অমুসলিম ভূখণ্ডে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে মুরগির মাংস যেটা সন্দেহযুক্ত হালাল না হারাম এবং হারামেত সম্ভবনা বেশি। তা কি খাওয়া যাবে?? সাময়িক ভাবে??
Food and Drink · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই বলে রাখি, ইসলামে হালাল-হারামের বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এর উপর ভিত্তি করেই মুমিনের জীবন পরিচালিত হয়। যেহেতু আপনি রাশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং সেখানে হালাল খাবার পাওয়া কঠিন, সেহেতু আপনার উদ্বেগ স্বাভাবিক। তবে সাময়িক প্রয়োজনে বা অনাহারে থাকার কারণে যদি কোনো খাবার হালাল-হারাম নিয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে ইসলামী বিধান অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবে তা শর্তসাপেক্ষ।
১. হালাল-হারামের মূলনীতি:
কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব পশু-পাখি জবাই করার সময় আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) উচ্চারণ করা হয়, তা হালাল। আর যদি বিসমিল্লাহ না বলা হয় বা অন্য কোনো নাম নেওয়া হয়, তবে তা হারাম।
(সূরা আল-আনআম: ১১৮-১২১)
তবে যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি জবাই করে এবং সে বিসমিল্লাহ বলেছে কিনা তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সেটি খাওয়া জায়েয, কারণ মূলনীতি হলো মুসলিমের হাতে তৈরি বা জবাই করা খাবার হালাল ধরা হবে, যতক্ষণ না হারাম হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
(ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৪)
২. আপনার বর্তমান পরিস্থিতি:
আপনি বলেছেন, ভাই মুরগির মাংস দিয়েছেন, কিন্তু তিনি জানেন না যে মুরগিটি বিসমিল্লাহ বলে জবাই করা হয়েছে কিনা।
- যদি ভাইটি মুসলিম হন এবং তিনি সাধারণত হালাল খাবার খান, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে মুরগিটি হালাল পদ্ধতিতে জবাই করা হয়েছে, কারণ মুসলিমের উপর সন্দেহ করা উচিত নয়।
- যদি ভাইটি অমুসলিম হন বা তিনি নিজেও নিশ্চিত নন, তাহলে সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উত্তম। তবে অনাহারে থাকার কারণে যদি আপনার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইসলামী বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনের তাগিদে (দারুরাহ) হারাম খাবারও খাওয়া জায়েয হতে পারে, তবে সেটি শুধুমাত্র জীবন বাঁচানোর জন্য এবং পরিমিত পরিমাণে।
(সূরা আল-বাকারা: ১৭৩)
৩. সাময়িকভাবে খাওয়ার বিধান:
আপনি জিজ্ঞেস করেছেন, শুধু আজকের রাতের জন্য বা সাময়িকভাবে এই খাবার খাওয়া যাবে কিনা।
- যদি আপনি ক্ষুধার্ত থাকেন এবং অন্য কোনো হালাল খাবার না পান, তাহলে এই মুরগির মাংস খাওয়া জায়েয হতে পারে, তবে শর্ত হলো জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকতে হবে।
- যদি আপনি সহ্য করতে পারেন এবং অন্য কোনো খাবার (যেমন রুটি, ডিম, ফলমূল) পাওয়া যায়, তাহলে সন্দেহযুক্ত খাবার না খাওয়াই উত্তম।
৪. রাশিয়ায় হালাল খাবার খোঁজার পরামর্শ:
রাশিয়ার বড় শহরগুলোতে (মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ) হালাল খাবারের দোকান বা রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। আপনি চাইলে:
- স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
- অনলাইনে হালাল খাবার ডেলিভারির ব্যবস্থা খুঁজে দেখতে পারেন।
- সবজি, ফল, ডিম, দুধ, রুটি ইত্যাদি খাবার খেতে পারেন, যা সাধারণত হালাল হয়ে থাকে।
৫. দারুরাহ (জরুরি অবস্থা) এর শর্ত:
ইসলামে দারুরাহ (জরুরি অবস্থা) এর ক্ষেত্রে হারাম খাবার খাওয়ার অনুমতি আছে, তবে তা নিম্নলিখিত শর্তে:
১. জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকতে হবে।
২. অন্য কোনো হালাল খাবার না পাওয়া গেলে।
৩. প্রয়োজন মেটানো পর্যন্ত খেতে হবে, বেশি নয়।
(রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩০৬)
সারসংক্ষেপ:
- যদি ভাইটি মুসলিম হন, তাহলে মুরগির মাংস খাওয়া জায়েয, কারণ মুসলিমের জবাই করা পশু হালাল ধরা হয়।
- যদি আপনি নিশ্চিত না হন এবং অন্য হালাল খাবার না পান, তাহলে সাময়িকভাবে খেতে পারেন, তবে শুধুমাত্র প্রয়োজনের তাগিদে।
- যদি অন্য হালাল খাবার পাওয়া যায়, তাহলে সন্দেহযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম।
আল্লাহ তাআলা আপনার অবস্থা সহজ করুন এবং হালাল রিজিক দান করুন। আমিন।