বিয়ে নিয়ে সংশয়

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4478
Questioner: ..
Question Asked: 26 Aug 2026, 12:21 AM
Reviewed & Published: 26 Aug 2026, 01:44 AM
Views: 10
Tokens: 6,684
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি একজন মেয়ে এবং মেডিকেল স্টুডেন্ট। বাইরের জগতে প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হিসেবে পরিচিত। ২০২০ সালে হেদায়াত পাওয়ার পর সবকিছু স্ট্রিক্টলি মেনে চলতাম। এরপর ৩-৪ বছর পর আমি গুনাহ করতে থাকি। যদিও এখনও বাহ্যিক লেবাস পরিবর্তন হয়নি। আমি ছেলেদের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলি না। প্রেম করি না। কিন্তু একাকিত্ব, স্ট্রেস আর মোবাইলের কারণে আমি অন্ধকার জগতের সাথে জড়িয়ে যাই। আমি মাস্টারবেশনে এডিক্টেড হয়ে যাই। আমি জানি এগুলা শুধু অজুহাতমাত্র। হারাম সবসময়ই হারাম। আমি চরমভাবে অনুতপ্ত এবং প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যুদ্ধ করি। নিজেকে আয়নায় দেখতে ঘৃণা লাগে। নিজেকে মুনাফিক মনে হয়। কলংকিত মনে হয়। অবাক লাগে আমি এমন কীভাবে হলাম! আমি চেষ্টা করছি এসব থেকে বের হওয়ার।
রিসেন্টলি আমার জন্য বিয়ের প্রপোজাল আসে।এবং এটাই প্রথম। ছেলের পরিবার আমার পরিচিত। ছেলে অনেক দ্বীনদ্বার এবং সবকিছুই ভালো মেইনটেইন করেন। ছেলের পরিবার আমাকে পছন্দ করেছে। আমার ৩ মাস পর পরীক্ষা থাকায় আমাকে আমার মা বাবা আমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করে নি। কিন্তু আমার রিগ্রেট লাগে সবসময়। আমার ইচ্ছে করে যে আমি বলি যে আমি বিয়ে করবো না। আমার মনে হয় ঐ ছেলের সাথে প্রতারণা হবে যদি তার সাথে আমার বিয়ে হয়। আমি ডিসার্ভ করি না। আমি আমার মতো কাউকে ডিসার্ভ করি। আমি জানি আমার দ্রুত বিয়ে করা দরকার কিন্তু আমার আবার মনে হয় আমি মেন্টালি প্রস্তুত না। আমার পরিবারেরও আমাকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে নেই। আমি এখন কি করবো? বিয়ের কথা চিন্তা না করে নিজের আত্মশুদ্ধির দিকে ফোকাস করবো? এই প্রপোজালে কি আমি না করে দিব?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার অনুভূতি ও আত্মসমালোচনা সত্যিই প্রশংসনীয়। নিজের ভুল স্বীকার করা এবং সংশোধনের ইচ্ছা রাখা ঈমানের আলামত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা নিজেদের পবিত্র রাখে তাদের ভালোবাসেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২২২)

আপনি যে গুনাহের কথা উল্লেখ করেছেন (মাস্টারবেশন, মোবাইল আসক্তি ইত্যাদি), তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আন্তরিক তওবা করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"প্রत्यেক আদম সন্তান গুনাহ করে, আর গুনাহকারীদের মধ্যে সেই উত্তম যে তওবা করে।" (তিরমিজি: ২৪৯৯)


বিয়ের প্রস্তাব সম্পর্কে সিদ্ধান্ত:

১. বিয়ে করা আপনার জন্য উত্তম:

  • দ্বীনদার ও ভালো চরিত্রের ছেলের প্রস্তাব এলে তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
    "যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ করো, তখন তাকে বিয়ে করিয়ে দাও। নইলে পৃথিবীতে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।" (তিরমিজি: ১০৮৪)
  • আপনার বর্তমান অবস্থায় (একাকিত্ব, স্ট্রেস, গুনাহের পরিবেশ) বিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধক হতে পারে। বিয়ে আপনার জন্য পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যম হবে।

২. আত্মশুদ্ধির সাথে বিয়ে একসাথে চলতে পারে:

  • বিয়ে মানেই আত্মশুদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে না। বরং বিয়ের পর দায়িত্বশীলতা আরও বাড়বে। আপনি চাইলে বিয়ের পরও নিজের ইবাদত, তওবা ও সংশোধনের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।
  • তবে, যদি আপনি মনে করেন যে বর্তমানে বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেই, তাহলে পরিবারের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। কিন্তু প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন।

৩. প্রতারণার ভয়:

  • আপনি নিজেকে "দ্বীনদার" বলে দাবি করেননি, বরং নিজের দুর্বলতা স্বীকার করেছেন। এটি প্রতারণা নয়। প্রতারণা হবে যদি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের অবস্থা গোপন রাখেন। তবে, বিয়ের আগে ছেলের পরিবারের সাথে আপনার অতীত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি নয়, কারণ ইসলাম অতীতের গুনাহ প্রকাশ করতে নিষেধ করে। আল্লাহ বলেন:
    "যে ব্যক্তি নিজের ভুল লুকিয়ে রাখে এবং তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।" (সূরা আল-মায়িদা: ৩৯)
  • আপনি যদি মনে করেন ছেলেটি সত্যিই দ্বীনদার এবং আপনার সাথে সৎ ব্যবহার করবে, তাহলে তাকে বিয়ে করা আপনার জন্য কল্যাণকর হতে পারে।

আপনার করণীয়:

১. আন্তরিক তওবা করুন:

  • গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করুন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এসব কাজ না করার প্রতিজ্ঞা করুন।
  • নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং জিকিরের মাধ্যমে নিজের ঈমান মজবুত করুন।

২. বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ইস্তিখারা করুন:

  • বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ২ রাকাত ইস্তিখারা পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করুন।
  • পরিবারের সাথে আলোচনা করে ছেলেটির দ্বীন, চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।

৩. আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি বিয়েকে গুরুত্ব দিন:

  • বিয়ে করলে আপনার জীবন আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে। দ্বীনদার স্বামী আপনার জন্য সহায়ক হবে।
  • তবে, বিয়ে করতে চাইলে নিজের মানসিক প্রস্তুতি নিন। প্রয়োজনে পরিবারের সাথে কথা বলে বিয়ের সময় একটু পিছিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু প্রস্তাবটি পুরোপুরি বাতিল করবেন না।

মনে রাখবেন:

  • আপনি আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। আল্লাহ বলেন:
    "বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
  • আপনার অতীতের ভুলের কারণে নিজেকে ঘৃণা করবেন না। বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যান।

সিদ্ধান্ত:

  • বিয়ের প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান না করে পরিবারের সাথে আলোচনা করুন।
  • আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি বিয়েকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে নিন।
  • আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং ইস্তিখারা করুন।

আল্লাহ আপনাকে উত্তম সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.