নিকাব পরা অবস্থায় মুখ না খুলে নামায পড়া যাবে? আর একজন মহিলা কি ইমামতি করতে পাড়েন নামাযে? শুধু মহিলাদের নিয়ে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
নিকাব পরা অবস্থায় নামায ও মহিলাদের ইমামতি সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ১: নিকাব পরা অবস্থায় মুখ না খুলে নামায পড়া যাবে?
উত্তর: নিকাব পরা অবস্থায় নামায পড়া মাকরূহ (তাহরীমী)। কেননা নামাযের মধ্যে মুখমণ্ডল খোলা রাখা সুন্নত। তবে যদি নিকাব এমন হয় যা মুখের সাথে লেগে থাকে না এবং পড়ার সময় ঠোঁটের নড়াচড়ায় বাধা সৃষ্টি করে না, তাহলে কিছুটা সহজতা আছে। কিন্তু উত্তম হলো নামাযের সময় মুখ খোলা রাখা।
দলিল:
১. হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহরাম অবস্থায় মহিলাদেরকে নিকাব পরতে নিষেধ করেছেন। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মুহরিম মহিলা নিকাব পরবে না এবং হাতমোজা পরবে না।" (সহীহ বুখারী: ১৮৩৮)
২. ফিকহের কিতাব: রদ্দুল মুহতার (৫ম খণ্ড, ৯৭ পৃষ্ঠা)-এ উল্লেখ আছে, নামাযে মুখ ঢেকে রাখা মাকরূহ। কেননা নামাযে সিজদার সময় মুখমণ্ডল খোলা রাখা সুন্নত।
৩. ফতোয়ায়ে উসমানী: মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেছেন, নামাযের মধ্যে নিকাব পরা মাকরূহ। তবে যদি কেউ নিকাব পরা অবস্থায় নামায পড়ে, তাহলে তার নামায আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু মাকরূহ হবে।
৪. ইমদাদুল ফতোয়া: মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন, নামাযে মুখ ঢেকে রাখা মাকরূহ। কারণ নামাযে মুখ খোলা রাখা সুন্নত এবং কুরআন তিলাওয়াতের সময় মুখের নড়াচড়া হওয়া প্রয়োজন।
বিস্তারিত: নামাযের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত করতে হয়, যার জন্য মুখের নড়াচড়া প্রয়োজন। নিকাব পরা অবস্থায় যদি তিলাওয়াত সঠিকভাবে না হয়, তাহলে নামাযের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তবে যদি নিকাব পাতলা হয় এবং তিলাওয়াত সঠিকভাবে হয়, তাহলে নামায আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু মাকরূহ হবে।
প্রশ্ন ২: একজন মহিলা কি মহিলাদের নিয়ে ইমামতি করতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মহিলাদের জামাতে মহিলাই ইমামতি করতে পারেন। তবে শর্ত হলো, ইমাম মহিলা প্রথম কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবেন, সামনে নয়। পুরুষদের মতো সামনে দাঁড়িয়ে ইমামতি করা মহিলাদের জন্য বৈধ নয়।
দলিল:
১. হাদীস: আয়েশা (রা.) এবং উম্মে সালামা (রা.) মহিলাদের ইমামতি করেছেন এবং তাদের মধ্যেই দাঁড়িয়েছেন। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) বর্ণনা করেছেন, আয়েশা (রা.) মহিলাদের ইমামতি করেছেন এবং তাদের মাঝে দাঁড়িয়েছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ২/৮৯)
২. ফিকহের কিতাব: আল-হিদায়া (১ম খণ্ড, ৮২ পৃষ্ঠা)-তে উল্লেখ আছে, মহিলাদের জামাতে মহিলা ইমাম হলে সে প্রথম কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবে। কারণ মহিলাদের জন্য আওরাত ঢেকে রাখা আবশ্যক এবং সামনে দাঁড়ালে সিজদার সময় পেছনের মহিলাদের সামনে তার পশ্চাৎভাগ দেখা যেতে পারে।
৩. ফতোয়ায়ে আলমগীরী: এতে উল্লেখ আছে, মহিলাদের জামাতে মহিলা ইমাম হলে সে কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবে এবং কেউ যদি সামনে দাঁড়ায়, তাহলে মাকরূহ হবে।
৪. রদ্দুল মুহতার: ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেছেন, মহিলাদের জামাতে মহিলা ইমাম হলে সে তাদের মাঝখানে দাঁড়াবে। (রদ্দুল মুহতার: ১/৫৬৫)
শর্তসমূহ:
- মহিলাদের জামাতে ইমামতি করার জন্য ইমাম মহিলাকে প্রথম কাতারের মাঝখানে দাঁড়াতে হবে।
- আযান ও ইকামত দেওয়া মহিলাদের জন্য বৈধ নয়।
- মহিলাদের জামাত মাকরূহ তানযীহী (অপছন্দনীয়) হলেও বৈধ।
মহিলাদের ইমামতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নোট: মহিলারা পুরুষদের ইমামতি করতে পারবেন না। এটি সর্বসম্মতভাবে নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র মহিলাদের জামাতে মহিলা ইমামতি করতে পারবেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
প্রশ্ন ১: নিকাব পরা অবস্থায় নামায পড়া মাকরূহ। নামাযের সময় মুখ খোলা রাখা সুন্নত। তবে নিকাব পরা অবস্থায় নামায পড়লে নামায আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু মাকরূহ হবে। উত্তম হলো নামাযের সময় নিকাব খুলে ফেলা।
প্রশ্ন ২: হ্যাঁ, মহিলারা মহিলাদের জামাতে ইমামতি করতে পারেন। তবে শর্ত হলো, ইমাম মহিলা প্রথম কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবেন, সামনে নয়। পুরুষদের ইমামতি করা মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।