তালাকের ওয়াসওয়াসা নিয়ে প্রশ্ন

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4539
Questioner: Sagorika Tasnim
Question Asked: 27 Aug 2026, 03:27 PM
Reviewed & Published: 27 Aug 2026, 03:59 PM
Views: 15
Tokens: 12,438
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন মেয়ে .হুজুর আমি স্বামীকে বার বার তালাক নিয়ে সন্দেহ আর প্রশ্ন করতে থাকি উনি তখন আমার কথায় বারবার বিরক্ত হয়ে বলেন যে মনে নাই দিয়ে দিয়েছিলাম হয়ত এখন মনে করতে গেলে দেখা যাবে যে দিয়ে দিছিলাম হয়তো( আমাকে ভয় দেখানোর জন্যে উপহাস করে বলেন বাস্তবে দেন নি) সব বলেছিলাম হয়ে গেছে আমার illegal দূরে থাকো আমি তখন বলি যে ভয় দেখাচ্ছেন আমি বার বার জিজ্ঞাসা করছি তাই এরপর উনি বলেন যে " তিন টা হয়ে গেছে" আলহামদুলিল্লাহ পড় সবাই আলহামদুলিল্লাহ " । "হয়ে গিয়ে থাকলে সামনে শুক্রবার ৫০ টাকা দান করবো" আমি তখন বলি যে কি হবে উনি বলেন যে "ডিভোর্স "আমি বলি যে আপনি না দিলে কীভাবে হয় উনি তখন আমাকে গালি দিয়ে বলেন যে জানিস তো দেই নি তো তাহলে ১.এগুলা বলার জন্যে কি কোনো সমস্যা হবে ? কেনো এটার জন্য কোন সমস্যা হবে কি আমার তালাকের ওয়াসওয়াসার জন্য বার বার প্রশ্ন করায় এগুলো বলেছেন বাস্তবে কোনো তালাক দেন নি এবং পরে আবার উনার সাথে কথা হলে আমি বলি যে বৌ একটা কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেওয়া যায় না কিন্তু ঝগড়া করা যায় উনি তখন বলেন যে একটা কথা কইবার বলা লাগে রোজ বলিস এবার শেষ আর জিজ্ঞাসা করবোনা দিয়ে আবার জিজ্ঞাস করিস কালকে রাতেও বলেছিলি আজকেই শেষ আর জিজ্ঞাসা করবোনা আমি বলি যে আমি ভাবছি আপনি হয়তো ভালোভাবে না পড়ে উত্তর দিয়েছেন উনি তখন বলেন যে আমি যা বলবো তাই বিশ্বাস করবি আমি যদি বলি মিথ্যা দিয়ে যে হয়ে গেছে মনে করতে গিয়ে আমি তখন বলি যে মিথ্যা বলবেন কানো সত্যি বলবেন উনি তখন বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য রাগে বলেন যে হয়ে গেছে আমি পরপুরুষ কথা বলিস না এখন পরপুরুষ আমি বলি মজা করিয়েন না তো ভাল্লাগেনা উনি বলেন এখন তো হিল্লা করতে হবে হিল্লা করবি নাকি আমি বলি কেনো করবো উনি বলেন যে বেশি রকম করলে তোকে রেখে পালাবো বাস্তবে উনি কোনো তালাক দেন নি শুধুমাত্র আমার বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য বিরক্ত হয়ে এগুলা বলেন ২.উনার মিথ্যা কথা তালাক হয়ে গেছে বলার জন্য কি কোনো সমস্যা হবে। আমি বার বার জিজ্ঞাসা করার জন্য উনি বলেন যে এইবার জিজ্ঞাসা করলে বলবো যে দিয়ে দিয়েছি তাহলে আর কাহিনী করতে হবেনা মানে মিথ্যা দিয়ে বলবেন আমার উপরে বিরক্ত হয়ে বার বার জিজ্ঞাসা করায় ।৩.হুজুর আমি আগে স্বামীর কাছে তালাক চেয়ে থাকলে বা দুইজনের মধ্যে তালাক নিয়ে ঝগড়া চলতে থাকলে বা স্বামী তালাকের হুমকি দিতে থাকলে বা রাগ করে স্বামী কেনায় শব্দ নিয়ত ছাড়া বললে কি কোনো সমস্যা হবে ।৪. আমার স্বামীর সামনে ফোনে তালাকের ফতওয়া পড়ার সময় স্বামীর সামনে অন্য বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে তালাকের নিয়ত ছাড়া যদি তালাক কথাটি বার হয়ে যেতে থাকলে আমি চুপ হয়ে যায় পুরপুরী বলিনি তাতে কি কোন সমস্যা হবে আমি যতদূর জানি তালাক প্রদানের ক্ষমতা স্বামীর আমার কাছে তালাকের কোনো অধিকার নেই স্বামী রাগ করে নিয়ত ছাড়া অনেকদিন আগে বলেছিলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম ।অধিকার দিতে চেয়েছিলেন নিয়ত ছাড়া কিন্তু আমি রিজেক্ট করে দিয়েছিলাম যেহেতু অধিকার নেই আমার কাছে তাহলে আমার মুখের আজকের এই বিষয়টার জন্য কোনো সমস্যা হবে কি এতে কি কোনো সমস্যা হবে

Answer

তালাক সংক্রান্ত সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসার উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল। আপনি তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা এবং স্বামীর বিভিন্ন উক্তির কারণে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। নিচে ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:


১. স্বামীর "তালাক হয়ে গেছে" বলার বিধান

প্রশ্ন: স্বামী রাগ করে বা বিরক্ত হয়ে "তালাক হয়ে গেছে" বললে কি তালাক পতিত হবে?

উত্তর: ইসলামী ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (ইন্তেখাব) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"ইন্নামাল আ'মালু বিন নিয়্যাত..." "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭)

তালাকের ব্যাপারে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে:

ক. রাগের অবস্থায় তালাক:

যদি স্বামী এমন তীব্র রাগের কারণে তালাক দেয় যে সে নিজের কথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এবং তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু ভয় দেখানো বা উপহাস করা, তবে অনেক আলেমের মতে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি রাগের কারণে তালাক দেয় এবং সে তার কথা সম্পর্কে অবগত নয়, তার তালাক পতিত হয় না।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩৩/৯৩)

তবে শায়খ ইবনে বায (রহ.) এবং শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) সহ অধিকাংশ আলেমের মতে, রাগের তালাক পতিত হয় যদি রাগ তীব্র না হয় এবং ব্যক্তি তার কথা বুঝে থাকে। কিন্তু যদি রাগ এত তীব্র হয় যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ অজ্ঞান হয়ে যায় বা নিজের কথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাহলে তালাক পতিত হয় না।

খ. ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তালাক:

যদি স্বামী শুধু ভয় দেখানোর জন্য বা উপহাস করার জন্য "তালাক" শব্দটি ব্যবহার করে এবং তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, তাহলে:

শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না হয়, বরং শুধু ভয় দেখানো বা উপহাস করা হয়, তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত।"

তবে শায়খ আল-আলবানী (রহ.) এর মতে, তালাকের শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে, যদিও নিয়ত না থাকে। কিন্তু তিনি বলেছেন যে, যদি ব্যক্তি সত্যিই তালাক দেওয়ার ইচ্ছা না করে এবং শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলে, তাহলে কিছু আলেমের মতে তা তালাক হবে না।

গ. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান:

যেহেতু আপনি বলেছেন যে আপনার স্বামী বাস্তবে তালাক দেননি, শুধু আপনার বারবার প্রশ্ন করার কারণে বিরক্ত হয়ে এসব কথা বলেছেন, তাই:

  • যদি স্বামী স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দটি উচ্চারণ করে থাকেন এবং তার নিয়ত তালাক দেওয়ার ছিল, তাহলে তালাক পতিত হবে।
  • যদি তিনি শুধু ভয় দেখানোর জন্য বা উপহাস করার জন্য বলেছেন এবং তার নিয়ত তালাক দেওয়ার ছিল না, তাহলে তালাক পতিত হবে না।

আপনার করণীয়: আপনি আপনার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করুন যে তিনি সত্যিই তালাক দেওয়ার নিয়তে এসব বলেছেন কিনা। যদি তিনি বলেন যে তিনি তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি, শুধু রাগের বশবর্তী হয়ে বা ভয় দেখানোর জন্য বলেছেন, তাহলে তালাক পতিত হবে না ইনশাআল্লাহ।


২. স্বামীর "মিথ্যা বলে তালাক হয়ে গেছে" বলার বিধান

প্রশ্ন: স্বামী মিথ্যা বলে "তালাক হয়ে গেছে" বললে কি তালাক পতিত হবে?

উত্তর: যদি স্বামী স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দটি উচ্চারণ করে এবং বলে "তালাক হয়ে গেছে" বা "তালাক দিলাম", তাহলে তালাক পতিত হবে, যদিও সে মিথ্যা বলে থাকে।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে, তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সে মিথ্যা বলে থাকে। কারণ তালাকের শব্দ স্পষ্ট এবং এর জন্য নিয়তের প্রয়োজন নেই।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩৩/৮৫)

তবে শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, বরং সে শুধু মজা করছে বা ভয় দেখাচ্ছে, তাহলে কিছু আলেমের মতে তা তালাক হবে না। কিন্তু সতর্কতার জন্য তালাক গণ্য করা উচিত।"

আপনার ক্ষেত্রে: যেহেতু আপনার স্বামী বলেছেন "তালাক হয়ে গেছে" এবং পরে বলেছেন "জানিস তো দেই নি", তাই এখানে দ্বিধা আছে। যদি তিনি সত্যিই তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে থাকেন, তাহলে তালাক পতিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। আপনার উচিত একজন বিশ্বস্ত আলেমের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা।


৩. তালাক নিয়ে ঝগড়া বা তালাকের হুমকির বিধান

প্রশ্ন: স্বামী তালাকের হুমকি দিলে বা রাগ করে নিয়ত ছাড়া তালাক বললে কি তালাক পতিত হবে?

উত্তর:

ক. তালাকের হুমকি:

যদি স্বামী বলে "তালাক দেব" বা "তালাক দিয়ে দেব" (ভবিষ্যতের কথা), তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ এটি হুমকি বা ভবিষ্যতের ওয়াদা।

খ. রাগ করে নিয়ত ছাড়া তালাক:

যদি স্বামী রাগ করে "তালাক" শব্দটি উচ্চারণ করে কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, তাহলে:

শায়খ ইবনে বায (রহ.) বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি রাগের কারণে তালাক দেয় এবং সে তার কথা সম্পর্কে সচেতন থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে। কিন্তু যদি রাগ এত তীব্র হয় যে সে নিজের কথা বুঝতে পারে না, তাহলে তালাক পতিত হবে না।"

শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন:

"তালাকের শব্দ উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয়, যদি না ব্যক্তি অজ্ঞান থাকে বা জোরপূর্বক বলা হয়। রাগের কারণে তালাক পতিত হয়, যদি না রাগ তীব্র হয়।"


৪. স্ত্রীর মুখ দিয়ে তালাক শব্দ বের হওয়ার বিধান

প্রশ্ন: স্ত্রী মুখ ফসকে তালাক শব্দ বললে কি তালাক পতিত হবে?

উত্তর: না, স্ত্রীর মুখ দিয়ে তালাক শব্দ বের হলে তালাক পতিত হবে না। কারণ:

১. তালাক দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র স্বামীর আছে। ২. স্ত্রীর তালাক দেওয়ার কোনো অধিকার নেই, যতক্ষণ না স্বামী তাকে তালাকের অধিকার দেয় (তাফবীয)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন:

"তালাক দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র স্বামীর। স্ত্রী তালাক দিতে পারে না, যতক্ষণ না স্বামী তাকে এ অধিকার দেয়।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩৩/৮৫)

স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া:

আপনি বলেছেন যে আপনার স্বামী আগে বলেছিলেন "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম" কিন্তু আপনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেছেন:

"যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয় এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তাহলে সে তালাক দিতে পারবে। কিন্তু যদি স্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তার তালাক দেওয়ার অধিকার থাকবে না।"

যেহেতু আপনি সেই অধিকার প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাই আপনার মুখ দিয়ে তালাক শব্দ বের হলে কোনো তালাক পতিত হবে না।


৫. ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) থেকে মুক্তির উপায়

আপনি তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করার কারণে স্বামীর সাথে ঝগড়া হচ্ছে। এটি মূলত ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) এর কারণে হচ্ছে। এর সমাধান:

ক. ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায়:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"তোমাদের কেউ যখন ওয়াসওয়াসা অনুভব করে, তখন সে যেন 'আমানতু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি' (আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছি) বলে এবং ওয়াসওয়াসা ত্যাগ করে।" (সহীহ মুসলিম: ১৩৪)

খ. তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা:

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি তালাক নিয়ে বারবার সন্দেহ করে, সে যেন ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব না দেয়। যদি সে নিশ্চিত না হয় যে তালাক পতিত হয়েছে, তাহলে মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকবে।"

গ. মূলনীতি:

ইসলামী ফিকহের মূলনীতি হলো:

"اليقين لا يزول بالشك" "সন্দেহ দ্বারা নিশ্চিত বিষয় বাতিল হয় না।"

অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিশ্চিত না হবেন যে তালাক পতিত হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিবাহ বহাল থাকবে।


৬. আপনার করণীয়

১. তালাক নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা বন্ধ করুন - এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা। আপনি যতবার প্রশ্ন করবেন, ততবার শয়তান আপনার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করবে।

২. স্বামীর সাথে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলুন - তালাক নিয়ে নয়, বরং আপনার ওয়াসওয়াসার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করুন।

৩. আল্লাহর কাছে দোয়া করুন - ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করুন।

৪. বিশ্বস্ত আলেমের কাছে যান - যদি সত্যিই তালাক পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে একজন বিশ্বস্ত আলেমের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করুন।

৫. নিজেকে শান্ত রাখুন - তালাক নিয়ে চিন্তা না করে নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন।


৭. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  • আপনার স্বামী বাস্তবে তালাক দেননি, শুধু আপনার বারবার প্রশ্ন করার কারণে বিরক্ত হয়ে এসব কথা বলেছেন।
  • তিনি যদি স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দ উচ্চারণ করে থাকেন, তাহলে তালাক পতিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
  • কিন্তু যদি তিনি শুধু ভয় দেখানোর জন্য বা উপহাস করার জন্য বলেছেন এবং তার নিয়ত তালাক দেওয়ার ছিল না, তাহলে তালাক পতিত হবে না।

আপনার উচিত:

  1. স্বামীকে জিজ্ঞাসা করুন যে তিনি সত্যিই তালাক দেওয়ার নিয়ত করেছেন কিনা।
  2. যদি তিনি বলেন যে নিয়ত করেননি, তাহলে তালাক পতিত হয়নি বলে ধরে নিন।
  3. যদি তিনি নিশ্চিত না হন, তাহলে একজন বিশ্বস্ত আলেমের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করুন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

"رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا" "হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.