ছেলে বিদেশে অবস্থান করছে এবং চাপের মুখে মেসেজের মাধ্যমে ৩ বার "তালাক" বলেছে,এক্ষেত্রে কয় তালাক হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে আমরা পরিস্থিতিটি বিশ্লেষণ করছি:
প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- ছেলে ও মেয়ে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বৈধভাবে বিবাহ করেছে
- ছেলের পরিবারের বাবা-চাচারা এই বিয়ে মেনে নিচ্ছে না
- ছেলেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, সে তালাক না দিলে তার মা এবং মেয়ের বোনকে তালাক দেওয়া হবে
- ছেলে বিদেশে অবস্থান করছে এবং চাপের মুখে মেসেজের মাধ্যমে ৩ বার "তালাক" বলেছে
- ছেলে ও মেয়ে কেউই তালাক চায় না
- প্রশ্ন: এই অবস্থায় কি ৩ তালাক পতিত হবে? নাকি ১ তালাক হবে? এবং কোনো উপায় আছে কি?
ফিকহী নীতি ও মাসআলা
১. জবরদস্তি (ইকরাহ) এর শর্তাবলী
ইসলামী ফিকহে জবরদস্তির মাধ্যমে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা রয়েছে। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী:
জবরদস্তির সংজ্ঞা: এমন হুমকি বা চাপ যা দেওয়ার ফলে ব্যক্তি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য হয়। তবে জবরদস্তি শুধুমাত্র তখনই বিবেচিত হবে যখন:
১. হুমকিটি প্রাণনাশের বা অঙ্গহানির বা মারাত্মক ক্ষতির ভয় দেখিয়ে দেওয়া হয় ২. হুমকিটি তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে ৩. হুমকি দেওয়া ব্যক্তির ক্ষমতা থাকে তা কার্যকর করার
রদ্দুল মুহতার (৫/৭৮) -এ উল্লেখ আছে:
"وَإِنَّمَا يُعْتَبَرُ الْإِكْرَاهُ إذَا كَانَ بِسُلْطَانٍ يَقْدِرُ عَلَى إيصَالِ الضَّرَرِ إلَيْهِ"
"জবরদস্তি তখনই গণ্য হবে যখন তা এমন ক্ষমতাবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয় যে ক্ষতি পৌঁছাতে সক্ষম।"
২. হানাফি মাজহাবে জবরদস্তিমূলক তালাকের বিধান
হানাফি মাজহাবের মূলনীতি অনুযায়ী:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ) -এর মতে: জবরদস্তিমূলক তালাক পতিত হয় না (لا يقع)
- ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ) -এর মতে: জবরদস্তিমূলক তালাক পতিত হয় (يقع)
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইমাম আবু হানিফা (রহ) -এর মতে জবরদস্তি প্রমাণিত হলে তালাক পতিত হয় না। কিন্তু ফতোয়া সাধারণত ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ) -এর মতের উপর দেওয়া হয়।
আল-হিদায়াহ (২/৮০) -এ উল্লেখ আছে:
"وَالْمُكْرَهُ عَلَى الطَّلَاقِ لَا يَقَعُ طَلَاقُهُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ"
"যে ব্যক্তি তালাক দিতে বাধ্য হয়, তার তালাক ইমাম আবু হানিফা (রহ) -এর মতে পতিত হয় না।"
৩. একই বৈঠকে ৩ তালাকের বিধান
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী একই বৈঠকে বা একই সাথে ৩ তালাক দেওয়া হলে:
- ৩ তালাকই পতিত হয় এবং তা তিন তালাকে মুগাল্লাযা (অপূরণীয় তালাক) হিসেবে গণ্য হয়
- এরপর স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হয় এবং পুনরায় বিবাহ করা যায় না যতক্ষণ না স্ত্রী অন্য কাউকে বিবাহ করে সেই বিবাহে সহবাসের পর তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে ইদ্দত পূর্ণ করে
ফতোয়া আলমগীরী (১/৩৭৩) -এ উল্লেখ আছে:
"وَلَوْ قَالَ لَهَا أَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا أَوْ قَالَ أَنْتِ طَالِقٌ فِي ثَلَاثِ مَرَّاتٍ فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ وَقَعَ الثَّلَاثُ"
"যদি কেউ স্ত্রীকে বলে 'তুমি ৩ তালাক' অথবা একই বৈঠকে ৩ বার বলে 'তুমি তালাক' তাহলে ৩ তালাকই পতিত হবে।"
৪. মেসেজের মাধ্যমে তালাকের বিধান
আধুনিক যুগে মেসেজ, ইমেইল বা ডিজিটাল মাধ্যমে তালাক দেওয়ার বিধান:
- হানাফি মাজহাব অনুযায়ী লিখিতভাবে তালাক দেওয়া বৈধ এবং তা পতিত হয়
- মেসেজের মাধ্যমে তালাক দেওয়াও লিখিত তালাকের মতোই গণ্য হবে
- তবে শর্ত হলো, লেখক বা প্রেরকের ইচ্ছা থাকতে হবে
ফতোয়া উসমানী (২/৩৫০) -এ উল্লেখ আছে:
"اگر کوئی شخص اپنی بیوی کو تحریری طور پر طلاق دے دے تو طلاق واقع ہو جاتی ہے، چاہے وہ خط کے ذریعے ہو یا ایس ایم ایس کے ذریعے"
"যদি কেউ তার স্ত্রীকে লিখিতভাবে তালাক দেয়, তাহলে তালাক পতিত হবে, তা চিঠির মাধ্যমে হোক বা এসএমএসের মাধ্যমে।"
আপনার প্রশ্নের জবাবঃ-
প্রশ্নের বিবরন মতে তাদের বিবাহ শুদ্ধ হয়েছিলো,এবং উক্ত স্ত্রীর উপর ৩ তালাক পতিত হয়েছে।
শরয়ী হালালাহ ব্যাতিত তারা আর কোনোভাবেই বিবাহ করতে পারবেনা।