তালাকের ওয়াসওয়াসা নিয়ে প্রশ্ন

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4210
Questioner: fhm mistry
Question Asked: 20 Aug 2026, 05:27 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 06:13 PM
Views: 7
Tokens: 22,451
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মুফতি ইমাদুল হক হুজুরকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওবারাকাতুহু

মুফতি ইমাদুল হক হুজুরকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন

প্রশ্ন
হুজুর বিগত দিনে আমি শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছি। কিন্তু এখন নিশ্চিত নয় যে আমি মুখে উচ্চারণ করে সত্যযুক্ত তালাক বলেছি বা দিয়েছি। এবং তখন নিশ্চিত ছিলাম কি সেটাও এখন নিশ্চিত হতে পারছি না যে তখন আমি মুখে উচ্চারণ করে শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছি। মানে সন্দেহ পরিণত হয়েছে নিশ্চিত হতে পারছি না। কিন্তু শতগুলো এতদিন পূরণ করে এসেছি আবার এই পূরণ করে এসেছি এটার অনেক কারণ হতে পারে যে সত্যিই আমি তখন মুখে উচ্চারণ করে রেখেছি বলেই পূরণ করে এসেছি এমনটা নয় আমি তো সন্দেহ ভাজন ব্যক্তি। অনেক কারণ হতে পারে এর কারণগুলো আমি নিজে বললাম

কারণ এক
আমি ছোট থেকে সচিবায় রোগে আক্রান্ত মানে সন্দেহ আমার শরীরে একটা পোকা যদি উড়ে বসে আমি সেই স্থানটা যতক্ষন ধুয়ে না দি আমি নিজের অন্তরে শান্তি পাই না তো সেই কারণবশত হতে পারে যে সন্দেহ দূর করবার জন্য কতগুলো পূরণ করে আসবার চেষ্টা করেছি

কারণ দুই
এটাও কারণ হতে পারে যে আমি যেগুলো শর্ত যুক্ত তালাক রেখেছিলাম আমি জানি সেগুলো ইচ্ছা করে ভঙ্গ করলে তবে তালাক হবে কষ্ট হলেও হয়তো সেগুলো করে দিতাম এটাও কারণ হতে পারে কিন্তু যখন এগুলো রেখেছিলাম বা ভেবেছিলাম এরা তো নিশ্চিত নয় তখন এমন করে বলেছিলাম কি হয়েছিল জানিনা যে ইচ্ছা করে ভঙ্গ করলে শর্ত তবে তালাক হবে এটা তো আমি নিশ্চিত হতে পারব না এটাও কারণ হতে পারে।

কারণ তিন
ভয় সন্দেহ কাটাবার ভয়ে শতগুলো কঠিন না মনে করে পূরণ করে এসেছি হয়তো এটার কারণ হতে পারে কারণ যেহেতু আমি বললাম সন্দেহ রোগে আক্রান্ত ছোট থেকে।

কারণ চার
প্রশ্ন এমন হতে পারে যে আপনাদের কাছে তখন কেন ফতোয়া নেইনি এরকম ওস ওসা রিলেটেড হত আপনাদের কাছে নিতে চাইলে আপনারা তখন ওস ওসা আপনাদের ওয়েবসাইটটা করতে বলতেন এটাও কারণ হতে পারে সেই সময় এই ফতোয়াটা নিয়ে নি হয়তো তখন নিশ্চিত ছিলাম যে আমি মুখে উচ্চারণ করে শর্ত রাখেনি সন্দেহ কাটা বার ভয়ে ওগুলো এত দিন করে আসছিলাম সত্যগুলো একটা উদাহরণ দিচ্ছি


উদাহরণ
রাস্তায় চলছি, ঠিক এমন ভাবনা আছে এবং নিশ্চিত হতে পারি না মুখে উচ্চারণ না কি উদিত হয় আপনার সেজে একসঙ্গে তিনটি ইটে জুতো না রাখবে আমার একটি তালা ভাবে এরা ভাবনা আছে। তো এটা এমন কি কষ্টের কাজ আমি জুতোটা রেখে রেখে দিই তিনটি ইটে কষ্টকর নয় তাই হয়তো করে দিক আরো অনেক কারণ আছে হয়তো সে জন্য করে আসতে পারি সত্যগুলো পূরণ কিন্তু করলে কি মিথ্যা সত্যি হয়ে যাবে

তো হুজুর আমি সত্যিই যদি শর্ত তালাক না রেখে থাকি যা আমি এখন নিশ্চিত হতে পারছি এবং এটা ও নিশ্চিত হতে পারছি না যে যখন এগুলো আমার সাথে ঘটেছিল মুখে উচ্চারণ করেছিলাম না মনে মনে এমন উদিত হয়েছিল আমি এটা সত্যি মনে করে চলেছি। সেটা তো এখন আর নিশ্চিত হতে পারব না অনেক চেষ্টা করেছি নিশ্চিত হতে পারছি না তো সন্দেহ পাঠাবার জন্য যদি করে এসে থাকি নিশ্চিত না হয়ে সন্দেহ কাটাবার জন্য যদি ভয়েতে করে এসে থাকি তাহলে মিথ্যা কি সত্য হয়ে যাবে সত্যি হতে এগুলো কি শর্ত তালাক হিসেবে ধরা হবে।

আর হুজুর যদি তখন মুখে উচ্চারণ করে যদি শর্ত রেখে থাকি যা এখন নিশ্চিত হতে পারছি না যদি সত্য মুখে উচ্চারণ করে থাকি এবং এমনটা বলে থাকি ইচ্ছা হোক অনিচ্ছায় হোক যদি শত পূরণ হয় তালাক হবে তাহলে সেই মতো তালাক হতে পারে সেরকম কিছু ঘটেছে। কিন্তু আমি তো নিশ্চিত হতে পারছি না কিছুতে। যে আমি মুখে উচ্চারণ করে দিয়েছি আবার কখনো এমন মনে হচ্ছে যে তালাক হওয়া জায়গায় মৃত্যু বলিনি তো মৃত্যু হবে কারণ তালাক নিয়ে সবসময় জল্পনা-কল্পনা হয় তো ভাবনা এলে আমি তালাক হবে এর জায়গায় আমি বলতাম মৃত্যু হবে, এটাও বলতে পারি এখন এটা আমার চিন্তা আসছে ভাবনা আসছে। যেটাও বলে থাকতে পারি। আবার তালাক হবে ও বলে থাকতে পারি। আবার মুখে উচ্চারণ না করেও মনে মনে ভাবনা এসে এমনটাই হতে পারে। হুজুর এখন আমি কি করবো সব মিলিয়ে এখন আমি নিশ্চিত হতে পারছি না যে তখন আমি মুখে উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছি সেটা নিশ্চিত ছিলাম তখন এখন সেটা নিশ্চিত হতে পারছি না নানা রকম ভাবনা আসছে কখনো মনে হচ্ছে মৃত্যু হবে এমনটা বলে থাকতে পারি। বা মনে মনে ভাবনা এসেছে আমি সত্যি মনে করে সেগুলো করে আসছি হতে পারে আবার কখনো মনে হচ্ছে যে আবার উচ্চারণ করলে করতেও পারি কিন্তু নিশ্চিত হতে পারছি না কারণ আমি তো সন্দেহজন ব্যক্তি আমার সামনে যতক্ষণ না সেগুলো আবার হবে আমি বুঝতে পারবো না আর আমার কাছে কোন স্বাক্ষর প্রমাণ নেই যখন হত তখন আমি একা থাকতাম এতটা মনে আছে কতটা জোরে উচ্চারণ করে বলেছি সেটা মনে করতে পারব না সেটাও মনে নেই তখন নিশ্চিত ছিলাম কি সেটা এখন নিশ্চিত হতে পারছি না আবার মনে হচ্ছে মৃত্যু হবে বলতে পারি তালাকের জায়গায়। আবার বলতে পারি যে সত্যগুলো কি ইচ্ছা করে ভঙ্গ করলে তবে তালাক হবে এমন বলে থাকতে পারি নানান রকম ভাবনা আসছে সব মিলিয়ে এখন যেটা দাঁড়াচ্ছে যখন আমি এগুলো বলেছি তখন নিশ্চিত ছিলাম কি এখন নিশ্চিত হতে পারছিলাম এবং এখন তো নিশ্চিত নয় যে আমি মুখে উচ্চারণ করে দিয়েছি। এছাড়া অন্যান্য ভাবনাগুলো তো রয়েছে যেগুলো আমি বলে দিলাম। তো এখন আমি কি করবো দয়া করে আমাকে বলেন। মনটা কিছুতেই স্থির করাতে পারছি না।

তাহলে হুজুর সব মিলে এখন এটাই দাঁড়াচ্ছে যে তখন আমি মুখে উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছিলাম কি তখন নিশ্চিত ছিলাম কি সেটা এখন নিশ্চয়ই হতে পারছি না এখন তো আমি নিশ্চিত হতে পারছি না আর যদি প্রশ্ন আসে যে এতদিন সত্যগুলো কেন করে এসেছি তার কারণ উপরে আমি বলে দিয়েছি এর বেশি আমি এখন নিশ্চিত হতে পারছি না এখন দয়া করে বলেন আমি কি করবো যত ভাবছি হুজুর তো যেন এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ছি একবার এক চিন্তা আসে আর একবার অন্য চিন্তা আসে কখনো নিশ্চিত হচ্ছি কখনো আবার অন্য চিন্তা আসছে অন্য সন্দেহ হচ্ছে কি করবো



আলাদা প্রশ্ন
যদি তালাক হয় তাহলে আমার স্ত্রী স্বেচ্ছায় অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং স্বেচ্ছায় এক রাত কাটানোর পর সঙ্গে আর সংসার না করে তাহলে কি আমি পুনরায় তাকে বিয়ে করতে পারব সেতো আমাকে ছাড়তে পারবে না আমার স্ত্রী যদি রাজি থাকে সে যদি আমার সঙ্গে সংসার করতে চায় তাহলে আমার ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর মিলন হওয়ার পরে যদি যদি তালাক নাই তাহলে আমার সাথে কি সংসার করতে পারবে আল্লাহতালা বলেছেন সূরা আল বাকারার একটি আয়াতে যদি নারীরা তাদের প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চায় তাহলে তাদেরকে বাধা দিও না আর নম্বর ২৩২ দয়া করে একটু বলেন বিস্তারিত।

Answer

তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নকারী ভাই, আপনার দীর্ঘ প্রশ্নটি আমি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনি তালাক সংক্রান্ত সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসায় (obsessive doubt) ভুগছেন। নিচে কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফি স্কলারদের মত অনুযায়ী বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:


প্রথম অংশ: শর্তযুক্ত তালাক ও সন্দেহের বিধান

১. তালাকের মূলনীতি

তালাক শুধুমাত্র তখনই কার্যকর হয় যখন তা স্পষ্টভাবে মুখে উচ্চারণ করা হয় অথবা লিখিতভাবে বা ইশারায় (যা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়) দেওয়া হয়। মনে মনে চিন্তা করলে বা কল্পনা করলে তালাক হয় না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ" "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনে যে খেয়াল আসে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)

২. সন্দেহের ক্ষেত্রে মূলনীতি

যখন কোনো ব্যক্তি নিশ্চিত নয় যে সে তালাক দিয়েছে কি না, তখন মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকবে। কারণ মূল অবস্থা হলো বিবাহ অব্যাহত থাকা, এবং তালাক প্রমাণিত হওয়া জরুরি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"الْأَصْلُ بَقَاءُ النِّكَاحِ حَتَّى يَثْبُتَ الطَّلَاقُ بِيَقِينٍ" "মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকা, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে তালাক প্রমাণিত হয়।" (মাজমু' আল-ফাতাওয়া, ৩৩/৮৫)

৩. আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ

আপনি বলেছেন:

  • আপনি নিশ্চিত নন যে মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছেন কি না
  • আপনি নিশ্চিত নন যে তখন নিশ্চিত ছিলেন কি না
  • আপনি সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত
  • আপনি শত শত শর্ত পূরণ করেছেন, কিন্তু কারণ জানেন না

এই অবস্থায় বিধান হলো: যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে তালাক উচ্চারণ করেছেন, তাই তালাক কার্যকর হবে না। আপনার বিবাহ বহাল থাকবে।

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"إِذَا شَكَّ هَلْ طَلَّقَ أَمْ لَا؟ فَالْأَصْلُ عَدَمُ الطَّلَاقِ" "যদি কেউ সন্দেহ করে যে সে তালাক দিয়েছে কি না, তাহলে মূলনীতি হলো তালাক হয়নি।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/৮৫)

৪. ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) ও তালাক

আপনি উল্লেখ করেছেন যে আপনি ছোট থেকে সন্দেহপ্রবণতায় (ওয়াসওয়াসায়) ভুগছেন। ইসলামে ওয়াসওয়াসার ক্ষেত্রে বিশেষ সহানুভূতি রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"لَا طَلَاقَ وَلَا عِتَاقَ فِي إِغْلَاقٍ" "বন্ধ অবস্থায় তালাক ও আযাদ করা নেই।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৯৩, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৬)

ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য বিদ্বানগণ বলেন, "إِغْلَاقٍ" অর্থ হলো ক্রোধ, জবরদস্তি, পাগলামি বা মানসিক চাপের কারণে অস্বাভাবিক অবস্থা। ওয়াসওয়াসার রোগীও এর অন্তর্ভুক্ত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"الْمُوَسْوِسُ لَا يَنْفُذُ طَلَاقُهُ إِذَا كَانَ قَدْ بَلَغَ بِهِ الْوَسْوَاسُ حَدًّا يُخْرِجُهُ عَنِ الِاخْتِيَارِ" "ওয়াসওয়াসার রোগীর তালাক কার্যকর হয় না যদি ওয়াসওয়াসা তাকে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দেয় যে সে স্বাভাবিক ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলে।" (মাজমু' আল-ফাতাওয়া, ৩৪/২১৩)

৫. শর্তযুক্ত তালাকের বিধান

শর্তযুক্ত তালাক (যেমন: "যদি আমি অমুক কাজ করি, তাহলে তালাক") সম্পর্কে সালাফি স্কলারদের মত হলো:

  • শর্ত পূরণ হলে তালাক কার্যকর হবে যদি শর্তটি স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়
  • কিন্তু যদি সন্দেহ থাকে যে শর্তটি উচ্চারিত হয়েছিল কি না, তাহলে তালাক কার্যকর হবে না

শাইখ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"الطَّلَاقُ الْمُعَلَّقُ إِذَا حَصَلَ شَرْطُهُ وَقَعَ الطَّلَاقُ عِنْدَ جُمْهُورِ أَهْلِ الْعِلْمِ، لَكِنْ إِذَا شَكَّ هَلْ حَصَلَ الشَّرْطُ أَمْ لَا؟ فَالْأَصْلُ عَدَمُ وُقُوعِ الطَّلَاقِ" "শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ হলে তালাক কার্যকর হয় - এটি জুমহুর আলেমদের মত। কিন্তু যদি সন্দেহ হয় যে শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তাহলে মূলনীতি হলো তালাক কার্যকর হবে না।" (মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বায, ২০/২৫০)

৬. আপনার জন্য নির্দিষ্ট ফতোয়া

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  1. আপনি নিশ্চিত নন যে মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছেন
  2. আপনি নিশ্চিত নন যে তখন নিশ্চিত ছিলেন
  3. আপনি সন্দেহপ্রবণতায় ভুগছেন
  4. আপনি শত শত শর্ত পূরণ করেছেন, কিন্তু কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন

এই অবস্থায় আমাদের সিদ্ধান্ত:

আপনার তালাক কার্যকর হয়নি। আপনার বিবাহ বহাল আছে। কারণ:

  • তালাক প্রমাণের জন্য নিশ্চিততা (ইয়াক্বীন) প্রয়োজন
  • সন্দেহ থাকলে মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকা
  • ওয়াসওয়াসার রোগীর তালাক সন্দেহজনক হলে কার্যকর হয় না

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"مَنْ شَكَّ فِي طَلَاقِهِ فَلَا طَلَاقَ عَلَيْهِ، لِأَنَّ الْأَصْلَ بَقَاءُ النِّكَاحِ حَتَّى يَثْبُتَ الطَّلَاقُ بِيَقِينٍ" "যে ব্যক্তি তার তালাক সম্পর্কে সন্দেহ করে, তার উপর তালাক কার্যকর হবে না। কারণ মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকা, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে তালাক প্রমাণিত হয়।" (আল-মুনতাকা, ৫/৩২৫)

৭. ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায়

আপনি সন্দেহপ্রবণতায় (ওয়াসওয়াসায়) ভুগছেন। এর চিকিৎসা হলো:

১. ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করা - রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"يَذْهَبُ الْوَسْوَاسُ بِالِاسْتِعَاذَةِ وَتَرْكِ الِالْتِفَاتِ إِلَيْهِ" "ওয়াসওয়াসা দূর হয় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার মাধ্যমে এবং সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করার মাধ্যমে।"

২. "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়া

৩. তালাক নিয়ে চিন্তা-ভাবনা বন্ধ করা - যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই এটাকে তালাক হিসেবে গণ্য করবেন না

৪. মানসিক চিকিৎসা নেওয়া - ওয়াসওয়াসা একটি মানসিক রোগ, চিকিৎসা নেওয়া জরুরি


দ্বিতীয় অংশ: স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করলে পুনরায় বিয়ে করার বিধান

১. তিন তালাকের পর পুনরায় বিয়ে

যদি কোনো স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়া হয়, তাহলে সে তার স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং সেই বিয়ে বৈধভাবে সম্পন্ন হয় এবং সহবাস হয়। এরপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মৃত্যুবরণ করে, তাহলে ইদ্দত শেষে সে প্রথম স্বামীকে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۖ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ" "যদি সে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়, তাহলে তার জন্য সে (স্ত্রী) হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিয়ে করে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্য পুনরায় একত্রিত হওয়াতে কোনো গুনাহ নেই, যদি তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৩০)

২. আপনার প্রশ্নের উত্তর

আপনি জিজ্ঞেস করেছেন: যদি আপনার স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং এক রাত কাটানোর পর সংসার না করে, তাহলে আপনি তাকে পুনরায় বিয়ে করতে পারবেন কি?

উত্তর: দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বৈধভাবে বিয়ে সম্পন্ন হলে এবং সহবাস (দৈহিক মিলন) হলে, এরপর দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিলে বা মৃত্যুবরণ করলে, ইদ্দত শেষে আপনি তাকে পুনরায় বিয়ে করতে পারবেন। কিন্তু সহবাস না হলে সে আপনার জন্য হালাল হবে না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"لَا تَحِلُّ لِلْأَوَّلِ حَتَّى تَذُوقَ عُسَيْلَةَ الْآخِرِ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَهَا" "সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে দ্বিতীয় স্বামীর মধু আস্বাদন করে এবং দ্বিতীয় স্বামীও তার মধু আস্বাদন করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬১, সহীহ মুসলিম: ১৪৩৩)

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"لَا بُدَّ مِنَ الْوَطْءِ فِي نِكَاحِ الْمُحَلِّلِ، فَإِنْ لَمْ يَطَأْهَا لَمْ تَحِلَّ لِلْأَوَّلِ" "মুহাল্লিলের (দ্বিতীয় স্বামীর) বিয়েতে সহবস করা আবশ্যক। যদি সে সহবাস না করে, তাহলে সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১২/৩৫০)

৩. সূরা আল-বাকারাহ ২৩২ নম্বর আয়াত

আপনি সূরা আল-বাকারাহর ২৩২ নম্বর আয়াত সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আয়াতটি হলো:

"وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ" "আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তাদেরকে বাধা দিও না যে, তারা তাদের (পূর্ব) স্বামীদের সাথে বিয়ে করবে, যদি তারা নিজেদের মধ্যে ন্যায়সংগতভাবে সম্মত হয়।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৩২)

এই আয়াতটি এক বা দুই তালাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, যদি কোনো স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক দেওয়া হয় এবং ইদ্দত শেষ হয়, তাহলে তারা চাইলে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে - এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু তিন তালাকের ক্ষেত্রে সূরা আল-বাকারাহ ২৩০ নম্বর আয়াত প্রযোজ্য, যেখানে অন্য স্বামী বিয়ে ও সহবাসের শর্ত রয়েছে।


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার জন্য চূড়ান্ত ফতোয়া:

১. আপনার তালাক কার্যকর হয়নি। যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছেন, এবং আপনি সন্দেহপ্রবণতায় ভুগছেন, তাই মূলনীতি অনুযায়ী আপনার বিবাহ বহাল থাকবে।

২. আপনি যে শত শত শর্ত পূরণ করেছেন - এর কারণে তালাক কার্যকর হবে না, কারণ আপনি নিশ্চিত নন যে শর্তগুলো মুখে উচ্চারণ করেছিলেন।

৩. ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত থাকার জন্য:

  • তালাক নিয়ে চিন্তা করা সম্পূর্ণ বন্ধ করুন
  • "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন
  • মানসিক চিকিৎসা নিন
  • এই বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন করবেন না

৪. আপনার স্ত্রী আপনার জন্য হালাল। আপনি তার সাথে স্বাভাবিকভাবে সংসার করতে পারবেন।

৫. তিন তালাকের পর পুনরায় বিয়ে করার শর্ত হলো দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বৈধ বিয়ে ও সহবাস। এক রাত কাটানো যথেষ্ট নয়, সহবাস আবশ্যক।


দোয়া

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি দিন এবং আপনার সংসারে বরকত দান করুন। আমিন।

"رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا" **"হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রীদের


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.