নিকাহনামার ১৮ নম্বর ধারায় স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার বিধান সংক্রান্ত।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4363
Questioner: Khondoker Afrin
Question Asked: 23 Aug 2026, 05:21 PM
Reviewed & Published: 23 Aug 2026, 06:09 PM
Views: 10
Tokens: 6,675
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম জনাব,
দয়া করে উওর দিয়ে উপকৃত করবেন। আপনাদের কিছু লেখায় দেখলাম যে কাবিননামায় ১৮ নং কলামে তালাকের অধিকার জেনে শুনে দিয়ে থাকলে তবেই স্ত্রী তালাকে তাভবিজের মাধ্যমে তালাক গ্রহন করতে পারবে তবে যদি স্বামীর অজ্ঞতায় বা সে না জেনেই সই করে তবে তা কার্যকর হবে না।

এখন আমার প্রশ্ন হলো ধরুন তিনি না বুজেই সই করছেন ( যেহেতু আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত নই,তবে কাবিন সবার সামনেই উভয়পক্ষের মতামত নিয়ে লেখা হয়েছিল) কিন্তু যখন বিয়ের পর কাবিননামা হাতে পাওয়া হয় তখন তিনি কোন অভিযোগ করে নায় পুরোটা দেখেও তার কোন আপত্তি জানায়নি। তাহলে কী এই অধিকার পাওয়া যায়নি? কেননা তিনি বিয়ের সম্মতিও তো এই কাগজে সাইন করেই দিয়েছেন।

দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো সাংসারিক ঝামেলা যখন অনেক বেড়ে যায় তখন সংসার করার অবস্থা ছিল না। কিন্তু স্বামী তখন তালাক দিতে রাজি ছিল না কারন দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে এই জন্য সে স্পষ্ট জানায় সে তালাক বা দেনমোহর কোনটাই দিবেনা তালাক দিতে হলে যেন স্ত্রী কাগজ পাঠায়। তারপর স্ত্রী কাগজ পাঠায় উকিলের মাধ্যমে এবং তাকে অবগত করেন ও মৌখিক ভাবেও তালাক গ্রহন করেন এই বলে যে "আমি আমার কাবিনের১৮ নং কলামের দেওয়া অধিকারে আপনার থেকে তালাক গ্রহন করলাম" এরপর বহু বছর কেটে যায় এবং সেই স্বামী নিজেও অন্যত্র বিয়ে করেন এবং স্ত্রী ও কিন্তু কিছু বছর পর সেই পুরুষ ফোন দিয়ে প্রথমে ক্ষমা চায় তার কাজের জন্য এবং পরে বলেন যে সে কাগজ হাতে পায়নি তালাকের কাগজে তার স্বাক্ষর নেই তাই এই তালাক বৈধ নয় কিন্তু সে এখন দিতে রাজি।

এমন অবস্থায় এই তালাক কি কোন ভাবে অবৈধ হবার সম্ভাবনা আছে? দয়া করে উত্তর দিবেন খুব মানুষিক কষ্টে আছি। তিনি তখন তালাক, কাবিনের টাকা কিছুই দিতে চায়নি তাই আমার জানা মতে যা করনীয় ছিল তাই করেছি।

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আমি বিস্তারিতভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

প্রথম প্রশ্নের উত্তর: কাবিননামার ১৮ নং কলামে তালাকের অধিকার

কাবিননামার ১৮ নং কলামে তালাকে তাফবীজের (তালাকের অধিকার অর্পণ) বিষয়টি উল্লেখ থাকে। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, যদি স্বামী তার ইচ্ছায় এবং জ্ঞাতসারে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করে, তবে স্ত্রী এই অধিকার ব্যবহার করে তালাক গ্রহণ করতে পারবে।

অন্যথায় নয়।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: তালাকের বৈধতা

এক্ষেত্রে স্বামী মোহরানার কারনে তালাক দিতে চায়না,বলে যে তালাক দিতে হলে যেন স্ত্রী কাগজ পাঠায়।

এর দ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার প্রাপ্ত হয়ে গিয়েছে।

এরপর আপনি উকিলের মাধ্যমে তালাকের কাগজ পাঠিয়েছেন এবং মৌখিকভাবে তালাক গ্রহণ করেছেন। স্বামীকে অবগত করা হয়েছে। এরপর বহু বছর কেটে গেছে এবং স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছেন।

এখন স্বামীর দাবি যে কাগজে তার স্বাক্ষর নেই, তাই তালাক বৈধ নয়—এই দাবি শরীয়তসম্মত নয়। কারণ:

১. তালাকে তাফবীজের ক্ষেত্রে স্ত্রী যখন ঘোষণা করে যে সে তালাক গ্রহণ করল, এবং তা স্বামীর জানা থাকে, তাহলে তালাক সংঘটিত হয়ে যায়। স্বামীর স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই।

২. স্বামী যদি দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র বিয়ে করে থাকেন, তবে তা প্রমাণ করে যে তিনি তালাক মেনে নিয়েছিলেন এবং নিজেও নতুন জীবন শুরু করেছেন।

৩. রদ্দুল মুহতার (শামী)-এ উল্লেখ আছে যে, তালাকে তাফবীজে স্ত্রীর ঘোষণাই যথেষ্ট, যদি তা স্বামীর জ্ঞাত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী নীতি

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, তালাকে তাফবীজের ক্ষেত্রে স্ত্রী যখন তালাক গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তখন তা কার্যকর হয়। স্বামীর পরবর্তী অস্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।

আপনার ক্ষেত্রে: যেহেতু আপনি উকিলের মাধ্যমে তালাকের কাগজ পাঠিয়েছেন এবং স্বামীকে অবগত করা হয়েছে, এবং তিনি তখন কোনো প্রতিবাদ করেননি, বরং বহু বছর পর অন্যত্র বিয়ে করেছেন—সুতরাং এই তালাক বৈধ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

পরামর্শ

১. আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আপনার তালাক বৈধ হয়েছে। ২. স্বামীর বর্তমান দাবি যে তালাক বৈধ নয়—এটি শরীয়তসম্মত নয়।

আল্লাহ তাআলা আপনার কষ্ট দূর করুন এবং আপনাকে ধৈর্য দান করুন।

(والله أعلم بالصواب)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.