জিরো ইন্টারেস্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বিধান কি?
Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
জিরো ইন্টারেস্ট সেভিংস অ্যাকাউন্টের বিধান
উত্তর
আলহামদুলিল্লাহ। প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ। জিরো ইন্টারেস্ট সেভিংস অ্যাকাউন্টের বিধান সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:
মূলনীতি
প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে যে, ইসলামে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম। তবে ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো—আপনি যদি এমন অ্যাকাউন্টে টাকা রাখেন যেখানে কোনো সুদ/লভ্যাংশ দেওয়া হয় না, এবং আপনি শুধুমাত্র নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে টাকা জমা রাখেন, তাহলে সেটি মূলত আমানত (সুরক্ষা) হিসেবে গণ্য হবে।
Scholars-দের মতামত
শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "কোনো ব্যক্তি যদি ব্যাংকে টাকা রাখে সুদ নেওয়ার উদ্দেশ্যে না বরং নিরাপত্তার জন্য, তাহলে তার বিধান কী?" উত্তরে তিনি বলেন:
"যদি সে টাকা রাখে নিরাপত্তার জন্য এবং জানে না যে ব্যাংক তার টাকা ব্যবহার করবে, অথবা জানে কিন্তু সে এতে সন্তুষ্ট নয়, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই—ইনশাআল্লাহ। কারণ সে তো শুধু তার সম্পদ রক্ষার জন্য রেখেছে। তবে যদি সে জানে যে ব্যাংক তার টাকা ব্যবহার করে ব্যবসা করবে এবং সে এতে সম্মতি দেয়, তাহলে এটি একটি সমস্যা। কারণ তখন সে ব্যাংককে তার টাকা ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে, যা কার্যত একটি লোন/কর্জ হয়ে যায়। আর কর্জের শর্ত হলো—যদি কোনো উপকার/লাভ শর্ত করা হয়, তাহলে সেটি সুদ হয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু এখানে কোনো লাভের শর্ত নেই, তাই এটি একটি সাধারণ কর্জ (ঋণ) হিসেবে গণ্য হবে, যা জায়েয।"
শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:
"যদি ব্যাংক কোনো সুদ/লভ্যাংশ না দেয় এবং অ্যাকাউন্টধারী শুধু নিরাপত্তার জন্য টাকা রাখে, তাহলে এটি জায়েয। কারণ এটি একটি আমানত বা কর্জ হিসেবে গণ্য হবে যাতে কোনো শর্তযুক্ত উপকার নেই। তবে যদি ব্যাংক টাকা ব্যবহার করে এবং অ্যাকাউন্টধারী এতে সম্মত থাকে, তাহলে এটি একটি কর্জ হবে—কিন্তু যেহেতু কোনো অতিরিক্ত লাভের শর্ত নেই, তাই এটি হারাম নয়।"
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"মূলনীতি হলো—কর্জের ক্ষেত্রে কোনো উপকার শর্ত করা হারাম। কিন্তু যদি কোনো উপকার শর্ত না করা হয়, তাহলে কর্জ জায়েয।"
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
১. কোনো সুদ/লভ্যাংশ গ্রহণ করা যাবে না — যদি ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করা হারাম। ২. শর্ত হিসেবে লাভ না নেওয়া — অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এ শর্ত না থাকা যে, ব্যাংক আমাদের টাকা ব্যবহার করবে এবং আমরা লাভ পাব। ৩. উদ্দেশ্য — টাকা রাখার মূল উদ্দেশ্য হতে হবে নিরাপত্তা, লাভ অর্জন নয়।
আমাদের অবস্থান
যেহেতু জিরো ইন্টারেস্ট অ্যাকাউন্টে কোনো লভ্যাংশ দেওয়া হয় না, এবং আপনি শুধু নিরাপদ রাখার জন্য টাকা জমা রাখছেন, তাই এটি জায়েয (বৈধ) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি:
- ব্যাংক আপনার টাকা ব্যবহার করবে—এটি একটি সাধারণ কর্জ হিসেবে গণ্য হবে, যেহেতু আপনি কোনো লাভের শর্ত করেননি।
- ইসলামী শরীয়তে কর্জ দেওয়া জায়েয, এবং কর্জদাতা যদি কোনো উপকার শর্ত না করে, তাহলে তা বৈধ।
- তবে যদি আপনি জানেন যে ব্যাংক সুদভিত্তিক লেনদেনে আপনার টাকা ব্যবহার করবে এবং আপনি এতে সম্মত, তাহলে এটি একটি নৈতিক সমস্যা হতে পারে—কারণ আপনি তাদের সুদভিত্তিক ব্যবসায় সহায়তা করছেন।
সর্বোত্তম সমাধান
যদি সম্ভব হয়, ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা উত্তম, যেখানে আপনার টাকা শরীয়াহ সম্মত পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যদি সেটি সম্ভব না হয় এবং আপনি জিরো ইন্টারেস্ট অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে চান শুধু নিরাপত্তার জন্য, তাহলে ইনশাআল্লাহ তা বৈধ হবে।
শায়খ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"প্রয়োজনের তাগিদে এবং সুদ থেকে বাঁচার জন্য কনভেনশনাল ব্যাংকে সুদবিহীন অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা জায়েয, যদি সেখানে কোনো সুদ গ্রহণ না করা হয়।"
সতর্কতা: এই ফতোয়া শুধুমাত্র জিরো ইন্টারেস্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি কোনো ব্যাংক লাভ দেয় বা কোনো শর্তযুক্ত উপকার থাকে, তাহলে সেটি হারাম হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।