নবজাতকের প্রস্রাবের বিধান এবং নেফাসকালীন সময়ে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত মূহুর্তের বিকল্প পদ্ধতি কি হতে পারে?
Taharah Purity · Hanafi
Question No:
4369
Questioner:
Sayeda Yasmin
Question Asked:
23 Aug 2026, 09:21 PM
Reviewed & Published:
23 Aug 2026, 09:48 PM
Views:
14
Tokens:
3,791
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্।
১) নবজাতক (৭ দিন বয়স) ' প্রস্রাব নাপাক? যে জায়গায় পরবে ঐ জায়গা ধুয়ে সালাত আদায় করলে হয়ে যাবে?
২) স্ত্রী শারীরিকভাবে অপরাগ,নেফাসের কারণে।স্বামীকে স্ত্রী মাস্টারবেশন করে দিতে পারবে?এতে কী গুনাহ হবে? স্ত্রী কীভাবে স্বামীর চাহিদা নেফাস কালীন মিঠাবে?
১) নবজাতক (৭ দিন বয়স) ' প্রস্রাব নাপাক? যে জায়গায় পরবে ঐ জায়গা ধুয়ে সালাত আদায় করলে হয়ে যাবে?
২) স্ত্রী শারীরিকভাবে অপরাগ,নেফাসের কারণে।স্বামীকে স্ত্রী মাস্টারবেশন করে দিতে পারবে?এতে কী গুনাহ হবে? স্ত্রী কীভাবে স্বামীর চাহিদা নেফাস কালীন মিঠাবে?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্ন দুটির উত্তর নিম্নে পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং প্রামাণ্য হানাফি কিতাবের আলোকে প্রদান করা হলো:
১) নবজাতকের প্রস্রাব ও পবিত্রতা সংক্রান্ত বিধান
ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্। আপনার জিজ্ঞাসিত অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোর শরয়ী সমাধান হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ—বিশেষ করে ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, নূরুল ঈযাহ, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া এবং দরসুল ফিকহ-এর আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ নিচে বিস্তারিত প্রদান করা হলো:
১ম প্রশ্নের উত্তর: নবজাতকের প্রস্রাব নাপাক হওয়া এবং তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের বিধান
১. প্রস্রাব নাপাক হওয়ার শরয়ী হুকুম:
- হুকুম: নবজাতক শিশু (তা ছেলে হোক বা মেয়ে হোক এবং বয়স ৭ দিন হোক বা তার কম-বেশি হোক) কেবলমাত্র বুকের দুধ পান করা সত্ত্বেও তার প্রস্রাব ইসলামি শরীয়তের হানাফী মাযহাব অনুযায়ী 'নাজাসাতে গালীযাহ' (গুরুতর নাপাকি) হিসেবে গণ্য। সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত আছে যে দুধপান করা ছোট শিশুর প্রস্রাব নাপাক নয়—এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মানুষের শরীর থেকে নির্গত প্রস্রাব (চাই সে শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক) সর্বাবস্থায় নাপাক ।
- সূ্ত্র:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৪৯ (অধ্যায়: নাজাসাতের বর্ণনা ও নাজাসাত থেকে পবিত্রতা হাসিলের পন্থা)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৬০-৬১ (অধ্যায়: তাহারাত বা পবিত্রতা, অনুচ্ছেদ: নাপাকির বিবরণ)]।
২. আক্রান্ত স্থান পবিত্র করার নিয়ম:
- কাপড় বা বিছানা হলে: প্রস্রাব যদি কাপড়ে বা বিছানায় লাগে, তবে তা পবিত্র করার জন্য আক্রান্ত স্থানটি তিনবার ধৌত করতে হবে এবং প্রতিবার ধোয়ার পর ভালোভাবে নিংড়াতে (চিপে পানি ফেলে দিতে) হবে । তৃতীয়বার এমনভাবে নিংড়াতে হবে যেন পানি ফোঁটা ফোঁটা পড়া বন্ধ হয়ে যায় ।
- মেঝে বা মাটি হলে: আর যদি নিংড়ানো অসম্ভব এমন শক্ত জায়গায় (যেমন: মেঝে বা মাটি) প্রস্রাব পড়ে, তবে সেখানে তিনবার পানি ঢেলে প্রতিবার পবিত্র কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে পানি চুষে শুকিয়ে নিতে হবে । এছাড়া মেঝে বা মাটি থেকে যদি প্রস্রাব রোদে বা বাতাসে সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায় এবং প্রস্রাবের কোনো রং, গন্ধ বা ভেজা ভাব অবশিষ্ট না থাকে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উক্ত স্থান নামাযের জন্য পবিত্র হয়ে যাবে ।
- সূত্র:
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ৮৭।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২৫৪।
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৫১ (মাটি শুকানোর দ্বারা পবিত্র হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৬২।
২য় প্রশ্নের উত্তর: নেফাসকালীন স্ত্রীর হাত দিয়ে স্বামীর বীর্যপাত ঘটানো এবং চাহিদা মেটানোর পদ্ধতি
১. স্ত্রীর হাত দ্বারা হস্তমৈথুন (ইস্তিমনা বিয়াদিয যাওজাহ):
- হুকুম: স্ত্রী শারীরিকভাবে অপরাগ থাকা অবস্থায় (যেমন: নেফাস বা প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ কালীন) যদি তিনি নিজের হাত দিয়ে স্বামীর লিঙ্গ মর্দন করে বীর্যপাত ঘটান, তবে ইসলামি শরী'আতে এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে স্বামী-স্ত্রী কারো কোনো গুনাহ হবে না। পুরুষ নিজের হাত দিয়ে হস্তমৈথুন করলে তা হারাম হলেও স্ত্রীর হাত দিয়ে করা জায়েয।
- সূত্র:
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৭২-১৭৩(ফাতাওয়ায়ে শামী-এর বরাতে: “পুরুষের জন্য তার স্ত্রীর হাত দ্বারা বীর্যপাত ঘটানো জায়েয।” খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪৪)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১০৬ (অধ্যায়: রোজার অবস্থায় স্ত্রীকে স্পর্শ ও চুম্বন করার মাসআলা) ।
২. নেফাস অবস্থায় দাম্পত্য চাহিদা মেটানোর শরী'আতসম্মত পদ্ধতি:
- নিষিদ্ধ কাজ: নেফাস অবস্থায় স্ত্রীর যোনিপথে সহবাস করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবিরা গুনাহ ।
- বৈধ পদ্ধতি: সহবাস ব্যতীত দাম্পত্য চাহিদা মেটানোর জন্য স্ত্রী স্বামীর পুরো শরীর উপভোগ করতে পারবেন এবং স্বামীও স্ত্রীর শরীর উপভোগ করতে পারবেন। বিশেষ করে স্ত্রীর নাভির ওপরের অংশ এবং হাঁটুর নিচের অংশ কোনো প্রকার কাপড় ছাড়াই আলিঙ্গন, চুম্বন, ঘর্ষণ ও স্পর্শের মাধ্যমে উপভোগ করা সম্পূর্ণ জায়েয ।
- নাভি থেকে হাঁটুর মধ্যবর্তী অংশ: আর স্ত্রীর নাভি থেকে হাঁটুর মধ্যবর্তী অংশ সরাসরি চামড়ায় স্পর্শ না করে মোটা কাপড়ের উপর দিয়ে স্পর্শ করা বা ঘর্ষণের মাধ্যমে উপভোগ করাও জায়েয [৫২৬]।
- সূত্র:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৪৭ (অধ্যায়: হায়য, নেফাস ও ইস্তেহাযা পরিচ্ছেদ) ।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৬৮-৬৯ (হায়েয ও নেফাসের সময় সহবাস ব্যতীত অন্যান্য আনন্দের হুকুম) ।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২০১।
চূড়ান্ত পরামর্শ: দাম্পত্য জীবনের এই বিশেষ সময়ে সহবাসের কঠিন গুনাহ থেকে বাঁচতে উপরোক্ত শরী'আতসম্মত বৈধ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করাই নিরাপদ ।
আপনার নবজাতক সন্তানের সুস্থতা ও আপনাদের দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি কামনা করছি।