আপন ভাইয়ের সাথে দেখা করতে স্বামী নিষেধ করেতে পারবে কি?

Family Life · Hanafi

Question No: 4469
Questioner: Md. Bukhari
Question Asked: 25 Aug 2026, 08:45 PM
Reviewed & Published: 25 Aug 2026, 09:53 PM
Views: 23
Tokens: 3,311
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১)আপন বোনের সাথে যদি দুলাভাই দেখা করতে না দেই। নির্জনে একত্রিত হতে নিষেধ করে, সতর্কতা অবলম্বন করতে বলে তবে কি করণীয়?
২)কতটুকু দুধপান হুরমত রেযাআত সাব্যস্ত হবে?

Answer

হালাল-হারাম সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। জবাব, আলহামদুলিল্লাহ।

১) আপন বোনের সাথে দেখা করার অধিকার এবং দুলাভাইয়ের নিষেধাজ্ঞা:

  • আপন বোন চিরস্থায়ী মাহরাম: ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী, আপন বোন বংশগত কারণে (নসবী সূত্রে) চিরস্থায়ী মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। মাহরাম হওয়ার কারণে আপন ভাই ও বোনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ করা সম্পূর্ণ জায়েয এবং তাদের মধ্যে কোনো পর্দা বা হিজাব নেই।
  • নির্জনে একত্রিত হওয়া (খালওয়াহ) জায়েয: যেহেতু তারা পরস্পর মাহরাম, তাই শরীয়তের সাধারণ নিয়মে বেগানা (নন-মাহরাম) নারী-পুরুষের মতো তাদের নির্জনে একত্রিত হওয়া বা একাকী অবস্থান করা নিষিদ্ধ নয় ।
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ওয়াজিব: আপন ভাই-বোনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা (সিল্যা রাহমী) ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বিধান এবং তা ছিন্ন করা মারাত্মক কবিরা গুনাহ । কোনো স্বামীর জন্য স্ত্রীর নিজের আপন ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা বা দেখা-সাক্ষাৎ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া শরী'আতসম্মত নয় ।
  • করণীয় ও সমাধান: ১. স্বামীকে নম্রভাবে বোঝানো: স্ত্রীকে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও নরম ভাষায় স্বামীকে বোঝাতে হবে যে, আপন ভাই তার মাহরাম পুরুষ এবং ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা তার দ্বীনি দায়িত্ব। ২. দাম্পত্য কলহ এড়িয়ে চলা: স্বামীর সাথে কোনো প্রকার বিবাদ বা দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি না করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। স্বামী যদি কোনো কারণে সন্দেহপ্রবণ হন বা নির্জনে একত্রিত হতে নিষেধ করেন, তবে দাম্পত্য শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে ভাই ও বোন একাকী নির্জনে মিলিত না হয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সামনে বা সবার উপস্থিতিতে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারেন । ৩. যোগাযোগ সচল রাখা: সরাসরি দেখা করার সুযোগ সীমিত হলে ফোনে বা অন্যান্য মাধ্যমে কুশল সংবাদ নেওয়া এবং উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে সিল্যা রাহমী তথা আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে হবে।

২) কতটুকু দুধপান দ্বারা হুরমতে রেযাআত সাব্যস্ত হয়:

  • পরিমাণ: হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুধপানের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শিশু যদি স্তন্যপান করে, তবে পরিমাণে তা কম হোক বা বেশি হোক (এমনকি এক ফোঁটাও যদি কণ্ঠনালীর নিচে নেমে যায় বলে অনুমিত হয়), তাতেই হুরমতে রেযাআত (দুধপানের বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা) সাব্যস্ত হয়ে যায়
  • মেয়াদ (বয়সসীমা):
    • ইমাম আযম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে: দুধপানের মেয়াদ হচ্ছে ৩০ মাস (আড়াই বছর)
    • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে: এর মেয়াদ হচ্ছে ২ বছর (২৪ মাস)
    • তদুপরি, দুধপানের নির্দিষ্ট মেয়াদের ভেতর শিশুকে যদি দুধ ছাড়ানোও হয়, তবুও হুরমতে রেযাআত সাব্যস্ত হবে । হানাফী ফিকহে এই মতের উপরই ফাতওয়া প্রদান করা হয়।

কিতাব ও অধ্যায় নির্দেশিকা:

  • ১ম প্রশ্নের জন্য: দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা ১৪৬-১৪৮ (মহিলাদের সফরে মাহরাম অধ্যায়) এবং পৃষ্ঠা ৩৮২ (বেগানা মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থানের নিষেধাজ্ঞা) ।
  • ২য় প্রশ্নের জন্য: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), দুধপান অধ্যায়, ১ম মাসআলা ।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.