অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি জায়েজ?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4516
Questioner: Irfan Islam
Question Asked: 26 Aug 2026, 06:42 PM
Reviewed & Published: 26 Aug 2026, 07:08 PM
Views: 35
Tokens: 3,590
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম, আমি একজন মেয়ে। আমি আমার ফ্যামিলির অনুমতি নিয়ে একটা ছেলেকে বিয়ে করছি। কিন্তু ছেলের অভিভাবক আমাদের বিয়ের কথা জানে না। ছেলে তার অভিভাবকে বলছে আমাকে বিয়ে করবে কিন্তু ওরা রাজি হচ্ছে না। তাই‌ ছেলেটা অভিভাবকের অবাধ্য হয়ে বিয়ে টা করছে। এখন আমরা যদি ফিজিক্যাল করি এটা হারাম হবে?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আমি আশা করি নিম্নোক্ত উত্তরটি আপনার জন্য স্পষ্টতা এবং দিকনির্দেশনা নিয়ে আসবে।

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, ছেলেটি প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) হলে এবং সে তার নিজের ইচ্ছায় আপনাকে বিয়ে করতে চাইলে, ইসলামি আইন অনুযায়ী তার অভিভাবকের (ওয়ালির) অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা **ঠিক নয়। তবে এই অবস্থায় বিয়েটি যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে এবং এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক (ফিজিক্যাল) হারাম হবে না। তবে, অভিভাবকের অবাধ্য হওয়া এবং তাদের সম্মতি না নেওয়ার কারণে গুনাহের কারণ হবে।


বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও দলীল:

১. ইসলামি বিবাহের মূল শর্ত: ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, একটি বৈধ বিবাহের জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক:

  • পাত্র-পাত্রীর সম্মতি (ইজাব-ও-কবুল)।
  • সাক্ষী (দুইজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী)।

২. অভিভাবকের (ওয়ালির) ভূমিকা: হানাফি মাযহাবের মূল মতানুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী নারী বা পুরুষের জন্য নিজের বিয়ে নিজে করা বৈধ। তবে, অভিভাবকের সম্মতি গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তম।

  • হানাফি ফিকহের মূলনীতি: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, প্রাপ্তবয়স্ক নারী তার নিজের বিয়ে নিজে করতে পারে, তবে এটি মাকরূহ (অপছন্দনীয়) যদি অভিভাবকের সম্মতি না থাকে। কারণ, অভিভাবকের সম্মতি না নেওয়া পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
  • দলীল: কুরআন ও হাদিসে অভিভাবকের সম্মতির গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে হানাফি মাযহাব যুক্তি দেয় যে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "বিধবা নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করানো যাবে না, এবং কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করানো যাবে না।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৪৩) - এই হাদিসে নারীর সম্মতির গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

৩. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান: যেহেতু ছেলেটি প্রাপ্তবয়স্ক (ধরে নিচ্ছি), সে তার নিজের ইচ্ছায় আপনাকে বিয়ে করছে। আপনার পরিবারের সম্মতি আছে। ছেলের অভিভাবক রাজি না হলেও, ইসলামি আইনে ছেলেটির বিয়ে বৈধ হবে যদি সঠিকভাবে ইজাব-ও-কবুল সম্পন্ন হয় এবং সাক্ষী থাকে।

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি)-তে উল্লেখ আছে: "যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের বিয়ে নিজে করে, তবে তা বৈধ, তবে অভিভাবকের সম্মতি না নেওয়া মাকরূহ।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩০০)
  • রদ্দুল মুহতার (শামি)-তে বলা হয়েছে: "প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের নিজের বিয়ে নিজে করা বৈধ, তবে এটি মাকরূহ যদি অভিভাবকের সম্মতি না থাকে।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৫)

৪. শারীরিক সম্পর্ক (ফিজিক্যাল রিলেশন) হারাম হবে কি? যেহেতু বিয়েটি ইসলামি আইন অনুযায়ী বৈধ (যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়), তাই বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হারাম হবে না। এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং হালাল। তবে, অভিভাবকের অবাধ্য হওয়ার কারণে ছেলেটি গুনাহগার হবে, কিন্তু এই গুনাহের কারণে বিয়েটি বাতিল হবে না এবং শারীরিক সম্পর্ক হারাম হবে না।

৫. গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সতর্কতা:

  • অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করুন: ছেলেটির উচিত তার অভিভাবকদের সাথে আরও আলোচনা করা, তাদের বোঝানো এবং তাদের সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করা। কারণ, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করলে পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে এবং ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  • বিবাহের সঠিক পদ্ধতি: নিশ্চিত করুন যে, বিয়েটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে - দুইজন সাক্ষী উপস্থিত রয়েছে, ইজাব-ও-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) হয়েছে এবং মোহর নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • বিবাহ নিবন্ধন: দেশের আইন অনুযায়ী বিয়েটি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করানো অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা না হয়।

৬. আপনার করণীয়: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে, ছেলেটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং সে সঠিকভাবে বিয়ে করছে, তাহলে আপনি এই বিয়েতে থাকতে পারেন। তবে, ছেলেটিকে উৎসাহিত করুন যেন সে তার অভিভাবকদের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখে এবং তাদের সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে বিয়েটি স্থগিত রেখে অভিভাবকদের রাজি করানোই উত্তম।

উপসংহার: আপনার ক্ষেত্রে, ছেলেটি প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং বিয়েটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে, তা বৈধ হবে এবং শারীরিক সম্পর্ক হারাম হবে না। তবে অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত।

রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩০০)
  • রদ্দুল মুহতার (৩/৫৫)
  • সহিহ বুখারি (হাদিস: ৪৮৪৩)
  • আল-হিদায়া (১/১৯৪)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.