ফজরের পর বরকতময় সময় জানতে চাওয়া
Faith and Belief · Hanafi
Question
ফজরের পরের সময় টা বরকতময় থাকে জানি। তাই ঘুমাতে নিষেধ করা হয়।
এক্ষেত্রে যদি ফজরের নামাজের পর ইশরাকের সালাতের ওয়াক্ত পর্যন্ত জিকির আযকার করে ইশরাকের সালাত আদায় করেই ঘুমাই , তাহলেও কি ফজরের পরের বরকত ময় সময় টা নষ্ট হবে?
একেবারেই কি ঘুমানো যাবে না দুপুরের কাইলুল্লাহ পর্যন্ত?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। ফজরের পরের সময়ের বরকত এবং ঘুম সম্পর্কিত বিধান নিয়ে আপনি জানতে চেয়েছেন। নিচে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:
ফজরের পরের সময়ের বরকত ও ঘুম
ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয়ের (ইশরাকের সময়) পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত বরকতময়। এই সময়ে ঘুমানো মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এই সময়ে রিজিক বণ্টন করা হয় এবং ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
হাদিসের দলিল:
১. রিজিক বণ্টনের সময়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে, অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকির করে, তারপর দুই রাকাত (ইশরাকের) নামাজ আদায় করে, সে একটি পূর্ণ হজ ও উমরার সওয়াব পাবে।" (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)
২. বরকতের দোয়া: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের পরের সময়ে তাঁর উম্মতের জন্য বরকতের দোয়া করেছেন:
"হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত দান করুন।" (আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; তিরমিজি, হাদিস: ১২১২)
আপনার প্রশ্নের উত্তর
আপনি যদি ফজরের নামাজের পর ইশরাকের সময় পর্যন্ত জিকির-আযকার করে, ইশরাকের নামাজ আদায় করে তারপর ঘুমান, তাহলে ফজরের পরের বরকতময় সময়টি নষ্ট হবে না। বরং আপনি সেই সময়ের বরকত অর্জন করেছেন। কারণ, নিষেধটি মূলত ফজরের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত ঘুমানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সূর্যোদয়ের পর ইশরাকের নামাজ আদায় করে ঘুমানো মাকরূহ নয়।
হানাফি ফিকহের দলিল:
১. রদ্দুল মুহতার (শামি): ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমানো মাকরূহ। তবে সূর্যোদয়ের পর ঘুমানো মাকরূহ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৮৫)
২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): এতে বলা হয়েছে, "ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমানো মাকরূহ। কারণ, এই সময়ে রিজিক বণ্টন করা হয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৭৬)
দুপুরের কাইলুল্লাহ (কুনুতুল্লাহ) পর্যন্ত ঘুমানো
দুপুরের আগে (যুহরের কিছু আগে) যে ঘুমানো হয় তাকে কাইলুল্লাহ বলা হয়। এটি সুন্নত এবং বরকতময়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা কাইলুল্লাহ করো। কারণ, শয়তান কাইলুল্লাহ করে না।" (তাবরানি, আল-মু'জামুল আওসাত)
তাই, ফজরের পর ইশরাকের নামাজ আদায় করে ঘুমানো জায়েয আছে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আপনি যদি চান, তাহলে দুপুরের কাইলুল্লাহ পর্যন্ত জাগ্রত থেকে কাজ বা ইবাদতে সময় কাটাতে পারেন, এটিও উত্তম। কিন্তু ঘুমানো নিষিদ্ধ নয়।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
- ফজরের পর সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত ঘুমানো মাকরূহ।
- ইশরাকের নামাজ আদায়ের পর ঘুমানো জায়েয এবং বরকত নষ্ট হবে না।
- দুপুরের কাইলুল্লাহ পর্যন্ত ঘুমানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; বরং ইশরাকের পর ঘুমানো জায়েয।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।