মোবাইলে কুরআনের আয়াত বা হাদীস থাকা অবস্থায় টয়লেটে নেওয়ার বিধান কী?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4242
Questioner: Mnk
Question Asked: 21 Aug 2026, 09:17 AM
Reviewed & Published: 21 Aug 2026, 10:52 AM
Views: 29
Tokens: 3,171
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমার মোবাইলে যদি বিভিন্ন আয়াত থাকে কুরআনের, হাদীস থাকে, অথবা পুরো কুরআন শরীফ থাকে, আর সেই মোবাইল নিয়ে টয়লেটে যাই, অন্যান্য অ্যাপস ব্যবহার করি, কিন্তু উপরোক্ত কোনো কিছু ওপেন না করি, তাহলে কি মোবাইল টয়লেটে ব্যবহার করা যাবে?

আর যদি মোবাইলের স্ক্রিন বন্ধ রাখি (মোবাইল বন্ধ না), সেক্ষেত্রে কি মোবাইল নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করে যাবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি—ইসলামে পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুরআন মাজীদ ও হাদীসের বাণীসমূহের সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।

১. মোবাইলে কুরআনের আয়াত/হাদীস থাকা অবস্থায় টয়লেটে নেওয়ার বিধান:

যদি আপনার মোবাইলে কুরআনের আয়াত, হাদীস বা সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ সংরক্ষিত থাকে এবং আপনি সেই মোবাইলটি নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করেন, তবে তা মাকরূহে তাহরীমী (নিষিদ্ধের কাছাকাছি অপছন্দনীয়) হবে। কারণ, মোবাইলের স্ক্রিনে কুরআনের আয়াত বা হাদীসের লেখা থাকলে তা দেখার সময় সেটি কুরআনের সম্মানিত বাণীর মতোই গণ্য হয়। এমন অবস্থায় টয়লেটের মতো অপবিত্র স্থানে নেওয়া কুরআনের সম্মানহানির কারণ হতে পারে।

তবে যদি আপনি মোবাইলের স্ক্রিন বন্ধ রাখেন এবং নিশ্চিত থাকেন যে, স্ক্রিনে কোনো আয়াত বা হাদীস প্রদর্শিত হচ্ছে না, তাহলে কিছু হানাফি আলেমের মতে তা জায়েয হতে পারে। কিন্তু সতর্কতা ও সম্মান রক্ষার জন্য সর্বোত্তম হলো, টয়লেটে মোবাইল নেওয়া থেকে বিরত থাকা। কারণ, মোবাইলটি যদি ভুলবশত চালু হয়ে যায় বা কোনো অ্যাপ থেকে কুরআনের আয়াত ভেসে ওঠে, তাহলে সম্মানহানি ঘটবে।

২. স্ক্রিন বন্ধ রেখে টয়লেটে প্রবেশ:

যদি মোবাইলের স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে (অর্থাৎ ডিসপ্লেতে কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না) এবং আপনি নিশ্চিত যে, স্ক্রিনে কুরআনের আয়াত বা হাদীস প্রদর্শিত হচ্ছে না, তাহলে হানাফি মাযহাবের বিশিষ্ট আলেমদের মতে, টয়লেটে প্রবেশ করা জায়েয। কারণ, তখন মোবাইলটি একটি সাধারণ বস্তুর মতো গণ্য হয়। তবে এখানেও একটি শর্ত হলো—মোবাইলটি যেন এমন অবস্থায় না থাকে যে, সহজেই স্ক্রিন চালু হয়ে যায় এবং কুরআনের আয়াত দেখা যায়। যদি এমন আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা থেকে বিরত থাকা উচিত।

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহের আলোকে:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) -এ উল্লেখ আছে, কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা কোনো বস্তুকে অপবিত্র স্থানে নেওয়া মাকরূহ। তবে যদি তা আবৃত থাকে বা দেখা না যায়, তাহলে জায়েয হওয়ার অবকাশ রয়েছে।
  • ফাতাওয়া উসমানীইমদাদুল ফাতাওয়া -তেও অনুরূপ নির্দেশনা পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, মোবাইলের স্ক্রিন বন্ধ থাকলে তা সাধারণ বস্তুর মতো, তবে সম্মান রক্ষার্থে টয়লেটে নেওয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
  • বাহিশতী জেওর -এও উল্লেখ আছে, কুরআন বা হাদীসের লেখা এমন স্থানে নেওয়া উচিত নয় যেখানে অপবিত্রতা থাকে।

সারসংক্ষেপ:

১. মোবাইলে কুরআনের আয়াত/হাদীস থাকা অবস্থায় টয়লেটে নেওয়া মাকরূহে তাহরীমী। এমনকি স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও, যদি সহজেই চালু হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলেও তা এড়িয়ে চলা উচিত।

২. স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে এবং চালু হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে জায়েয, তবে সতর্কতা ও সম্মান রক্ষার জন্য টয়লেটে মোবাইল নেওয়া থেকে বিরত থাকাই সর্বোত্তম।

৩. সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো—টয়লেটে যাওয়ার সময় মোবাইলটি বাইরে রেখে যাওয়া। প্রয়োজনে অন্য কোনো সাধারণ ডিভাইস ব্যবহার করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক অনুধাবন ও আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.