১২ রবিউল আউয়াল তারিখে রোজা রাখা ও মিলাদ উপলক্ষে বিতরণকৃত মিষ্টি খাওয়ার বিধান সম্পর্কে জানতে চাই?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
১২ রবিউল আউয়াল তারিখে রোজা ও মিলাদ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের উত্তর
১২ রবিউল আউয়াল তারিখে রোজা রাখা যাবে কি?
হ্যাঁ, ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে রোজা রাখা যাবে। এটি নফল রোজা হিসেবে রাখা জায়েয। তবে মনে রাখতে হবে, এই দিনে রোজা রাখা সুন্নত বা বিশেষ ফজিলতের কোনো ইবাদত হিসেবে প্রমাণিত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষভাবে এই দিনে রোজা রাখার কোনো দলিল নেই। তবে সাধারণ নফল রোজা হিসেবে (যেমন: আইয়ামে বীজের রোজা, সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা) যদি এই তারিখে পড়ে, তাহলে রাখা যাবে।
মিলাদ ও মিষ্টি বিতরণ খাওয়া জায়েয কি?
মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন এবং এ উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণ করা একটি বিতর্কিত বিষয়। হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী:
১. মিলাদ উদযাপন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিন উদযাপন করা বিদ'আত। কেননা সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন এবং ইমামগণ এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করেননি। তবে যদি কেউ এই দিনে কুরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, নবী (সা.)-এর জীবনী আলোচনা করে এবং এর মাধ্যমে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে, তাহলে সেটি জায়েয হতে পারে, তবে একে "মিলাদ" নামে বিশেষ ইবাদত হিসেবে উদযাপন করা বিদ'আত।
২. মিষ্টি বিতরণ ও খাওয়া: মিষ্টি বিতরণ করা বা খাওয়া নিজে কোনো গুনাহের কাজ নয়। তবে যদি এই মিষ্টি বিতরণকে দ্বীনি ইবাদত মনে করে বিতরণ করা হয় এবং এতে বিদ'আতের সাথে সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে সেটি জায়েয নয়। কিন্তু যদি কেউ আপনাকে মিষ্টি দেয় এবং আপনি তা খান, তাহলে তা খাওয়া জায়েয, ইনশাআল্লাহ। কেননা খাবার গ্রহণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে বিদ'আতের কাজে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
দলিল ও উল্লেখযোগ্য উক্তি
১. বিদ'আত সম্পর্কে হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।" (সহিহ বুখারী: ২৬৯৭; সহিহ মুসলিম: ১৭১৮)
২. ইমাম আবু বকর আত-ত্বর্তূশী (রহ.) বলেন: "মিলাদ উদযাপন এমন একটি বিদ'আত যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ছিল না, সাহাবাদের যুগেও ছিল না, তাবেয়ীনদের যুগেও ছিল না।" (আল-হাবি'আত, ১/২৩২)
৩. আল্লামা ইবনে আবিদীন (রহ.) (রদ্দুল মুহতার) বলেন: "বিদ'আত হলো এমন আমল যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ছিল না এবং দ্বীনের মধ্যে নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৫৬০)
৪. মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন: "মিলাদুন্নবী উদযাপন করা এবং বিশেষভাবে এই দিনকে ঈদের মতো পালন করা বিদ'আত। তবে যদি কেউ এই দিনে সাধারণভাবে নবী (সা.)-এর জীবনী আলোচনা করে এবং দ্বীনি মজলিস করে, তাহলে সেটি জায়েয হতে পারে, তবে একে বিশেষ ইবাদত মনে করা যাবে না।" (মা'আরিফুল কুরআন)
৫. মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: "মিলাদুন্নবী উদযাপন করা বিদ'আত, কেননা সাহাবায়ে কিরাম এই দিনটি উদযাপন করেননি। তবে এই দিনে সাধারণভাবে নবী (সা.)-এর শান-মান বর্ণনা করা, দরুদ পাঠ করা এবং দ্বীনি আলোচনা করা জায়েয। কিন্তু একে বিশেষ ইবাদত মনে করে নির্দিষ্ট নিয়মে পালন করা বিদ'আত।" (ফাতাওয়া উসমানি, ২/১৮৫-১৮৬)
সারসংক্ষেপ
১. ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে সাধারণ নফল রোজা রাখা জায়েয, তবে বিশেষ ফজিলতের নিয়তে নয়। ২. মিলাদ উদযাপন বিদ'আত, তবে দ্বীনি আলোচনা ও দরুদ পাঠ জায়েয। ৩. বিতরণকৃত মিষ্টি খাওয়া জায়েয, তবে বিদ'আতের কাজে অংশগ্রহণের নিয়ত না করা উচিত। ৪. বিদ'আতের সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে সাধারণভাবে মিষ্টি গ্রহণ করলে কোনো গুনাহ নেই।