অনেক জটিল প্রশ্ন দয়া করে সঠিক মাসালা দিয়ে সাহায্য করুন
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমি এখন স্পেনে আছি আমার হাসবেন্ডের সাথে।
এক বছর আগের কথা বলছি একদিন রাতে আমার হাসবেন্ড রাতে ভিডিও কল দিয়েছিলেন আমি আমার রুমে ঘুমাইতেছিলাম রুমে আর কেউ ছিল না আমাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়নি এদিন স্বাভাবিক কথা হইতেছিল কথা বলতে বলতে আমার হাসবেন্ড ফোন রাখার সময় বললেন ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে রুম দেখাও আমি বললাম আপনি কি আমাকে সন্দেহ করছেন উনি বললেন তোমাকে আমি সন্দেহ করি না তোমাকে যদি সন্দেহ করতাম তোমাকে পড়াশুনা করতে দিতাম না গ্রাফিক্স ডিজাইন বা অন্যন্য কোনো কোর্সও করতে দিতাম না।তারপর আমার হাসবেন্ড বললেন বিয়ের দিনও আমি বলেছি আমাকে সন্দেহ করলে আমাদের স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক থাকবে না আমার হাসবেন্ড আর বলেছেন আমি আগেও বলছি কোনো পাপ কাজ করলে খারাপ পথে চললে আমরা স্বামী স্ত্রী নয়।পরে আমি বললাম আপনি কোন ধরনের পাপ কাজের কথা বলছেন পাপ কাজ তো অনেক ধরনের আছে আপনি কি কোন ছেলের সাথে শারিরীক সম্পর্কের কথা বলছেন বা প্রেমের সম্পর্কের কথা বলছেন উনি বললেন যেকোনো ধরনের পাপ কাজ।আমি বললাম ধরেন আমার ভাসুরের সামনে আমার মাথার কাপড় পড়ল এতে তো আমার গুনাহ হবে তাহলে আপনি কোন ধরনের পাপ কাজের কথা বুঝিয়েছেন উনি বললেন এত কিছু কেন জিজ্ঞাসা করতেছো।
বি.দ্র :১। আমার ক্লিয়ার মনে আছে আমার হাসবেন্ড বিয়ের দিন রাতে আমাকে বলছেন কারো কথা শুনে আমাকে সন্দেহ করিও না জামাই বউয়ের মধ্যে সন্দেহ জিনিসটা আসলে ঝগড়া সৃষ্টি হয় শুধু এই টাইপের কথা বলছেন আমাকে কোনো তা*** শর্ত দেন নি।
বি:দ্র:২।বিয়ের মাস কানেক পর আমি আর আমার হাসবেন্ড আমার বাবার বাসা থেকে ২ দিন থেকে আসছি আমার শশুর বাড়িতে শশুর বাড়িতে আসার পর আমাদের শারীরিক সম্পর্ক হয় আমার যৌনাঙ্গ বুঝি উনার কাছে ডিলা লাগছে পরে উনি আমাকে বলেন যদি কারো সাথে মিলামিশা করে আমার সাথে মিলামিশা করবে থাকলে তুমি তা**। আমাকে উনি এই শর্ত দিয়েছেন।তা** সংক্ষেপে লিখেছি বুঝে নিবেন প্লিজ আমার ভয় করে লিখতে।
আমি শুধু আমার হাসবেন্ডকে ভালোবাসি উনার সাথে থেকে আমি মরতে চাই।কোনো ছেলের সাথেও আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল না আর কোনদিন হবেও না ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন ১: হাসবেন্ডকে কোনো মেয়ে নিয়ে সন্দেহজনক কথা না বললে কি তা*** হবে।আর মনে মনে সন্দেহ করলে কি তা** হবে???
প্রশ্ন ২: আমার হাসবেন্ডে বিয়ের দিন বলেন নাই সন্দেহ করলে আমাদের স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক থাকবে না পরে যে একদিন বললেন আমি আগেও বলেছি সন্দেহ করলে আমরা স্বামী স্ত্রী নয় এই কথা বলায় কি তা***কের শর্ত দেওয়া হয়েছে???এখানে আগে বলতে বুঝিয়েছে বি.দ্র (১)এ বর্ণনা দেওয়া আছে দয়া করে পড়ে নিবেন।
প্রশ্ন ৩: আমার হাসবেন্ড আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসেন কেয়ার করেন আলহামদুলিল্লাহ তারপর আমার হাসবেন্ড কে নিয়ে সন্দেহ আসে মনে তবে থাকে আমি কোনো সন্দেহজনক কথা বলি না। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আল্লাহ যদি আমাকে মরন দিতেন তাহলে হয়তো এই সন্দেহ করা থেকে বাচতাম।এই সন্দেহ থেকে বাচার উপায় কি????
প্রশ্ন ৪: গত কালকে আমার হাসবেন্ডের কলিগ উনার দেশ থেকে স্পেনে আসছেন যেহেতু আমাদের বাসা এয়ারপোর্টের পাশে তাই আমার হাসবেন্ডের কলিগ বলছেন উনাকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করতে।আমার হুসবেন্ড কাজ থেকে আসার পর বলছেন উনি আমাকে ফোন দিয়েছেন উনাকে আনার জন্য আমি বললান আওয়াল ভাই কি ফোন দিয়েছিলেন।উনি বললেন "না"।আওয়াল উনার ফ্রেন্ডের নাম।তারপর উনি ফ্রেস হয়ে হয়ে খাওয়া দাওয়া করলেন।পরে বললেন উনি নামচেন ৬.৪৫ মিনিটে আমি বললাম কে আসবে।উনি কিছু বলেন নি পরে বললাম আপনার বস কি আসবেন উনি বললেন না উনার বসও বসের দেশে গিয়েছিলেন( কে আসবে বলার সময় আমার মাথায় মেয়ে নিয়ে সন্দেহ আসে)কে আসবে বলার সময় মেয়ে সন্দেহ আসার কারণে কি তা**** হয়েছে???প্লিজ জানাবেন।
আমি এর আগেও এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছি আপনাদের ওয়ের সাইটে আমার মনে হয়েছে আপনাদের আমার প্রশ্ন বুঝতে অসুবিধা হয়েছে।আমি প্রেগন্যান্ট এইসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে করতে না ঠিক মতো খেতে পারছি না ঘুমাতে পারছি সবসময় চিন্তা মাথায় আসে আমাদের সম্পর্ক হালাল আছে কি না এই নিয়ে।আর আমি এই দেশে নতুন আসছি এই দেশের ভাষা আমি পারি না রাস্তা ঘাট কিছুই চিনি না আর আমাদের আশে পাশে কোনো মুসলিম কমিউনিটি নেই দয়া করে আমাকে আপনারা সাহায্য করেন।
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়েছি এবং বুঝার চেষ্টা করেছি। আপনি গর্ভবতী এবং এই অবস্থায় এত চিন্তা করা আপনার এবং আপনার সন্তানের জন্য একদমই ঠিক নয়। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
প্রশ্ন ১ ও ৪ এর উত্তর: মনে মনে সন্দেহ করলে বা সন্দেহজনক কথা বললে কি তালাক হবে?
না, মনে মনে সন্দেহ করলে বা কাউকে নিয়ে সন্দেহ করে কথা বললে তালাক হবে না। তালাক শুধুমাত্র স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন শব্দে (যেমন: "তালাক দিলাম", "আমি তোমাকে তালাক দিলাম") উচ্চারণ করলে বা লিখে দিলে কার্যকর হয়। শুধু মনে মনে সন্দেহ পোষণ করা বা "কে আসবে" বলার সময় মনে মনে মেয়ে নিয়ে সন্দেহ করা কোনো অবস্থাতেই তালাক নয়। এটি একটি ওয়াসওয়াসা (শয়তানের প্ররোচনা) মাত্র। এই বিষয়ে আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকুন।
প্রশ্ন ২ এর উত্তর: "সন্দেহ করলে আমরা স্বামী-স্ত্রী নই" এই কথা বলায় কি তালাকের শর্ত দেওয়া হয়েছে?
আপনি যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তাতে আপনার স্বামী বিয়ের দিন রাতে শুধু উপদেশ মূলক কথা বলেছেন যে, "কারো কথা শুনে আমাকে সন্দেহ করিও না, জামাই-বউয়ের মধ্যে সন্দেহ ঝগড়া সৃষ্টি করে।" এটি কোনো শর্ত ছিল না।
পরে একদিন তিনি বলেছেন, "আমি আগেও বলেছি, সন্দেহ করলে আমরা স্বামী-স্ত্রী নই।" এই কথাটি দ্বারা তালাক হয় না। কেননা, ইসলামি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, ভবিষ্যতের কোনো কাজের সাথে শর্ত যুক্ত করে তালাক দেওয়া (তালাক-এ-তা'লিকী) তখনই কার্যকর হয়, যখন সেই শর্তটি স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং নিয়ত (ইচ্ছা) সহকারে বলা হয়। এখানে আপনার স্বামীর উদ্দেশ্য ছিল উপদেশ দেওয়া, ভয় দেখানো, অথবা কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজ (যেমন: পরকীয়া বা শারীরিক সম্পর্ক) থেকে বিরত রাখা। এটি তালাকের নিয়তে বলা হয়নি। তাই এটি দ্বারা তালাক কার্যকর হবে না। তবে হ্যাঁ, যদি তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যদি তুমি কারো সাথে মিলামিশা করো, তাহলে তোমাকে তালাক" এবং এরপর আপনি সত্যিই সেই কাজটি করেন, তাহলে সেটি নিয়ে ভিন্ন বিধান হবে। কিন্তু যেহেতু আপনি কোনো অন্যায় কাজ করেননি, তাই আপনার সম্পর্ক সম্পূর্ণ হালাল এবং বৈধ।
প্রশ্ন ৩ এর উত্তর: স্বামীকে নিয়ে সন্দেহ থেকে বাঁচার উপায় কী?
আপনার এই সন্দেহ মূলত শয়তানের প্ররোচনা। শয়তান সবসময় চায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট করতে। এই সন্দেহ থেকে বাঁচার জন্য নিম্নলিখিত কাজগুলো করুন:
১. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন: দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে, আল্লাহ আপনার সম্পর্ককে হিফাজত করবেন। প্রতিদিন নামাজের পর এই দোয়াটি পড়ুন: "ইয়া হাফীযু, ইয়া রাকীবু, ইয়া শাহীদু" (হে সংরক্ষণকারী, হে পর্যবেক্ষণকারী, হে সাক্ষী)। ২. শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া: যখনই মনে সন্দেহ আসবে, তখন "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং "আমি আল্লাহর উপর ভরসা করেছি" বলে মনে মনে বলুন। ৩. স্বামীর সাথে সময় কাটান: যেহেতু আপনি নতুন দেশে এসেছেন এবং ভাষা জানেন না, তাই আপনার স্বামীই আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষ। তার সাথে বেশি করে কথা বলুন, ভালো সময় কাটান। একা একা চিন্তা না করে তাকে আপনার অনুভূতির কথা জানান। ৪. কুরআন তিলাওয়াত করুন: প্রতিদিন কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত করুন, বিশেষ করে সূরা বাকারা। হাদিসে আছে, যে ঘরে সূরা বাকারা পড়া হয়, সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। ৫. অতীতের কথা চিন্তা না করা: আপনার স্বামী অতীতে যা বলেছেন, সেগুলো নিয়ে বারবার চিন্তা না করে বর্তমান নিয়ে ভাবুন। তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং কেয়ার করেন, এটাই মূল বিষয়।
আপনার সম্পর্ক হালাল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা:
আপনি লিখেছেন, "আমাদের সম্পর্ক হালাল আছে কি না এই নিয়ে চিন্তা করি।" আপনার সম্পর্ক সম্পূর্ণ হালাল। কারণ, আপনারা ইসলামি নিয়মে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। আপনার স্বামীর সাথে আপনার শারীরিক সম্পর্ক বৈধ। তিনি যে শর্ত দিয়েছেন, "যদি কারো সাথে মিলামিশা করে আমার সাথে মিলামিশা করবে, থাকলে তুমি তালাক" - এটি একটি শর্তযুক্ত তালাক। কিন্তু আপনি যেহেতু কোনো অন্যায় কাজ করেননি এবং করবেনও না ইনশাআল্লাহ, তাই এই শর্ত কখনোই কার্যকর হবে না। আপনার সম্পর্ক হালাল এবং বৈধ। এ নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না।
সর্বশেষ পরামর্শ:
আপনি গর্ভবতী। এই অবস্থায় মানসিক চাপ আপনার এবং আপনার সন্তানের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দয়া করে এই ওয়াসওয়াসা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। আপনার স্বামী আপনাকে ভালোবাসেন, এটাই যথেষ্ট। অতীতের কথা ভুলে গিয়ে সুন্দরভাবে সংসার করুন। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। প্রয়োজনে আপনার স্বামীকে সবকিছু খুলে বলুন এবং তার সহযোগিতা নিন। আল্লাহ আপনার সম্পর্ককে আরও মজবুত করুন এবং আপনাকে সুস্থ সন্তান দান করুন। আমিন।