ছেলে বিদেশে অবস্থান করছে এবং চাপের মুখে মেসেজের মাধ্যমে ৩ বার "তালাক" বলেছে,এক্ষেত্রে কয় তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4206
Questioner: Inaya Tasad
Question Asked: 20 Aug 2026, 04:10 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 05:36 PM
Views: 10
Tokens: 11,908
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। তালাকের ফতোয়া চাচ্ছি। বিয়েটা হানাফি মাজহাব অনুযায়ী দুইজন সাক্ষীর সামনে ইজাব-কবুল ও কাবিনের কাজ সম্পন্ন করেই হয়েছিল।ছেলে মেয়ে পারিবারিকভাবে আত্মীয়,ইসলামে সম্পর্কটিতে কোনো সমস্যা নাই কিন্তু সামাজিকভাবে অনেকের ইগোর ব্যাপার।কারন মেয়েটি সম্পর্কে ছেলেটির চাচার শালিকা।ছেলের পরিবারের বাবা,চাচা এরা কোনোভাবেই এটা মানেনি অনেক চেষ্টা করার পরও।বাবা চাচারা খুবই অন্য টাইপের মানুষ, এদের এক ভাই পলিটিকাল পাওয়ার এও আছে।মেয়ের পরিবারে অনেক হুমকি দিয়ে ছেলেকে ও মেয়েকে বলা হয়েছে ওই মুহুর্তেই উত্তর দিতে নাহলে ছেলের বাবা ছেলের মা কে আর চাচা মেয়ের বোনকে তালাক দিবে। তাদের কথা ভাতিজা যেই পরিবারের জামাই হবে সেখানে চাচা থাকবে না।ছেলের বাবা নিজের ছেলের সাথে রাজনীতি করছে আশ্বাস দিছে সে দেখতেছে হ্যান্ডেল করবে।কিন্তু ভাইদের সাথে মিলে পরে মেয়ের পরিবারকে প্রেসার দিছে।ছেলে কোনোদিন ও এটা চায়নি,মেয়েটিও না। ছেলে দেশের বাহিরে থাকে।এই অবস্থায় ওখানে বসে মাকে তালাক দিবে, মারতেছে শুনে আরও অনেক হুমকিতে এত প্রেসার দেয়া হইছে যে ঐ মুহুর্তে ছেলে বাধ্য হয়ে মেসেজ দিছে ৩ বার শুধু তালাক বলে।আর পরিবারকে বাচাইতে বলছে কোনো সম্পর্ক নাই।কিন্তু ছেলে এটা চায় না সে এই অপশন ও দিছে সে তার স্ত্রী কে বাহিরে নিয়ে যাবে কোনো সমস্যাই হবে না।কিন্তু ছেলের পরিবার মানবেই না আর মেয়ের পরিবার সহজ সরল ও অন্য মেয়ের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতেও পারার অবস্থা নেই।এই পরিস্থিতিতে ছেলে বাধ্য হয়ে বলার পর ও কি ৩ তালাক গননা হবে?যেই যেই দেশে থাকে ওখানে বলা হইছে একই বৈঠকে এভাবে হুমকির মুখে বাধ্য করলে ৩ টা গননা হবে না কিন্তু একটা হবে। যদি এভাবে বাধ্য করার পরও হানাফি মাজহাব অনুযায়ী হয়ে যায় তাহলে কি কোনোভাবেই আর কোনো উপায় নেই??বা যেহেতু ম্যাক্সিমাম বিষয়ে হানাফি মাজহাব ফলো করা হয়,এক্ষেত্রে যদি হয়ে থাকে একই বৈঠকে এক তালাক এটা কি মানার উপায় নাই? ফিকহি মাসায়ালার জন্য কি বিষয়টা সম্পূর্ন হারাম হবে? মেয়ে কেউ চায়না তালাক হোক।ছেলে তার স্ত্রী নিয়ে অনেক সেনসিটিভ,দুজনেই মানতে না পারার কারনে দুজনের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।মেয়েটি মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ।স্বামী কে ছাড়তে বা অন্য কাউকে বিয়ে করতে হবে এটা মানতে পারে না। আরও একটা বিষয় মেয়ের বাবা বিয়েতে না থাকলেও এই সমস্যা না থাকলে মেয়ের বাবার মত থাকতো সে চেষ্টাও করছে বুঝাতে কিন্তু অহংকারে তারা রাজি হয়নি। ছেলে এখনও বাহিরে তাড়াতাড়ি উত্তরের আশা করছি আর চাচ্ছি পোস্ট প্রাইভেট থাকুক।

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে আমরা পরিস্থিতিটি বিশ্লেষণ করছি:

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

  • ছেলে ও মেয়ে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বৈধভাবে বিবাহ করেছে
  • ছেলের পরিবারের বাবা-চাচারা এই বিয়ে মেনে নিচ্ছে না
  • ছেলেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, সে তালাক না দিলে তার মা এবং মেয়ের বোনকে তালাক দেওয়া হবে
  • ছেলে বিদেশে অবস্থান করছে এবং চাপের মুখে মেসেজের মাধ্যমে ৩ বার "তালাক" বলেছে
  • ছেলে ও মেয়ে কেউই তালাক চায় না
  • প্রশ্ন: এই অবস্থায় কি ৩ তালাক পতিত হবে? নাকি ১ তালাক হবে? এবং কোনো উপায় আছে কি?

ফিকহী নীতি ও মাসআলা

১. জবরদস্তি (ইকরাহ) এর শর্তাবলী

ইসলামী ফিকহে জবরদস্তির মাধ্যমে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা রয়েছে। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী:

জবরদস্তির সংজ্ঞা: এমন হুমকি বা চাপ যা দেওয়ার ফলে ব্যক্তি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য হয়। তবে জবরদস্তি শুধুমাত্র তখনই বিবেচিত হবে যখন:

১. হুমকিটি প্রাণনাশের বা অঙ্গহানির বা মারাত্মক ক্ষতির ভয় দেখিয়ে দেওয়া হয় ২. হুমকিটি তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে ৩. হুমকি দেওয়া ব্যক্তির ক্ষমতা থাকে তা কার্যকর করার

রদ্দুল মুহতার (৫/৭৮) -এ উল্লেখ আছে:

"وَإِنَّمَا يُعْتَبَرُ الْإِكْرَاهُ إذَا كَانَ بِسُلْطَانٍ يَقْدِرُ عَلَى إيصَالِ الضَّرَرِ إلَيْهِ"

"জবরদস্তি তখনই গণ্য হবে যখন তা এমন ক্ষমতাবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয় যে ক্ষতি পৌঁছাতে সক্ষম।"

২. হানাফি মাজহাবে জবরদস্তিমূলক তালাকের বিধান

হানাফি মাজহাবের মূলনীতি অনুযায়ী:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ) -এর মতে: জবরদস্তিমূলক তালাক পতিত হয় না (لا يقع)
  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ) -এর মতে: জবরদস্তিমূলক তালাক পতিত হয় (يقع)

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইমাম আবু হানিফা (রহ) -এর মতে জবরদস্তি প্রমাণিত হলে তালাক পতিত হয় না। কিন্তু ফতোয়া সাধারণত ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ) -এর মতের উপর দেওয়া হয়।

আল-হিদায়াহ (২/৮০) -এ উল্লেখ আছে:

"وَالْمُكْرَهُ عَلَى الطَّلَاقِ لَا يَقَعُ طَلَاقُهُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ"

"যে ব্যক্তি তালাক দিতে বাধ্য হয়, তার তালাক ইমাম আবু হানিফা (রহ) -এর মতে পতিত হয় না।"

৩. একই বৈঠকে ৩ তালাকের বিধান

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী একই বৈঠকে বা একই সাথে ৩ তালাক দেওয়া হলে:

  • ৩ তালাকই পতিত হয় এবং তা তিন তালাকে মুগাল্লাযা (অপূরণীয় তালাক) হিসেবে গণ্য হয়
  • এরপর স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হয় এবং পুনরায় বিবাহ করা যায় না যতক্ষণ না স্ত্রী অন্য কাউকে বিবাহ করে সেই বিবাহে সহবাসের পর তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে ইদ্দত পূর্ণ করে

ফতোয়া আলমগীরী (১/৩৭৩) -এ উল্লেখ আছে:

"وَلَوْ قَالَ لَهَا أَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا أَوْ قَالَ أَنْتِ طَالِقٌ فِي ثَلَاثِ مَرَّاتٍ فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ وَقَعَ الثَّلَاثُ"

"যদি কেউ স্ত্রীকে বলে 'তুমি ৩ তালাক' অথবা একই বৈঠকে ৩ বার বলে 'তুমি তালাক' তাহলে ৩ তালাকই পতিত হবে।"

৪. মেসেজের মাধ্যমে তালাকের বিধান

আধুনিক যুগে মেসেজ, ইমেইল বা ডিজিটাল মাধ্যমে তালাক দেওয়ার বিধান:

  • হানাফি মাজহাব অনুযায়ী লিখিতভাবে তালাক দেওয়া বৈধ এবং তা পতিত হয়
  • মেসেজের মাধ্যমে তালাক দেওয়াও লিখিত তালাকের মতোই গণ্য হবে
  • তবে শর্ত হলো, লেখক বা প্রেরকের ইচ্ছা থাকতে হবে

ফতোয়া উসমানী (২/৩৫০) -এ উল্লেখ আছে:

"اگر کوئی شخص اپنی بیوی کو تحریری طور پر طلاق دے دے تو طلاق واقع ہو جاتی ہے، چاہے وہ خط کے ذریعے ہو یا ایس ایم ایس کے ذریعے"

"যদি কেউ তার স্ত্রীকে লিখিতভাবে তালাক দেয়, তাহলে তালাক পতিত হবে, তা চিঠির মাধ্যমে হোক বা এসএমএসের মাধ্যমে।"


আপনার প্রশ্নের জবাবঃ-

প্রশ্নের বিবরন মতে তাদের বিবাহ শুদ্ধ হয়েছিলো,এবং উক্ত স্ত্রীর উপর ৩ তালাক পতিত হয়েছে।

শরয়ী হালালাহ ব্যাতিত তারা আর কোনোভাবেই বিবাহ করতে পারবেনা।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.