ফেসবুক অনলাইন কোম্পানির পণ্য ক্রয়ের সাথে বিনামূল্যে কুপন ও লটারির পুরস্কার গ্রহণের ইসলামী বিধান কী?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4263
Questioner: Hossain Al Zakaria
Question Asked: 21 Aug 2026, 04:39 PM
Reviewed & Published: 21 Aug 2026, 05:43 PM
Views: 13
Tokens: 4,292
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। বর্তমানে নেচার বাজার নামে একটি ফেসবুক পেজের কোম্পানি যারা তিনটে আচার ইলিশ মাছের আচার ২০০ গ্রাম,গরুর মাংসেরআচার ২০০ গ্রাম,চ্যাপা শুটকির আচার ২০০ গ্রাম এই তিনটি একত্রে 1490 টাকা রাখতেছে।এবং তারা বলতেছে এই আচার তিনটে একসাথে কিনলে তারা কুপন দিবে। পরবর্তীতে এই কুপনের মাধ্যমে তারা লটারি করে বিভিন্ন রকম পুরস্কার দেবে। এবং তারা এটাও বলতেছে যে, এই তিনটে আচারের দাম পূর্বে আরও বেশি ছিল বিশেষ অফারের দাম কমিয়ে রাখতেছে, কুপনের জন্য আলাদা কোন টাকা দিতে হচ্ছে না। এখন কথা হচ্ছে এই গোপনের মাধ্যমে প্রাপ্ত পুরস্কার নেয়া কি জায়েজ হবে?

Answer

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো: একটি কোম্পানি তিনটি আচার একত্রে ১৪৯০ টাকায় বিক্রি করছে, যা পূর্বের দামের তুলনায় কম (বিশেষ অফার)। সাথে তারা একটি কুপন দিচ্ছে, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে লটারি করে বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হবে। কুপনের জন্য আলাদা কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। এখন এই লটারির মাধ্যমে প্রাপ্ত পুরস্কার গ্রহণ করা জায়েজ হবে কি না?

উত্তর: প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে পুরস্কার গ্রহণ করা জায়েজ হবে, ইনশাআল্লাহ। তবে এর জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক।

দলিল ও যুক্তি:

১. ইসলামী ফিকহের নীতিমালা অনুযায়ী, ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা (যেমন: কুপন, উপহার, বোনাস) দেওয়া জায়েজ, যদি তা ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তির অংশ না হয় বরং বিক্রেতার পক্ষ থেকে খাঁটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এটি "হিবা" (উপহার) বা "জায়েযাহ" (অনুমোদিত) এর অন্তর্ভুক্ত।

২. লটারির বিধান: ইসলামে সাধারণত জুয়া (মাইসির) হারাম। কিন্তু লটারি তখনই জায়েজ হয় যখন:

  • অংশগ্রহণের জন্য আলাদা কোনো টাকা বা শর্ত না থাকে।
  • এটি কোনো পণ্য ক্রয়ের সাথে বোনাস হিসেবে দেওয়া হয়, যেখানে ক্রেতা মূল পণ্যের মূল্য পরিশোধ করে এবং কুপনটি বিনামূল্যে প্রাপ্ত হয়।
  • এটি একটি খাঁটি উপহার বা ইনসেনটিভ, যা বিক্রেতা তার গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য দেয়।

৩. হানাফি ফিকহের আলোকে: ফাতাওয়া উসমানি এবং ইমদাদুল ফাতাওয়ায় উল্লেখ আছে যে, কোনো পণ্য ক্রয়ের সাথে বিনামূল্যে কুপন বা লটারির সুযোগ দেওয়া জায়েজ, যদি তা জুয়ার শর্ত পূরণ না করে। অর্থাৎ, অংশগ্রহণকারীকে আলাদা কোনো অর্থ দিতে না হয় এবং এটি মূল ক্রয়ের সাথে সংযুক্ত থাকে।

৪. আধুনিক ফিকহী নীতিমালা: ইসলামিক ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, "কমার্শিয়াল লটারি" বা "প্রমোশনাল লটারি" যা পণ্য ক্রয়ের সাথে বিনামূল্যে দেওয়া হয়, তা জায়েজ, যদি:

  • কুপন বা লটারির জন্য আলাদা কোনো ফি না থাকে।
  • এটি মূল পণ্যের দামের সাথে যুক্ত না হয় (অর্থাৎ, পণ্যের দাম বাজারের স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি না হয়)।
  • এটি একটি খাঁটি উপহার হিসেবে গণ্য হয়।

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ:

  • কোম্পানিটি বলছে, তিনটি আচারের দাম পূর্বে আরও বেশি ছিল, বিশেষ অফারে কমিয়ে ১৪৯০ টাকা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কুপনের জন্য আলাদা কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না, বরং এটি একটি প্রমোশনাল অফার।
  • কুপনটি ক্রয়ের সাথে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, যা একটি উপহার হিসেবে গণ্য হবে।
  • যেহেতু কুপনের জন্য আলাদা কোনো অর্থ দিতে হচ্ছে না, তাই এটি জুয়ার শর্ত পূরণ করে না। এটি একটি বৈধ প্রমোশনাল কার্যক্রম।

শর্তসমূহ (যা নিশ্চিত হওয়া জরুরি):

১. পণ্যের দাম (১৪৯০ টাকা) বাজারের স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি না হওয়া। যদি দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কুপনটি সেই বাড়তি দামের বিনিময়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা জায়েজ হবে না। তবে যেহেতু তারা বলছে এটি বিশেষ অফার এবং পূর্বের দাম আরও বেশি ছিল, তাই ধরে নেওয়া যায় যে, দামটি ন্যায্য।

২. লটারির মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়া হবে, কিন্তু এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, লটারিতে অংশগ্রহণ শুধুমাত্র কুপনধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এটি কোনো জুয়ার মতো না হয়।

৩. কোম্পানির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বৈধ এবং পণ্যগুলো (ইলিশ মাছের আচার, গরুর মাংসের আচার, চ্যাপা শুটকির আচার) হালাল হওয়া আবশ্যক। যেহেতু এগুলো মাছ ও গরুর মাংসের তৈরি, তাই এটি হালাল বলে ধরে নেওয়া যায়, তবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো হারাম উপাদান (যেমন: হারাম প্রিজারভেটিভ বা অ্যালকোহল) ব্যবহার করা হয়নি।

সতর্কতা:

যদি কোম্পানিটি কুপনের জন্য আলাদা কোনো টাকা নেয়, অথবা পণ্যের দাম বাজারের স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি রাখে, তাহলে তা জুয়া (মাইসির) হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই পুরস্কার গ্রহণ করা হারাম হবে। তাই কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, এটি একটি খাঁটি প্রমোশনাল অফার।

সিদ্ধান্ত:

যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখিত শর্তানুযায়ী কুপনের জন্য আলাদা কোনো টাকা দেওয়া হচ্ছে না এবং এটি একটি প্রমোশনাল অফার, তাই এই লটারির মাধ্যমে প্রাপ্ত পুরস্কার গ্রহণ করা জায়েজ হবে। তবে উপরোক্ত শর্তগুলো নিশ্চিত করা জরুরি।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.