নেফাসের পর পুনরায় লালচে স্রাব দেখা দিলে নামাজের হুকুম

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4306
Questioner: Shamema Akter
Question Asked: 22 Aug 2026, 02:44 PM
Reviewed & Published: 22 Aug 2026, 03:42 PM
Views: 30
Tokens: 8,545
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নেফাসের পর পুনরায় লালচে স্রাব দেখা দিলে নামাজের হুকুম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমি হানাফি মাজহাব অনুযায়ী আমার একটি মাসআলার সঠিক সমাধান জানতে চাই।

আমার সন্তান প্রসবের পর ২৬ জুন জোহরের সময় নেফাস শুরু হয়। এরপর ৫ জুলাই নেফাসের রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমি ফরজ গোসল করে নামাজ পড়া শুরু করি, কারণ আমি মনে করেছিলাম আমার নেফাস শেষ হয়ে গেছে।

তবে ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরও মাঝে মাঝে হালকা লালচে স্রাব/দাগ দেখা যেত। আমি পরপর প্রায় ৩ দিন তা পরীক্ষা করে দেখেছি। এরপর আর নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করিনি। আর নতুন করে ফরজ গোসল ও করিনি। আমি ইস্তেহাজার হুকুম মনে করে প্রতি ওয়াক্তে অজু করে নামাজ পড়তে থাকি।

এরপর ৫ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট এই ১৫ দিনের মধ্যে আমি প্রথম ২-৩ দিন টিস্যু দিয়ে চেক করেছি, টিস্যু তে লাল আভা আসত এরপর আর চেক করা হয় নাই আমি ভাবছি হয়ত লালচে স্রাব বন্ধ হয়ে গেছে আমি নতুন করে ফরজ গোসল ছারাই প্রতি ওয়াক্তে ওযু করে নামাজ কন্টিনিও করেছি,এরপর ২০ আগস্ট আবার হালকা লালচে স্রাব দেখতে পাই, টিস্যু দিয়ে চেক করা ছারাই আমি লালচে স্রাব দেখি। তখন আমি এটিকে হায়েজ মনে করে নামাজ পড়া আপাতত বন্ধ করে দিয়েছি।

এখন আমার প্রশ্ন হলো:

১. ৫ জুলাই নেফাস শেষ হওয়ার পর যে হালকা লালচে স্রাব ৪০ দিনের পরও দেখা গিয়েছিল, সেগুলোর হুকুম কী ছিল—নেফাস, হায়েজ নাকি ইস্তেহাজা?
২. ইস্তেহাজা থেকে পবিত্র হওয়ার পর ফরজ গোসল করা কি আবশ্যক?? ফরজ গোসল ছাড়া প্রতি ওয়াক্ত অজু করে নামাজ পড়লে কি ওই নামাজগুলো কাজা করা লাগবে??
২. ২০ আগস্ট যে হালকা লালচে স্রাব দেখা দিয়েছে, সেটি কি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে, নাকি ইস্তেহাজা?

৩. ২০ আগস্ট থেকে নামাজ বন্ধ করা আমার জন্য সঠিক হয়েছে কি না? যদি এটি ইস্তেহাজা হয়ে থাকে, তাহলে যে নামাজগুলো আমি ছেড়ে দিয়েছি সেগুলোর কাজা করতে হবে কি না?

৪. নেফাস শেষ হওয়ার পর ২০ আগস্ট পর্যন্ত আমার যে সময় অতিবাহিত হয়েছে, সেটির হিসাব কীভাবে করা হবে?

দয়া করে আমার দেওয়া তারিখগুলো বিবেচনা করে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী বিস্তারিতভাবে জানাবেন—কোন সময় নেফাস, কোন সময় ইস্তেহাজা এবং ২০ আগস্টের স্রাবের শরয়ি হুকুম কী।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

নেফাসের পর পুনরায় লালচে স্রাব দেখা দিলে নামাজের হুকুম

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত। নিচে হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:


১. ৫ জুলাই নেফাস শেষ হওয়ার পর ৪০ দিনের মধ্যে যে লালচে স্রাব দেখা গিয়েছিল, তার হুকুম

উত্তর:
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, নেফাসের সর্বোচ্চ সময়কাল ৪০ দিন। যদি ৪০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে নেফাস শেষ বলে গণ্য হবে। তবে ৪০ দিনের মধ্যে আবার রক্ত বা স্রাব দেখা দিলে সেটি নেফাসের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যদি তা একটানা বা মাঝে মাঝে হলেও ৪০ দিনের মধ্যে হয়।

আপনার ক্ষেত্রে:

  • ২৬ জুন নেফাস শুরু হয়।
  • ৫ জুলাই রক্ত বন্ধ হয়ে যায় (৯ দিন)।
  • এরপর ৪০ দিনের মধ্যে (অর্থাৎ ৫ আগস্টের মধ্যে) আবার হালকা লালচে স্রাব দেখা যায়।

হুকুম:
যেহেতু ৪০ দিনের মধ্যে স্রাব দেখা গিয়েছিল, তাই এটি নেফাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ, ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত যে স্রাব দেখা গেছে, তা নেফাস হিসেবে গণ্য হবে। তবে ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর (৫ আগস্টের পর) যদি স্রাব দেখা যায়, তবে সেটি ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

সারসংক্ষেপ:

  • ২৬ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত (৪০ দিন) যে স্রাব দেখা গেছে, তা নেফাস
  • ৫ আগস্টের পর (৪০ দিনের বেশি) যে স্রাব দেখা গেছে, তা ইস্তেহাজা

২. ইস্তেহাজা থেকে পবিত্র হওয়ার পর ফরজ গোসল করা কি আবশ্যক?

উত্তর:
ইস্তেহাজা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য ফরজ গোসল আবশ্যক নয়। ইস্তেহাজা এমন একটি অবস্থা যা নারীদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এটি নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদতের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে না। ইস্তেহাজার সময় শুধু অজু করতে হয়, গোসল নয়।

তবে, যদি নেফাস বা হায়েজ শেষ হওয়ার পর গোসল করা হয়, তাহলে সেটি ফরজ। কিন্তু ইস্তেহাজার কারণে গোসল ফরজ হয় না।

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

  • ইস্তেহাজা থেকে পবিত্র হওয়ার পর ফরজ গোসল করা আবশ্যক নয়
  • ফরজ গোসল ছাড়া প্রতি ওয়াক্তে অজু করে নামাজ পড়লে নামাজ সহীহ হবে এবং কাজা করতে হবে না

৩. ২০ আগস্ট যে হালকা লালচে স্রাব দেখা দিয়েছে, সেটি কি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে?

উত্তর:
২০ আগস্টের স্রাবটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না, বরং এটি ইস্তেহাজা। কারণ:

  • নেফাসের ৪০ দিন (৫ আগস্ট) পূর্ণ হওয়ার পর যে স্রাব দেখা যায়, তা হায়েজ বা নেফাস নয়, বরং ইস্তেহাজা
  • হায়েজ হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) রক্ত বা স্রাব একটানা থাকা শর্ত। আপনার ক্ষেত্রে ২০ আগস্টের স্রাবটি হালকা এবং অল্প সময়ের জন্য ছিল, তাই এটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না।

সারসংক্ষেপ:
২০ আগস্টের স্রাব ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে, হায়েজ নয়।


৪. ২০ আগস্ট থেকে নামাজ বন্ধ করা কি সঠিক হয়েছে?

উত্তর:
যেহেতু ২০ আগস্টের স্রাবটি ইস্তেহাজা ছিল, তাই নামাজ বন্ধ করা সঠিক হয়নি। ইস্তেহাজার সময় নামাজ পড়া জরুরি। আপনি যদি নামাজ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে সেই নামাজগুলো কাজা করতে হবে

কাজা করার নিয়ম:

  • ২০ আগস্ট থেকে যত দিন নামাজ বন্ধ ছিল, সেই দিনগুলোর ফরজ নামাজগুলো কাজা করতে হবে।
  • কাজা করার সময় নিয়মিত নামাজের মতোই পড়তে হবে, তবে জামাতের প্রয়োজন নেই।

৫. নেফাস শেষ হওয়ার পর ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের হিসাব

উত্তর:

  • ২৬ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত (৪০ দিন) নেফাস হিসেবে গণ্য হবে।
  • ৫ আগস্টের পর থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত যে স্রাব দেখা গেছে, তা ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।
  • ২০ আগস্টের পর থেকে যে স্রাব দেখা গেছে, তাও ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

আপনার করণীয়:

  • ২০ আগস্ট থেকে যে নামাজগুলো বন্ধ ছিল, সেগুলোর কাজা করুন।
  • ইস্তেহাজার সময় প্রতি ওয়াক্তে অজু করে নামাজ পড়ুন।
  • নেফাস বা হায়েজ শেষ হওয়ার পর গোসল করা আবশ্যক, তবে ইস্তেহাজার জন্য গোসল প্রয়োজন নেই।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

| সময়কাল | হুকুম | |---------|-------| | ২৬ জুন - ৫ আগস্ট (৪০ দিন) | নেফাস | | ৫ আগস্ট - ২০ আগস্ট | ইস্তেহাজা | | ২০ আগস্টের পর | ইস্তেহাজা |

নামাজের হুকুম:

  • নেফাসের সময় নামাজ বন্ধ থাকবে।
  • ইস্তেহাজার সময় নামাজ পড়তে হবে এবং প্রতি ওয়াক্তে অজু করতে হবে।
  • ২০ আগস্ট থেকে যে নামাজ বন্ধ ছিল, সেগুলোর কাজা করতে হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.