দেশ্যে হয় এবং তালাকের নিয়ত না থাকে, তাহলে তালাক পতিত হয় না। (রদ্দুল মুহতার: ৩/২৩০)

৪. ফতোয়ায়ে উসমানি ও ইমদাদুল ফতোয়া: এই গ্রন্থগুলোতেও উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি তালাকের নিয়ম শেখানোর জন্য বা ঘটনা বর্ণনা করার জন্য তালাকের শব্দ ব্যবহার করে, কিন্তু তার নিয়ত তালাক না হয়, তাহলে তার তালাক পতিত হবে না। (ফতোয়ায়ে উসমানি: ২/৪৫০, ইমদাদুল ফতোয়া: ৩/৪৫)

৫. আপনার স্বামীর প্রতি আপনার ভালোবাসা: আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনার স্বামীর প্রতি আপনার কোনো ক্ষোভ বা তালাকের ইচ্ছা ছিল না। বরং আপনি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম বোঝাতে গিয়ে কথাটি বলে ফেলেছেন। এটি আপনার নিয়তের পবিত্রতা প্রমাণ করে।

উপসংহার: আপনার বলা ঐ কথার কারণে আপনার উপর তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল রয়েছে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন এবং তালাকের শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন, কারণ শয়তান মানুষকে এ ধরনের কথার মাধ্যমে ধোঁকা দিতে চায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং সকল প্রকার ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.