Kew dhoka dile kosto dile tar nam ki bichar chawa jabe
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
উত্তরের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—যদি কেউ তাকে প্রতারিত করে (ধোকা দেয়) এবং কষ্ট দেয়, তবে সে কি আল্লাহর কাছে তার বিরুদ্ধে বিচার (ইনসাফ) চাইতে পারবে?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই পারবেন। ইসলামে এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং উৎসাহিত করা হয়েছে। নবী করিম ﷺ-এর হাদিসে এসেছে, মজলুমের (অত্যাচারিতের) দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হয়, যদিও তা কাফিরের দোয়া হয়। তবে কিছু শর্ত ও আদব রয়েছে যা মেনে চলা উচিত।
বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা
১. মজলুমের দোয়া কবুল হওয়া
হাদিস শরিফে এসেছে—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لَا شَكَّ فِيهِنَّ: دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ، وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ
"তিন ব্যক্তির দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়—মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং পিতার দোয়া তার সন্তানের বিরুদ্ধে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩৬; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯০৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮৬২)
আরেকটি হাদিসে আছে—
وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ
"মজলুমের দোয়াকে ভয় করো, কারণ তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৯৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯)
২. প্রতারক ও ধোকাবাজের শাস্তি
যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, তার সম্পর্কে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—
وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ ۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ
"আর তুমি মনে করো না যে, যালিমরা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল। তিনি তো তাদেরকে অবকাশ দেন সেই দিন পর্যন্ত, যেদিন চোখসমূহ বিস্ফোরিত হবে।" (সূরা ইবরাহিম: ৪২)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
"আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করলেও সে তা দেখতে পাবে।" (সূরা যিলযাল: ৮)
৩. হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
ফতোয়ায়ে শামি (রদ্দুল মুহতার) -এ উল্লেখ আছে যে, মজলুমের দোয়া কবুল হওয়া একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয় এবং তা আল্লাহর নিকট পৌঁছে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৪)
ফতোয়ায়ে উসমানি -তে বলা হয়েছে—অত্যাচারিত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে বদদোয়া করা জায়েয, তবে উত্তম হলো терпение (সবর) করা এবং আল্লাহর কাছে ইনসাফ চাওয়া। (ফতোয়ায়ে উসমানি, ২/৩৪৫)
ইমদাদুল ফতোয়া -তে হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন—মজলুমের দোয়া এবং বদদোয়ার মধ্যে পার্থক্য হলো, দোয়া হলো আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করা, আর বদদোয়া হলো প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে অভিশাপ দেওয়া। প্রথমটি সর্বদা জায়েয, দ্বিতীয়টি নির্দিষ্ট শর্তে জায়েয। (ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/৩৮২)
৪. কীভাবে দোয়া করবেন?
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) -এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মজলুমের জন্য উত্তম পদ্ধতি হলো—
- সবর করা — কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "যারা সবর করে এবং ক্ষমা করে, এটা তো বড় সাহসের কাজ।" (সূরা শূরা: ৪৩)
- ক্ষমা করে দেওয়া — আল্লাহ বলেন, "তারা যারা ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)
- দোয়া করা — যদি মনে হয় প্রতারক শাস্তি পাচ্ছে না, তবে আল্লাহর কাছে ইনসাফ চাওয়া যাবে। যেমন দোয়া: "ইয়া আল্লাহ! আপনি ন্যায়বিচারক, আমার প্রতি যে যুলুম করেছে, তার থেকে আমার হক আদায় করুন।"
৫. গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
- দোয়া বা বদদোয়া সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন—
وَلَا تَدْعُ عَلَى نَفْسِكَ وَلَا عَلَى أَوْلَادِكَ وَلَا عَلَى أَمْوَالِكُمْ
"নিজের বিরুদ্ধে, সন্তানদের বিরুদ্ধে এবং সম্পদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০০৯)
- অন্যায়ভাবে কাউকে গালি দেওয়া বা অভিশাপ দেওয়া জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
لَعْنُ الْمُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ
"মুমিনকে লানত করা তাকে হত্যা করার মতো।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯০)
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
হ্যাঁ, আপনি আল্লাহর কাছে বিচার চাইতে পারবেন। এটি ইসলামি শিক্ষার সম্পূর্ণ অনুমোদিত। তবে উত্তম হলো—
- প্রথমে আল্লাহর কাছে ধৈর্য চাওয়া
- সম্ভব হলে ক্ষমা করে দেওয়া (এর সওয়াব অনেক বেশি)
- যদি ক্ষমা করা কঠিন হয়, তবে আল্লাহর কাছে ইনসাফ চাওয়া
মনে রাখবেন, আল্লাহ কখনো যালিমকে ছাড় দেন না। কিয়ামতের দিন প্রতিটি হকের হিসাব হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ
"কিয়ামতের দিন সকল হক তার প্রাপককে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, এমনকি শিংবিহীন ছাগলের বদলা শিংওয়ালা ছাগল থেকে নেওয়া হবে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮২)